জ্ঞান হারালে আমরা তাকে বলি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়া।
আমাদের পুরাণ কথায় আছেন এমন এক চরিত্র, যার নাম সংজ্ঞা। প্রবল তেজস্বী সূর্যের ধর্মপত্নী। সূর্যের ওই আগ্রাসী ভূবন আলোকিত করা আগুন তথা শক্তি বা তেজ এক সময় আর সহ্য করতে পারেননি সংজ্ঞা। সংজ্ঞাহীন হওয়ার উপক্রম হয়।
ইতিমধ্যে তাদের দুটি সন্তান এসেছে ঘর আলো করে।
তাদের নাম যম ও যমুনা।
সূর্যের তেজ সহ্য না করতে পারায় অগত্যা চোখের জলে সংজ্ঞা পৃথিবীতে ফিরে আসেন। কিন্তু সূর্যের যাতে কোনও শূন্যতা বোধ না হয়, সে জন্য সূর্যগৃহে রেখে আসেন তার ছায়া – অর্থাৎ হুবহু সংজ্ঞা। কিন্তু আসল সংজ্ঞা নন।
এই ছায়া কিন্তু সংজ্ঞার মতো অত সরল সিধে নন। ক্রমে দুই পুত্র কন্যা, যম ও যমুনায় যেন তার অরুচি এসে যায়। সূর্যকে নিজের মায়াজালে নিয়ন্ত্রনে রেখে গৃহ থেকে তাড়িয়ে দেন যম ও যমুনাকে।
সময় থেমে থাকে না। যমুনার বিয়ে হয়ে যায়। ভাই বোন একত্রে থাকার দিন শেষ হয়।
শ্বশুর বাড়িতে যমুনার সব সময় ভাইএর জন্য প্রাণ কাঁদে।
যমও তো দিদি অন্ত প্রাণ। দিদির জন্য তারও দিবারাত্র মন উচাটন।
অগত্যা যম ঠিক করে নেয়, নাঃ, তাকে দিদির সঙ্গে দেখা করতেই হবে। মন নয়তো মানে না।
দীপাবলীর অসংখ্য দীপ যখন ধীরে ধীরে নিভে আসে, তখন অর্থাৎ দীপাবলীর দুদিন পর যম চলে যায় দিদির বাড়ি।
গিয়ে দেখে তার আসার খবর যেন দৈব ভাবে পেয়ে গেছে যমুনা। ভাই যমকে অভর্থনা জানানোর জন্য ইতিমধ্যে যমুনা বিশাল সাড়ম্বর আয়োজন করে রেখেছে।
যমের দারুণ আনন্দ হয়। এক অনির্বচনীয় আনন্দে সে দিদিকে বলে, দিদির কী উপহার চাই, ভাইএর কাছ থেকে।
দিদি বলে, বেশি কিছু চাইনা। তবে আজকের দিনটি যেন স্মরণীয় হয় ভাইফোঁটা নামে। আজ যেন সমস্ত ভাইএরা দিদি বা বোনেদের কাছে আসে প্রণাম করতে, আশীর্বাদ করতে। বোনেরা আজ ভাইএর কপালে এমন ফোঁটা বা তিলক কেটে দেবে, যাতে তারা দীর্ঘায়ু হয়। সুখে শান্তিতে থাকে।
ভাইফোটা নিয়ে আরও অনেক কাহিনি আছে। পুরাণ গাথায় এই সব অনাবিল, অমলিন কাহিনি আমাদের পুরাণ সাহিত্যের অমূল্য সম্পদ।