আমরা একসঙ্গে অনেককিছু হতে চাই। কিন্তু শেষমেশ অর্জুনের মতো কোথায় লক্ষ্যভেদ করার যোগ্যতা, আর্থিক বল ইত্যাদি সব বিষয় মাথায় রেখে কীভাবে করবেন কেরিয়ার বাছাই জানানো হল
রবি ঠাকুরের অমল দুইওয়ালা হতে চেয়েছিল, আবার আনন্দ পুরস্কার পাওয়া উৎপল কুমার বসু মুচি হতে চেয়েছিলেন। সেই স্বপ্ন পূরণ হয়নি। বেশিরভাগ ছেলে মেয়েকে শুনতে হয়, বড় হয়ে কী হতে চাও? বেশিরভাগ ছেলে মেয়ে জবাব দেয়, ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার। অনেকে আবার পাইলট বা বিজ্ঞানী কিংবা গ্ল্যামারাস পেশার কথা ভাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেশিভাগের সেই সাধ পূরণ হয় না। তার একটাই কারন, আমরা কি হতে চাই অনেকে সেটা জানে জানে না। আসলে একজনের মনের মধ্যে অনেককিছু হওয়ার প্রবণতা বা ইচ্ছে কাজ করে। কেরিয়ারের গোলকধাঁধায় ঘুরে মরি।
সমস্যা কোথায়: এবার দেখে নেওয়া যাক, ঠিক কী কী সমস্যা দেখা দেয় আমাদের মনের মধ্যে।
প্রথমত, কেরিয়ারের কোন পথে এগোব সেই নিয়ে সমস্যা। একসঙ্গে অনেককিছু হতে চাওয়া।
দ্বিতীয়ত, অনের কথায় প্রভাবিত হয়ে কেরিয়ার বাছা। এক্ষেত্রে দেখি আর্থিক দিক।
তৃতীয়ত, নিজের মধ্যে ওই সব গুণ আছে কিনা, সেটা পরখ করে দেখি না।
চতুর্থ, নিজের যা লক্ষ্য সেটা পূরণ করতে না পারা।
পঞ্চমত, নিজের চাওয়াটা আমার কাছে পরিষ্কার নয়, বাবা মা যেটা চাইবেন সেই পথে এগিয়ে যাওয়া।
ষষ্ঠ, আমার মেধা আছে, অথচ যে পথে এগুতে চাই সেই কেরিয়ার খুব খরচের।
সপ্তম, আমার কাছে কেরিয়ারের বিভিন্ন দিকের কোনো ইনফরমেশন নেই।
অষ্টম, অনেক সময় ঝোঁকের মাথায় আমরা কোনো কেরিয়ারে ঢুকে পড়ি কিন্তু পরে আর সেই পেশায় মন বসে না।
নবম, সঠিক পেশায় যাওয়ার জন্য আত্মবিশ্বাসের অভাব।
আপনি কি চান: মনের গভীরে ডুব দিয়ে দেখুন, আপনি ঠিক কি হতে চান? আরামের কাজ নাকি চ্যালেঞ্জিং কোনো জব। আপনার মধ্যে দশটা পাঁচটা কাজের মানসিকতা আছে, নাকি নিরন্তর খাটতে পারেন। নাকি এমন কোনো কাজ করতে চান যা আপনার ভালো লাগে।হয়ত সেখানে মাইনে কম। তাহলে সেখানে লেগে থাকুন। আজ না হয়, কাল আপনি ওপরে উঠবেন। এছাড়া, যারা সরকারি বা বেসরকারি এই দু ধরনের চাকরির কোনদিকে এগোবেন না, তাদের ব্যবসার দিকে এগোতে হবে। ব্যবসা একটা অনিশ্চিত জায়গা। ঠিক ভাবে এগোলে ছককা, না হলে ফক্কা। তাই ব্যবসা করার আগে সব কিছু দেখে বুঝে এগোতে হবে।
নিজের প্রতি বিশ্বাস: যে পথে বা যে কাজে এগোতে চান না কেন, নিজের প্রতি বিশ্বাস খুব দরকার। এমন দেখা যায় জয়েন্ট এন্ট্রান্স এ সুযোগ না পেয়ে সাধারন ভাবে ডিগ্রি কোর্স পাশ করে ও সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা দিয়ে এ গ্রেড অফিসার হয়েছেন। কাজের প্রতি যদি পজিটিভ চিন্তা ভাবনা থাকে তাহলে সেই কাজে সাফল্য আসবে।
আপনার যোগ্যতা: ক্লাসে যেখানে সামান্য এক নম্বর বা আধ নম্বরের জন্য হাড্ডাহাড্ডি যুদ্ধ , তার চেয়ে অনেক বেশি সংগ্রাম কাজের জগতে। তাই যে পেশায় যেতে চান, সেই ভাবে নিজেকে যোগ্য করে তুলতে হবে।
আপনার চাহিদা: প্রথমে নিজেকে প্রশ্ন করো, আপনার কাছে কেরিয়ারের ডেফিনেশন কী। অন্য দের দেখে নয়, নিজের মনের চাহিদা ও যোগ্যতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজের কেরিয়ার না ঠিক করুন। অনেকের কাছে কেরিয়ার মানে প্রচুর মাইনে, কারোর কাছে আবার হিল্লি দিল্লি অথবা বিদেশ। আবার অনেকের কাছে দুটো। অনেকে আবার নিজের সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে একটা আয় করে খুশি থাকতে চান। এবার ভাবুন, আপনার প্রচুর টাকা চাই নাকি, মনের মত কাজ চাই।
যদি নিজে বুঝতে না পারেন: বয়স কম, ভাবনা চিন্তার ক্ষমতা কম হলে এক্সপার্ট দের পরামর্শ নিতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় কেরিয়ার কাউন্সিলিং করাতে পারলে।
তথ্য সংগহ করুন: আপনি যদি নেট সার্ফিং নাও করতে পারেন, তাহলেও ক্ষতি নেই। কারন কেরিয়ার প্লাসের সঙ্গে বাজারে এখন অনেক ধরনের কেরিয়ারের লেখাপত্র বেরোয়। সেইসব লেখা জোগাড় করে পড়ুন। যারা কেরিয়ারে সফল তাদের লেখা পড়ুন, অনুপ্রাণিত হবেন।
শেষ কথা:একটা চাকরি করতে করতে ও অন্য অনেক চাকরির বিষয় ও জেনে বুঝে নেওয়ার সুযোগ আসে, তাই শুরুতে যে একেবারে লক্ষ্যে পৌঁছে যাবেন, সেটা নাও হয়ে পারে। কিন্তু কিছুদিন পরেই কেরিয়ারের সুইচ ওভার করতে হবে। অবশ্য সেটা যেন বুঝেশুনে হয়, অর্জুনের লক্ষ্যভেদের মতো।