বট গাছের ডালে বাদুড় ঝুলছিল। তলায় কাদা হয়েছে বেশ। সারা দিনের পর বৃষ্টিটা ধরেছে, পাশের পুকুর থেকে ব্যাঙের ডাক জলো হাওয়ার সঙ্গে ঘন হয়ে ছিল, এখন স্তব্ধতা। নির্জনতাটা ওত পেতে আছে অন্ধকারের পেটের ভিতর, যেন সময় খুঁজছে । নবীন বেড়িয়েছে পাড়ায়, মাকে খুঁজতে। গাছের তলায় পা টিপে টিপে... কি পড়ল কাঁধের ওপর। পা হড়কে যায়, সামলে নিয়েই কাঁধে হাত, কি পড়েছে দেখতে। তখনই বুঝল মাথাটা নেই।
খোঁজ খোঁজ, সারা রাতের চেষ্টাতেও মাথার হদিশ মিলল না। কি করা যায়, সকাল হতে মনে পড়ল, কুমোর পাড়ায় ঠাকুর তৈরী হচ্ছে। অনেক মাথা তৈরী হয়ে আছে সেখানে। তাড়াতাড়ি ছুট কুমোরপাড়ায়। কিন্তু কি ভিড়, লম্বা লম্বা লাইন পড়েছে। সেও দাঁড়িয়ে পরল সকলের পিছনে। তৈরী মাথা শেষ নিমেষই, তাই ঠেলাঠেলি গণ্ডগোল। খবর আসতে থাকল সব কুমোর পাড়াতেই এমনই লম্বা সারি। শৃঙ্খলা যেতে বসে দেশে।
খবর গেল রাজ সরকারে । সভা বসল , শেষে রাজ-বিজ্ঞপ্তিতে জানান হল, রাজ কারুশালায় তৈরী হবে মাথা। আবেদনকারী প্রত্যেকেরই মিলবে স্বল্প মূল্যে। দুস্থদের অতিরিক্ত সুবিধা হবে উপযুক্ত কাগজের বলে।
যথা সময়ে মাথা হাতে নিয়ে সকলে গেল রাজ আশীর্বাদ নিতে। প্রণাম সমাপনে মুখ তুলে সামনে তাকাতেই সকলে হাঁ, দেখল রাজার মাথা আর হাতের মাথা এক। হৃষ্ট চিত্তে মাথা পরিধান করে ফিরল সবাই।
অসুবিধা কিছুই আর নাই, সামনে পিছে, ডানে বাঁয়ে শোভা বিস্তারিত হয়।
কেবল মা। মা এল সন্তান খুঁজতে, হাতে নিয়ে ছেলের জামা। মুখের পরে মুখ, চিবুক তুলে দেখে। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত, মা না পায় তার প্রাণের ধন। রাতে মশাল জ্বেলে শরীর উল্টে খুঁজে ফেরে চেনা মুখ , জামার মাপ, মেলে না খোঁজ।
রাজ দরবারে আবেদন হয়। মন্ত্রণা কক্ষে আলো জ্বলে, জাগে পাকশালা। রাজ আদেশে তালিকা প্রকাশ হল।
আদেশ গেল, তালিকা মিলায়ে সন্তান খুঁজুক মায়ে।
প্রান্তরে অপেক্ষা করে মা। গাড়ি ভরে ভরে তালিকা নামে। তালিকার কাগজে পর্বত, নিচে চাপা পরে মা। হাজার বছরের মা।