হাতের রেখায় ভাগ্যের ভালোমন্দ

মানব শিশু মুষ্টিবদ্ধ হাত ও হেঁটমুণ্ড-ঊর্ধ্বপদ হয়ে মাতৃগর্ভে অবস্থান করে। মাতৃগর্ভে থাকার সময়ে শিশুটির প্রাণ স্পন্দন মায়ের শরীরের তালে তাল মিলিয়ে বিকশিত হয়, শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ করে ও পুষ্টি লাভ করে এবং ক্রমশ পূর্ণতার দিকে এগিয়ে চলে। দশ মাস দশ দিন পরে (গড় ২৮২ দিন) ভূমিষ্ঠ হয়। নব জাতকটি ভূমিষ্ঠ হওয়ার শুভক্ষণে মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস গ্রহণ ও ক্রন্দনের মাধ্যমে এ জগতে তার জেগে ওঠা এবং তার স্বাধীন অস্তিত্বের কথা সগৌরবে ঘোষণা করে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ে মানব শিশুর মুষ্টিবদ্ধ হাত দু’টি খিচুনির মত দ্রুত ঝটকায় (Spasmodic) খুলে যায়, ক্রন্দন ও শ্বাস প্রশ্বাস গ্রহণের মাধ্যমে তার নিজস্ব জীবন পরিক্রমা শুরু হয়। এই জন্যেই জ্যোতিষ শাস্ত্রে মানুষের জন্ম মুহূর্তটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ে প্রাণ তরঙ্গ (Life Current) তর্জনীর অগ্রভাগ দিয়ে শরীরে প্রবেশ ক’রে হৃদয় রেখা বরাবর প্রবাহিত হয় ও হৃদযন্ত্রকে (Heart) চালু করে দেয়। প্রাণ তরঙ্গ হৃদয় রেখা থেকে শির রেখায় প্রবেশ করে মস্তিষ্ককে (Brain & Nerve Cell) চালু করে দেয়। এরপর প্রাণ তরঙ্গ শির রেখা থেকে আয়ুরেখায় প্রবাহিত হয়, আয়ুরেখা থেকে মণিবন্ধ হয়ে মস্তিষ্কে গিয়ে পৌঁছয়। মস্তিষ্ক থেকে আবার মণিবন্ধে ফিরে আসে এবং মণিবন্ধ থেকে ঊর্ধ্বগামী হয়ে শনির ক্ষেত্রে প্রবেশ করে ক্রমশ সারা দেহে ছড়িয়ে পড়ে। মণিবন্ধ থেকে ঊর্ধ্বগামী রেখাটিকে তাই ভাগ্যরেখা বলা হয়। প্রাণশক্তির প্রবাহের কারণেই ভাগ্যরেখা তথা বাস্তব রেখা ঊর্ধ্বগামী হয়ে করতলে অবস্থান করে। ফলে দেহ-মন, মস্তিষ্ক ও জীবনীশক্তির (Active Life Force) সমন্বয়ে নব জাতকের স্বাধীন ভাগ্যের নির্দেশনামা জেগে ওঠে এবং করতলের বিভিন্ন রেখায় তা প্রতিফলিত হয়। হাতে অবস্থিত বিভিন্ন গ্রহের ক্ষেত্রগুলি বাস্তবে প্রাণশক্তির ক্ষেত্র অর্থাৎ ব্যাটারির মত সঞ্চিত শক্তির আধার হিসাবে প্রাণশক্তির জোগান দেওয়ার কাজ করে। অন্যদিকে রেখাগুলি হল তার (Wire) বা পরিবাহী ব্যবস্থার মত শক্তিকে সারা শরীরে সঞ্চালিত ও ছড়িয়ে দেওয়ার কাজ করে। এই কারণে হস্তরেখা বিজ্ঞানে হাতের ক্ষেত্রগুলি ও রেখাগুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের সমগ্র জীবনের যাবতীয় ভাল-মন্দ, সাফল্য-ব্যর্থতা, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, লাভ-ক্ষতি ইত্যাদি হাতে অবস্থিত গ্রহের ক্ষেত্র ও বিভিন্ন রেখায় প্রতিফলিত হয়। আসুন, কিভাবে হাতের রেখায় ভাগ্যের ভাল-মন্দ  প্রতিফলিত হয় তা সংক্ষেপে দেখে নিই।  
১) হাতে যত কম আনুষঙ্গিক রেখা থাকবে জাতক/জাতিকার জীবনে বাধা-বিঘ্ন, উটকো ঝামেলা-ঝঞ্ঝাট তত কম হবে এবং জীবনযাত্রা তত মসৃণ হবে।
২) হাত বেশী সরু, পাতলা বা লম্বাটে ধরণের হলে জাতক/জাতিকার জীবনে অর্থনৈতিক সাফল্য সীমিত হবে, বিত্তশালী হওয়ার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করবে। একই ভাবে হাতের আঙ্গুলগুলি বেশী সরু বা লম্বা হলে জাতক/জাতিকার লক্ষ্য ও প্রত্যাশা পূরণে ঘাটতি থেকে যাবে।
৩) হাতে অবস্থিত সহায়ক রেখাগুলো যদি বেশীর ভাগই ঊর্ধ্বমুখী হয়, তাহলে জাতক/জাতিকার জীবনের সব দিকে শুভ ফল পাবে ও সহজে উন্নতি করবে। 
৪) যদি হাতে অবস্থিত গ্রহের ক্ষেত্রগুলি খুব নিচু হয় বা সঠিক ভাবে বিস্তৃত না হয়, এবং একাধিক অশুভ রেখা বা চিহ্ন দ্বারা পীড়িত হয়, তাহলে জাতক/জাতিকার জীবনে গ্রহের ক্ষেত্রগুলির দুর্বলতার ফলে সার্বিক সুখ,শান্তি ও প্রতিষ্ঠা ব্যাহত হবে।
৫) যদি ভাগ্যরেখা চন্দ্র ক্ষেত্র থেকে, আয়ুরেখা থেকে অথবা মণিবন্ধের মধ্যভাগ থেকে উত্থিত হয়ে শনির ক্ষেত্র বা বৃহস্পতির ক্ষেত্র পর্যন্ত সূক্ষ্ম ও সোজা হয়ে প্রসারিত হয়, তাহলে জাতক/জাতিকার জীবনে ভাগ্যের প্রসন্নতা ও সহায়তা লাভ ঘটবে এবং জীবনে সুপ্রতিষ্ঠা লাভ করবে।
৬) যদি বুধের আঙ্গুল অর্থাৎ কনিষ্ঠা আঙ্গুলটি অনামিকার প্রথম পর্বের নীচে অবস্থান করে তাহলে জাতক/জাতিকার স্বাভাবিক বিচার ক্ষমতা ও বুদ্ধির দুর্বলতার কারণে পড়াশোনার অগ্রগতিতে বাধা-বিঘ্ন, সাংসারিক ক্ষেত্রে সমস্যা ও প্রতিকূল অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে।
৭) করতল যদি অত্যন্ত নিচু বা গর্তের মত হয় বা বসে যায়, তাহলে জাতক/জাতিকার জীবনে প্রতিকূলতা, বাধা-বিঘ্ন তৈরি করবে, প্রতিষ্ঠা বা কৃতিত্ব লাভ করতে পারবে না। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে ভাগ্য বিপর্যয় বা আর্থিক ক্ষতির শিকার হবে এবং কর্ম ক্ষেত্রে প্রবল বাধা, বিরূপতা ও শত্রুতা তৈরি করবে।
৮) রবি রেখা যদি  হৃদয় রেখার মধ্যস্থল থেকে উত্থিত হয়, রেখাটি সোজা রবির ক্ষেত্রে যায় এবং রেখাটি স্পষ্ট, অভগ্ন ও অশুভ চিহ্ন বর্জিত হয়, তাহলে জাতক/জাতিকা প্রভূত সাফল্য, সৌভাগ্য ও প্রতিষ্ঠা অর্জন করবে। তার নাম, যশ ও সম্মান ক্রমশ বৃদ্ধি পাবে।
৯) রবি রেখা যদি অস্পষ্ট, ভগ্ন, ক্রস চিহ্ন দ্বারা কাটা বা অশুভ চিহ্ন যুক্ত হয় তাহলে যথাযথ যোগ্যতা, বিদ্যা, ক্ষমতা ও প্রচেষ্টা থাকা সত্বেও নাম, যশ,সাফল্য ও প্রতিষ্ঠায় প্রবল বাধা আসবে,সহজে মাথা তুলে দাড়াতে পারবে না। যতই ভাল কাজ করুক বা অন্যের উপকার করুক বদনামের ভাগীদার হতে হবে।
১০) হৃদয় রেখার শেষ প্রান্তটি যদি দ্বিমুখী, ত্রিমুখী হয়ে ফর্ক বা ত্রিশূল আকার ধারণ করে তাহলে জাতক/জাতিকা প্রবল প্রতাপ সম্পন্ন হবে, কর্তৃত্ব ও দাপটের সঙ্গে  জীবন কাটাবে এবং জীবনে খ্যাতি, প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক স্বীকৃতি পাবে। 
১১) রবির ক্ষেত্র থেকে কোনও রেখা এসে যদি ভাগ্যরেখায় মেশে কিম্বা ভাগ্যরেখা রবির ক্ষেত্রে গিয়ে শেষ হয়, তাহলে জাতক/জাতিকা আত্মমর্যাদা সম্পন্ন, উচ্চ পদাধিকারী, মাতব্বর ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তৎপর এবং বিশেষ সৌভাগ্যশালী হয়।
১২) হাতে ভাগ্যরেখা না থাকলে জাতক/জাতিকার জীবনের অগ্রগতি স্বাধীন কর্ম প্রচেষ্টা, উদ্যম ও আকাঙ্ক্ষা দ্বারা পরিচালিত হয় এবং কঠোর প্রচেষ্টার দ্বারা নিজের ভাগ্য নিজেই গড়ে তোলে। কিন্তু, যাদের হাতে শির রেখা দুর্বল, এবং বুধ এবং চন্দ্রের ক্ষেত্র অশুভ তাদের জীবনে ঘন ঘন মত পরিবর্তন, লক্ষ্য হীনতা ও সিদ্ধান্তহীনতার কারণে ভবিষ্যৎ জীবনের অভিমুখ বদলে যায়, ফলে অনেক দেরিতে, বাধা-বিঘ্নের মধ্যে দিয়ে জীবনে উন্নতি হয় ও ভাগ্যের সহায়তা লাভ হয়। বেশীর ভাগ জাতক/জাতিকা-ই লক্ষ্যহীন দৌড়ের ফলে আজীবন ব্যর্থ, অসফল, হতাশ ও নিষ্ফলের দলে রয়ে যায় ।
১৩) হৃদয় রেখা যদি চওড়া,শৃঙ্খলা কার বা একাধিক অশুভ রেখা বা চিহ্ন দ্বারা পীড়িত হয় এবং হৃদয় রেখাটি অশুভ শনির ক্ষেত্রে গিয়ে থেমে যায়, তাহলে জাতক/জাতিকার জীবনে নানা রকমের বাধাবিঘ্ন, আর্থিক বিপর্যয়  ও হতাশা তৈরি করে।
১৪) বৃহস্পতি ও রবির ক্ষেত্রে তারা চিহ্ন থাকলে বিশেষ জ্ঞান, দক্ষতা, সৌভাগ্য ও অর্থনৈতিক সাফল্যের সূচনা করবে। 
১৫) হাতে স্বাস্থ্য রেখা যদি শৃঙ্খলাকার, আঁকাবাঁকা, ভাঙ্গা-ভাঙ্গা হয়, তাহলে জাতক -জাতিকার শরীর স্বাস্থ্যের সমস্যা হয়, মন মেজাজ ভাল থাকে না, আলস্য, উদ্যমহীনতা ও গড়িমসির কারণে খুব একটা উন্নতি হয় না ।
১৬) যদি শির রেখা নিম্নমুখী হয়ে চন্দ্রের ক্ষেত্রের দিকে বেঁকে যায়, হাতের মধ্যভাগ খুবই নিচু হয় এবং চন্দ্রের ক্ষেত্রটি অশুভ হয়, তাহলে জাতক/জাতিকা কখনই বাস্তববাদী হয় না। প্রবল আবেগ ও তীব্র অনুভূতি থাকায়  ভুল ভাবনা, তাড়াহুড়ো, সিদ্ধান্ত ও মত বদল ইত্যাদির কারণে পারিপার্শ্বিক বাধা, অকারণ ঝামেলা, প্রতিকূলতা ও নানা  সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। প্রচেষ্টার তুলনায় জীবনে যৎসামান্য সাফল্য লাভ করে থাকে। 
১৭) বৃহস্পতি ও রবির ক্ষেত্রে তারা চিহ্ন (Star) থাকলে বিশেষ সৌভাগ্য ও আর্থিক প্রতিষ্ঠা প্রদান করবে। বৃহস্পতি ও রবির ক্ষেত্রের বাহিরে বা অন্য কোনও ক্ষেত্র বা রেখার ওপর ক্রস চিহ্ন (Cross) থাকলে জীবনে প্রচুর বাধা-বিঘ্ন ও সমস্যা সৃষ্টি করবে। কিন্তু কেতুর মধ্যভাগে যদি ক্রস চিহ্ন থাকে এবং বৃহস্পতির ক্ষেত্রটি বিশেষ শুভ হয় তাহলে জাতক/জাতিকার মধ্যে সাত্ত্বিক ভাবধারা ও আধ্যাত্মিক চেতনা প্রবল হবে, বৈষয়িক উন্নতি খুব একটা হবে না, কিন্তু জাতক/জাতিকার মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ত জ্ঞান, দৈব অনুভূতি এবং যে কোন ঘটনার আগাম পূর্বাভাষ দেওয়ার ক্ষমতা থাকবে।
১৮) যদি মণিবন্ধের গোড়ার দিকে ও আয়ুরেখার শেষ প্রান্তের সংযোগ স্থলে মীন পুচ্ছ (Tassel) বা ঝালরের মত সূক্ষ্ম রেখা থাকে, এছাড়া এর সঙ্গে তর্জনীর প্রথম পর্বের সংযোগ স্থলটি উত্তম যব চিহ্ন দ্বারা গঠিত হয়, তাহলে জাতক-জাতিকা নাম, যশ, প্রতিষ্ঠা ও অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধশালী হবেন।
১৯) হাতে যদি শুভ আয়ুরেখার সঙ্গে সুগঠিত মার্শাল রেখা থাকে এবং শুক্রের ক্ষেত্রটি বেশ উঁচু, ভরাট, বিস্তৃত ও কাটাকুটি হীন হয় তাহলে জাতক উত্তম শরীর স্বাস্থ্য, আয়ু, জীবনীশক্তি সম্পন্ন, উদ্যমী, পরিশ্রমী, আত্মবিশ্বাসী ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার অধিকারী হবেন। সহজে  রোগে কাবু হবে না। রোগে পড়লেও খুব দ্রুত রোগ মুক্ত হবেন এবং সুস্থ হয়ে উঠবেন। এছাড়া, যে কোনও ধরণের আকস্মিক দুর্ঘটনা, কঠিন অবস্থা ও আকস্মিক বিপদ-আপদ থেকে অলৌকিক ভাবে মুক্তি পাবেন, এমনকি তার শরীরে আঁচড়ের দাগও লাগবে না।
২০) করতলটি যদি খুব কঠিন বা শক্ত হয় জাতক কিছুটা কঠিন হৃদয় ও দৃঢ় মনের অধিকারী হয়ে থাকেন। দয়া, মায়া, স্নেহ, মমতা কম থাকবে। শত অনুরোধ, আবেদন-নিবেদনেও তার মন সহজে গলবে না। রাগ ও জেদ প্রবল হয়,কঠোর পরিশ্রমী হবে, বুদ্ধিবৃত্তি কিছুটা স্থূল ধরণের হবে, রুচি মোটা দাগের হয় এবং আহার-নিদ্রা-মৈথুন সর্বস্ব হয়। কায়িক পরিশ্রম ও কঠোর প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাঝ বয়সে (৪০/৪২) জীবনে প্রতিষ্ঠা লাভ করবে। 
২১) করতলটি যদি খুব নরম হয় তাহলে জাতকের মন নরম হবে। আরাম-আয়েশ, আবেগপ্রবণ, ভাবুক,স্পর্শকাতর মন, ভোগী ও কল্পনা বিলাসী হয়ে থাকেন। যথেষ্ট যোগ্যতা ও উপযুক্ত বিদ্যা বুদ্ধি থাকা সত্ত্বেও জীবনে সাফল্য ও প্রতিষ্ঠা লাভ করতে পারেন না। কান পাতলা হয়। অন্যের দ্বারা সহজে প্রভাবিত হন ও পরিচালিত হন। আত্মবিশ্বাস কম, দোদুল্যমান মন হওয়ার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন না। মানবিক অনুভূতি প্রবল হওয়ায় অল্পতেই কষ্ট পান এবং জীবনে খুব একটা সুখী হতে পারেন না।
২২) হৃদয় রেখার ওপর দিকে ও রবির ক্ষেত্রের নীচের দিকে যদি একটি স্পষ্ট ও সোজা রেখা উত্থিত হয়ে রবির দিকে অগ্রসর হয়, রেখার শেষ প্রান্তটি তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে রবি, বুধ ও শনির ক্ষেত্রের দিকে গমন করে এবং ওই তিনটি গ্রহের ক্ষেত্র যদি শুভ হয়, অশুভ চিহ্ন বর্জিত হয়, তাহলে জাতক/জাতিকা অত্যন্ত সৌভাগ্যের অধিকারী হবেন।
২৩) করতলে শুক্রের ক্ষেত্রটি যদি গর্তের মত নিচু হয় বা বসে যায়, আয়ুরেখা বুড়ো আঙ্গুলের গোড়ার দিকে সরে আসে এবং শুক্রের ক্ষেত্রটি অশুভ রেখা যুক্ত,কাটাকুটি পূর্ণ,জাল চিহ্ন যুক্ত হয় তাহলে জাতক-জাতিকার শরীর, স্বাস্থ্য, জীবনীশক্তি ও আয়ুর ব্যাপারে অশুভ ফলদায়ক হবে। জাতক/জাতিকার শৈশবকাল খুব কষ্টে কাটবে, পারিবারিক জীবন ও দাম্পত্য সুখের অন্তরায় হয়ে উঠবে।
২৪) ভাগ্যরেখা যদি আয়ুরেখার মাঝখান থেকে উত্থিত হয়ে রবি বা শনির ক্ষেত্রে গমন করে, তাহলে জাতক প্রথম জীবনে কঠোর পরিশ্রম করে অগ্রসর হবে এবং মধ্য বয়সে জীবনে সুপ্রতিষ্ঠা লাভ করবে।
২৫) ভাগ্যরেখা শুক্রের ক্ষেত্র থেকে যদি উত্থিত হয় বা ভাগ্যরেখা থেকে কোনও রেখা নিম্নগামী হয়ে শুক্রের ক্ষেত্রে যায়, তাহলে জাতক জীবনে উন্নতি ও সাফল্য লাভে সক্ষম হয় না।
২৬) শুক্র বন্ধনী যদি বুধ ও বৃহস্পতির ক্ষেত্রকে সূক্ষ্ম রেখা দ্বারা যুক্ত করে এবং হাতটি সুগঠিত, উজ্জ্বল, মসৃণ, লাল বা গোলাপি আভা যুক্ত হয়, তাহলে জাতক নাম, যশ, সম্মান ও সাফল্য করবে।
২৭)  বিবাহ রেখা সোজা হয়ে এগিয়ে গিয়ে যদি রবি রেখা পর্যন্ত প্রসারিত হয়, হাতে শুক্র, চন্দ্র ও বৃহস্পতির ক্ষেত্রটি শুভ হয়, তাহলে জাতক জীবন প্রেম-প্রীতি, ভালবাসা, দাম্পত্য ও বিবাহিত জীবনে বিশেষ সুখ-শান্তি লাভ করবে এবং পারিবারিক জীবনে সৌভাগ্যের অধিকারী হবে।
২৮) শুক্র বন্ধনী যদি শৃঙ্খলা কার,একাধিক অশুভ রেখা যুক্ত হয়, অশুভ চিহ্ন যুক্ত হয়, তাহলে জাতক/জাতিকার চারিত্রিক দৃঢ়তার অভাব ঘটবে, অসংযমী হবে, অবৈধ প্রেমজ ব্যাপারে জড়িয়ে পড়বে, এমনকি চারিত্রিক স্খলনের ফলে বদনাম, অর্থ অপচয়, অশান্তি হবে। চারিত্রিক দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রে প্রতারণার শিকার হবে।
২৯)  হাতে যদি সুগঠিত বৃহস্পতি বন্ধনী থাকে এবং চন্দ্র, শুক্র ও বৃহস্পতির ক্ষেত্রটি শুভ ও বলবান হয়, তাহলে জাতক জ্ঞান, বুদ্ধি, কর্ম দক্ষতা ও বিচক্ষণতার দ্বারা জীবনে পদমর্যাদা, সম্মান, প্রতিপত্তি ও সৌভাগ্যের অধিকারী হয়। 
৩০) করপৃষ্ঠে অর্থাৎ হাতের উল্টো দিকের শিরাগুলি যদি উঁচু উঁচু হয়,হাতটা শক্ত ও কালো হয়,গোটালও আঙ্গুল যুক্ত হয়,হাতে রেখার সংখ্যা অত্যন্ত কম হয়,তাহলে জাতকের জীবনে প্রতিষ্ঠা ও উন্নতি আশানুরূপ হয় না। প্রথম জীবনে প্রবল কষ্টের মধ্য দিয়ে যেতে হয়,ভাগ্যের সহায়তা পায় না। পরিশ্রম, দৃঢ় প্রচেষ্টা ও পরিকল্পনার দ্বারা মধ্য বয়সে (৪০/৪৫) কিছুটা স্থায়িত্ব, আর্থিক সুস্থিতি ও সুখের মুখ দেখতে পায়।
৩১) শির রেখা বা আয়ুরেখার ওপর ক্রস বা কাটা চিহ্ন থাকলে, এবং রাহু ও মঙ্গলের ক্ষেত্রে জাল, ক্রস, কাটা চিহ্ন, ছেদ বা স্পষ্ট ফাঁক থাকলে ওই রেখা নির্দিষ্ট বয়সে শরীরে আকস্মিক আঘাত, রক্তপাত, অস্ত্রোপচার ও দুর্ঘটনার ঘটবে, কিন্তু ওই স্থানটিকে যদি কোনও চতুষ্কোণ চিহ্ন, বা কোনও লম্ব রেখা ঘিরে থাকে এবং হাতে শুভ মার্শাল রেখা থাকে তাহলে কঠিন পীড়ায় স্বাস্থ্যহানি ঘটবে, মৃত্যু হবে না।  
৩২) বিবাহ রেখা অস্পষ্ট,বিবাহ রেখার ওপর লম্ব রেখা, ক্রস চিহ্ন, বিবাহ রেখা শাখা যুক্ত বা অন্য কোনও রেখা দ্বারা কর্তিত হলে বিবাহ ও দাম্পত্য সুখ ভাল হবে না। বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রের অবস্থান শুভ না হলে অশান্তি পূর্ণ পারিবারিক জীবন, এমনকি বিবাহ বিচ্ছেদ হতে পারে।