আকাশের নীলে সাতটা ঘুড়ি। ইচ্ছেঘুড়ি। শহরের সাত কোণে সাতবন্ধুর হাতে সাতটি লাটাইএর সুতোয় বাঁধা।
এরা অমল, বিমল, পরিমল...এবং ইন্দ্রজিত। সকলেই ষাটোর্ধ। এরা সকলে একই স্কুলের এক ক্লাসে পড়ত। মনে আছে, হায়ার সেকেন্ডারি পরীক্ষা শেষে এরা বেড়াতে গিয়েছিল পুরুলিয়ার কুইলাপাল।
আবার পঁয়তাল্লিশ বছর পর, এতদিন এখান সেখান ঘুরে ওরা ফিরতে চাইল সেইদিনে। একলা সাতজন। সঙ্গে যাবে জীবনের প্রথম আঠারো বছর।
কে নিয়ে যেতে পারে? কে পারে? কেন, কুইলাপাল !
বুকিং হয়েছে। ডি.এফ.ও-র সঙ্গে কথা, তাও হল। কেয়ারটেকারের রাঁধা ধপধপে সাদা ভাত আর দিশি মুরগির ঝোলের গন্ধ এসে গেছে। রবি ঘোষের স্টাইলে পোড়াবার জন্য খবরের কাগজের তাড়া, তাও তৈরি।
ঘুড়ি উড়ছে। টিভিতে ঘোষণা, জনতা কারফিউ। ডি.এফ.ও-র ফোন - সো সরি। বুকিং ক্যানসেল। পরে কখনো...।
ঘুড়ি কাটা পড়েছে। সাতটা ঘুড়ি নিজের মত উড়ে গেল। কাটা সুতোর আগা ধীরে ধীরে মাটি ছুঁলো। লাটাই ধরা হাতের মালিকদের মুখগুলো অন্ধকার।
সকলে চেয়ে আছে সুতোর দিকে, আর তখনই ঘটনাটা ঘটল। সুতোর খোলা মুখগুলো নড়ে উঠলো। এদিক ওদিক মাথা ঘুরিয়ে একে অপরকে দেখে নিল। তারপর চলতে লাগলো একে অপরের দিকে। একজন আর একজনকে জড়ালো। তারপর দুজন আর দুজনকে। একজনের পায়ের তলা দিয়ে গলে গিয়ে আর একজন তৃতীয় একজনের গলা জড়িয়ে ধরল। যেন জাল তৈরি হচ্ছে। সাতটা বাড়ির এককোনা থেকে আরেক কোনা পর্যন্ত বিস্তৃত এক বিশাল জাল সত্যিই তৈরি হল। তারপর সেটা গুটিয়ে যেন কাদের ধরে ফেলল।
সাতজন বন্ধু দেখল, গুটিয়ে যাওয়া জালের মধ্যে ছটফট করতে করতে মারা যাচ্ছে গোলাকার সবুজ এক প্রাণী। তাদের গা থেকে বেরিয়ে আছে অসংখ্য স্পাইক।
কোটি কোটি মৃতদেহ তারপর জালের রং পাল্টে সবুজ করে ফেলল।
সাত বন্ধু সোল্লাসে চিৎকার করে উঠলো।
তারপর অমল, বিমল, পরিমল... এবং ইন্দ্রজিৎ একসঙ্গে তাদের মোবাইলের বোতাম টিপল... হ্যালো ডি.এফ.ও সাহেব...।