ত্রিকালদর্শন

ত্রিকালদর্শী এক সাধু এসে
উপস্থিত হয়েছেন
গ্রামে একথা খুব দ্রুত রটে গেল
ব্যোমভোলে সাধুবাবা  
জনা চারেক চালাচামুন্ডা সহ
এসে উপস্থিত  হয়েছেন
আশ্রয়  নিয়েছেন
বটতলার নিচে চাতালে
 চারপাশে একজন দুজন করে
লোক জড়ো হতে শুরু করেছে
গুনগুন রবে চারদিক মুখর
খরা,বন্যা, মহামারীর দেশে
অবশেষে ঠাকুর মুখ তুলে চেয়েছেন,ওই দেখ বাঘছালে উপবিষ্ট যেন সাক্ষাৎ মহাদেব -
জয় ভোলেবাবা
 দু একদিন কাটতে না কাটতেই
হু হু করে জমতে লাগল লোক
আশপাশের গ্রাম থেকেও
আসতে লাগল তারা
ফিরে যাবার সময় সাধুঠাকুরকে
নিমন্ত্রণ করে গেল তাদের গ্রামেও
পায়ের ধুলো দেবার জন্য
দিয়ে গেল অপরিমিত ফলমূল,
মিষ্টান্নাদি যাবার সময় জানিয়ে গেল
তারা নিজেরা এসে সাধু ঠাকুরকে নিয়ে যাবে  তাদের  গ্রামে  
ক্রমে সকলেই জেনে গেল
এই সাধু ভবিষ্যত পড়তে পারেন
তার অব্যর্থ ভবিষ্যদ্বানীর কথা
তারা অনেক শুনেছে
চেনা পরিচিত অন্য গ্রামের লোকের মুখে
কদিন পরেই সাধু একদিন
সমস্ত গ্রামের লোককে
সমবেত হতে বললেন
তিনি ঘোষণা করলেন
আগের রাতে তিনি স্বপ্নে
মহাদেবকে দেখেছেন
স্বপ্নাদেশে নির্দেশ পেয়েছেন
ওই বটতলা চাতালে
মন্দির তৈরি করে
মহাদেবকে প্রতিষ্ঠা করার
নচেৎ গ্রামের ঘোর
অকল্যাণ অবশ্যম্ভাবী
তৎক্ষণাৎ শুরু হল
মন্দির তৈরির প্রস্তুতি
গ্রামের লোকেরাই
জোগাড় করে দিল অর্থ
ঠিক হল পরদিন সকালেই
শুরু হবে মন্দির তৈরির কাজ
দিনের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে
অগণিত মানুষ জড়ো হতে লাগল
বটতলার কাছে
জোগাড় হয়ে গেছে লোক লস্কর
যারা শুরু করবে
মন্দির তৈরি করার কাজ
কিন্তু সাধু ঠাকুর গেলেন কোথায়
সমস্ত অর্থই যে তাঁর কাছে
তাঁর চ্যালা চামুন্ডারাই বা কোথায়
চারদিকে খোঁজ খোঁজ রব পড়ে গেল কিন্তু তেনাদের খবর মিলল না
সাধুবাবা এভাবেই সকলকে
ত্রিকাল দর্শন করিয়ে গেলেন