মানব জীবনে বাস্তু শাস্ত্রের প্রভাব

বাস্তু শাস্ত্র ভারতের প্রাচীন বাস্তুবিজ্ঞান ও স্থাপত্য কলা (Vedic Civil Engineering and Architecture)। বাস্তু শাস্ত্রের মুখ্য উদ্দেশ্য হল – পরিবেশ ও প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে সুসংহত বাড়ি ঘর নির্মাণ ও নগরায়ন এবং নাগরিক জীবনের সুস্থিতি। সেজন্য আগাম পরিকল্পনা অনুসারে সঠিক বাস্তুভূমি নির্বাচন করে – বাড়ি, ঘর, মন্দির, বাজার, দোকান, সভাঘর, শিল্পাগার এবং জনস্বাস্থ্যের উপযোগী সড়ক, পরিবহন, জলাশয়, বনাঞ্চল, ও নিকাশি ব্যবস্থার যথাযথ রুপায়ন। ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রাচীন সৌধ, সেতু ও মন্দিরগুলি পর্যবেক্ষণ করলে বাস্তু শাস্ত্রের সত্যতা, বিজ্ঞানসম্মত নির্মাণ শৈলী, বিন্যাস, উপাদান ও সু-পরিকল্পনা সহজেই বোঝা যায়। 
বাস্তব সম্মত বাড়ি করতে হলে কমপক্ষে ৪ থেকে ৬ কাঠা আয়তাকার বা চতুষ্কোণ জমি দরকার। যার চারদিক পাঁচিল দিয়ে ঘেরা, মাঝখানে বাড়ি, বাড়ির চারদিকে খোলা জায়গা এবং গাছপালা থাকবে। কোলকাতার গভর্নর হাউজ (রাজভবন) ও ব্রিটিশ আমলে বাংলায় তৈরি হওয়া সরকারি বাংলোগুলি বাস্তু সম্মত আদর্শ বাড়ির উদাহরণ। বাংলায় তৈরি হওয়া এই ধরণের বাড়ি থেকেই ইংরাজি Bungalow কথাটার উৎপত্তি হয়েছে। 
আধুনিক নাগরিক সভ্যতার বিকাশের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জনসংখ্যা চার-পাঁচ গুণ বেড়ে গেছে, অথচ বাসযোগ্য জমির পরিমাণ আগের মতোই রয়ে গেছে। অবস্থার চাপে পড়ে কৃষিজমি দখল হয়েছে, জলাশয় ও নিচু জমি ভরাট হয়েছে, বন জঙ্গল কেটে তবুও জমির আকাল এবং দু-এক কাঠা জমির দাম আকাশ ছোঁয়া। এর সঙ্গে নির্মাণ খরচও বহু গুণ বেড়ে গেছে। ফলে বহুতল আবাসন ছাড়া সাধারণ মানুষের গতি নেই। ধনী, অর্থবান ও মধ্যবিত্ত ব্যক্তিরাও ইচ্ছে মতো বাড়ি বানাতে পারছেন না এবং বহুতল আবাসনে ফ্ল্যাট কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রমোটারদের তৈরি করা বহুতল আবাসনগুলিতে বাণিজ্যিক স্বার্থ প্রাধান্য পায়। তারা চেষ্টা করেন যতটা সম্ভব বাড়তি জায়গা বের করা যায়। ফলত, প্রমোটারদের তৈরি করা বাড়ি বা ফ্ল্যাট বাস্তু সম্মত হবে তা আশা করা আকাশকুসুম কল্পনা মাত্র।
বর্তমান অবস্থার কথা বিবেচনা করে বাস্ত সম্মত বাস্তু বিধান অনুসরণ করাই শ্রেয় ও বুদ্ধিমানের কাজ। তথাকথিত বাস্তু-শাস্ত্রীর পরামর্শ মেনে বাস্তু সংশোধন, সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ যথেষ্ট নয় এবং অকারণ অর্থ ও সময় অপচয় হবে। সাধারণ মানুষ যাতে সহজেই নিজের মতো বাস্তুসম্মত বাড়ি তৈরি করতে পারেন তার হাল-হদিশ জানাচ্ছি। এগুলো মেনে চললে বাস্তু নিয়ে অকারণ উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও দো-টানা কাটবেই কাটবে।