জবানবন্দী

(আজাদ হিন্দ ফৌজের ঊর্ধ্বতন অফিসার শাহনওয়াজ খানের "জবানবন্দী" অনুকল্পে বিরচিত )
যতদূর মনে পড়ে সেদিনটা ছিল
1941- এর 16 ই জানুয়ারী ,
(মধ্যরাত্রি বলে কেউ কেউ 17 ই
জানুয়ারী ও বলেন ),
খানা-খন্দ পেরিয়ে,
আফগানিস্তানের গিরিপথ ধরে
দিয়েছিলে পাড়ি ,
সময়ের হাত ধরে -
তোমার মহানিষ্ক্রমণ .
 দীপ্ত চোখের তারায়
ছড়িয়েছিলো প্রত্যাশা ,
বলদৃপ্ত কণ্ঠ ভেঙেছিল  
সব নীরবতা ;
আত্মত্যাগের ব্রতে
ব্রতী হোক প্রেম - ভালোবাসা -
"তোমরা আমাকে রক্ত দাও ,
তোমাদের দেব স্বাধীনতা ".
 দীর্ঘপথ অতিক্রম করে
অবশেষে জার্মানি তে পদার্পণ ;
সহসা একদিন শোনা যায়
সেই পরিচিত কণ্ঠস্বর ,
আজাদ হিন্দ রেডিও চ্যানেল থেকে -
"দেশবাসীগণ ,আপনাদের সুভাষ আমি -
এখনো অবিনশ্বর ! "
জার্মানি , ইতালি আর
রাশিয়া তখন গর্বোদ্ধত ,
ত্রিশক্তির ত্রহ্যস্পর্শে
উত্তাল সমস্ত পৃথিবী ,
তাদের পদতলে
হওনিতো অবদমিত ,
অশান্ত সমুদ্রে এঁকে গেলে
জীবনের জলছবি .
 'ডুবো - জাহাজে' চড়ে
তারপর এসেছো জাপানে ,
দু-হাতে গুনেছো কর ,
দু-চোখ স্বপ্নে আধবোজা ;
দেশের কাছেতে এসে
ভাসিয়ে ওপরে সাবমেরিন -
চকিত চাহনিতে
হতশ্রী মায়ের মুখ খোঁজা .
 জাপানে তোমায় প্রথম যখন দেখি
তখন তুমি "আজাদ হিন্দ ফৌজের " - সর্বাধিনায়ক ,
আমি তখন সদ্যনিযুক্ত
সেনানী অফিসার ,
কিছু স্মৃতি তার সুখের
আর কিছু বেদনাদায়ক .
তারপর শুরু হলো পথচলা
জন্মভূমির পথে ,
বর্মা পেরিয়ে ভাগ করে দিলে
আমাদের কয়ভাগে ,
" 'রহমান,' তুমি ঐদিকে আর
'খান' তুমি একসাথে ",
বলে চলে গেছো সকলের আগে আগে .
বিজয় -পতাকা অতঃপর
উড়েছে তো ইম্ফলে ,
বহু প্রাণ আর রক্তের বিনিময়ে ;
জাপানের হারে শোকের ছায়া
নেমেছে সৈন্যদলে ,
বিজয়রথের চাকাতো গিয়েছে ক্ষয়ে .
স্বাধীন - হয়ে - গেছি
সেই সাতচল্লিশে ,
তবুও আমরা আজও
প্রমাদ গুনছি ;
ওয়াকিটকিতে আজও কে যেন
দূর হতে  সম্ভাষে ,
অস্ফুটে বলি - "হ্যালো! - স্যার! - হ্যালো ! -
আমি খান বলছি ........."