কথার কথা
সম্প্রতি সিনেমা জগতের একজন বিখ্যাত মানুষের আত্মহত্যার ঘটনা নিয়ে কদিন তোলপাড় হলো সোশ্যাল মিডিয়া। প্রচুর মানুষ নিজের মতো করে মতামত দিলেন। কেউ কেউ কলম ধরলেন। যেমন হয় আর কি! এমন নয় উনিই প্রথম আত্মহত্যা করলেন ।একটু চোখ কান খোলা রাখলে আমরা দেখতে পাই সামাজিক নানান রকম চাপ নিতে না পারার জন্য আত্মহত্যা করছেন অনেক মানুষ। অনেকক্ষেত্রেই খোঁজ খবর নিয়ে দেখা গিয়েছে বিষণ্নতায় ভুগছেন অথচ ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় নি। বরঞ্চ নেতিবাচক মন্তব্য করে পরিস্হিতি জটিল করে তুলে ফেলা হয়েছে। ঠিক এখানেই ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা নিয়ে দু চার কথা বলতে চাই। তবে বলে রাখা ভালো আমি এবিষয়ে বিশেষজ্ঞ নই। শুধু কয়েকটি ঘটনার সাথে যুক্ত থাকার দরুন কিছু উপলব্ধি আপনাদের সবার সাথে ভাগ করে নিতে চাই। আলোচনায় যাবার আগে বলে রাখা ভালো বিখ্যাত অভিনেতা আত্মহত্যা করেছেন কিনা সে নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে নাকি জানা গিয়েছিল উনি আত্মহত্যা করেছেন। যাক আলোচনায় আসি।
ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা আসলে একটা সমস্যা বা রোগের নাম। এটা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বুঝে ফেলা যায় ততই রোগীর পক্ষে মঙ্গল। বুঝে ফেলা মাত্রই পরিবারের মানুষজনের যেটা করা উচিৎ সেটা হলো ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া। বেশির ভাগ সময় বিষয়টা মেনে নিতে এতটাই দেরি হয় তখন হাতের বাইরে চলে যায়। আর রোগী ও বিপন্ন হয়ে পড়েন। ডিপ্রেশন বা বিষণ্নতা আসলে আর পাঁচটা অসুখের মতোই। এটা মনের অসুখ। আমাদের প্রকৃত শিক্ষার অভাবে এটা মেনে নিতে দেরি হয়। দীর্ঘ দিন ধরে এই বিষয়ে অল্প সল্প সেমিনার, বই প্রকাশ বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞ মনোবিদ দের কাছ থেকে আলোচনা শুনে আমার একটা ধারণা হয়েছে। ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা সারা পৃথিবীতে বাড়ছে তাই এই সম্পর্কে ধারণা আরো স্পষ্ট করতে আমাদের প্রকাশনা থেকে সম্প্রতি একটি পত্রিকা প্রকাশিত হচ্ছে 'মানুষের মন'। প্রতিদিন ট্রেস বাড়ছে মানুষের। বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়া আশ্চর্য কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু বিষয়টি আলোচনা করতে, বলতে আমাদের অনেকেরই বাধো বাধো লাগে। ফলে আমরা অনেকেই আলপটকা মন্তব্য করে ফেলি। এই মন্তব্য গুলো অধিকাংশ নেতিবাচক। ভালো করে বিষয়টি না জেনে মন্তব্য থেকে বিরত থাকা দরকার। মনে রাখতে হবে এটা কোনো মামুলি অসুখ নয়। যদি কোনো মানুষ কে অন্যরকম লাগছে বা বিষণ্নতা গ্রাস করছে বলে মনে হয় দেরি না করে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া উচিত। অভিজ্ঞতায় দেখেছি সঙ্গ দান করলেই কিন্তু সুস্থ হবে না । চাই চিকিৎসা। মনোরোগ বিশেষজ্ঞ এবং মনোবিদ ও কাউন্সিলর মিলে মানুষটিকে সুস্থ করা যেতে পারে। দু একটি ক্ষেত্র ছাড়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই রোগী সুস্থ হন। আর চাই পরিবারের এবং নিকট বন্ধুর সাহচর্য। কোনো একটি ঘটনা ঘটলেই অনেকেই মতামত দেবার জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন । বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই আলোচনা গুলো নেতিবাচক হয় ফলে ইতিবাচক হওয়ার পরিবর্তে নেতিবাচক ভাবনা ছড়িয়ে যায়। যা কাম্য নয়।
দেখতে দেখতে অষ্টম সংখ্যায় এসে পৌঁছালাম আমরা। এই অষ্টম সংখ্যা থেকে শুরু হলো ধারাবাহিক। এছাড়া মনীন্দ্র গুপ্ত কে নিয়ে একটি নিবন্ধ আর মুক্তগদ্য গল্প কবিতা রইলো।
ভালো থাকুন। আপনি পড়ুন আর অন্যকেও পড়ান।
গৌতম দাশ
সম্পাদক : গৌতম দাশ
সম্পাদনা সহযোগী : মলয় রক্ষিত
উপদেষ্টা মন্ডলী
ডা. গৌতম বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বনাথ লাহা, শর্মিষ্ঠা নাথ, বিজয় দত্ত, ডা. ভাস্কর দাস, সিদ্ধার্থ ভট্টাচার্য, অরণি বসু, সুশীল নাগ, কুণাল চট্টোপাধ্যায়, অমর নাথ, রক্ষিত লিলি হালদার, অঞ্জনা ঘোষ, রামকিশোর ভট্টাচার্য, আশিস সরকার, অপূর্ব কৃষ্ণ দত্ত, বোধিসত্ত্ব বন্দ্যোপাধ্যায়, পল্লব বরন পাল, রবীন বন্দ্যোপাধ্যায়, আনন্দ দাশগুপ্ত, গায়ত্রী রায়, স্বপন বিশ্বাস, সুভাষ ভদ্র, সৌম্যশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়।
বিশেষ সহায়তা
নিরুপম আচার্য, রুদ্র কিংশুক, আইভি চট্টোপাধ্যায়, শ্রেয়া ঘোষ, বিদিশা সরকার, মণিদীপা নন্দী, বিশ্বাস নিবেদিত, আচার্য স্নিগ্ধা চন্দ্র, আলো পাল, গৌতম সাহা, বোধিসত্ত্ব ভট্টাচার্য, পম্পা দেব, অনমিত্র রায়, সৌরভ হাওলাদার, মানস শেঠ, রিমি মুৎসুদ্দি, দেবাশিষ ভট্টাচার্য, অংশুমান ঘোষ, রিপন রায়, তন্ময় মালাকার, দেবাশীষ সরকার।
কলকাতা যোগাযোগ ও লেখা পাঠানোর ঠিকানা
পরম্পরা প্রকাশন