গভীর জঙ্গল। হিংস্র জন্তু জানোয়ার সতত ঘুরে বেড়ায় সেই জঙ্গলে। অতি প্রাচীন কালে কাশীধাম তথা বারানসীর কাছে গভীর জঙ্গলে লতা পাতা গুল্ম ও একই সঙ্গে বিশাল বৃক্ষের সমাহার। গভীর অন্ধকার বনানী।
ওই জংগলের কাছাকাছি গ্রামে থাকতো এক ব্যাধ। ব্যাধের জীবিকা প্রানী হত্যা। কিন্তু এই ব্যাধ এতই নিষ্ঠুর ছিল যে, জীবিকার বাইরে সম্পুর্ণ অকারণেও সে প্রানী হত্যা করতো। আর এভাবেই তার পাপের ঘড়া পূর্ণ করে ফেলেছিল।
কিন্তু তার অসীম সৌভাগ্য তাকে মৃত্যুর পর বিষ্ণু-লোকে নিয়ে যায়। তার সৌভাগ্য লাভের কাহিনিই আমাদের ব্রত সাহিত্যে শিবচতুর্দশী-ব্রতকথা।
ওই জঙ্গলে একটি বেল গাছ ছিল ও তার নীচে নিতান্ত অবহেলায় পড়েছিল এক শিব লিঙ্গ।
এক শিবচতুর্দশীর দিন ব্যাধটি সকাল থেকে হন্যে হয়ে শিকার খুঁজেছে, কিন্তু সারা দিনে একটিও শিকার পায় নি। ক্রমে সে ঢুকে পড়েছিল জঙ্গলের গভীরে। সন্ধ্যা হয় হয়। ক্ষুধার্ত ও তৃষ্ণার্ত ব্যাধের হঠাত চৈতন্য হলো, অন্ধকার ঘনিয়ে আসছে দ্রুত। অথচ ফেরার পথটি সে হারিয়ে ফেলেছে। অন্ধকারে হিংস্র জন্তু তাকে আক্রমণ করলে সে মোটেও দিশা পাবে না।
নিজের ওপর বিরক্তিতে সামনে যে প্রকান্ড গাছটি সে পেল, তাতেই চড়ে বসলো সে।
গাছটি সেই বেল গাছ, যার নীচে রয়েছে শিবলিঙ্গ।
গাছের এক ডালে বসে ব্যাধ রাগে দুঃখে হতাশায় গাছের পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে নীচে ফেলতে থাকে। আর পাতা এসে পড়ে শিবলিঙ্গের উপর। অর্থাৎ ব্যাধ নিজের অজান্তে শিবচতুর্দশীর রাতে শিবলিঙ্গে বেলপাতা দেয়। সারাদিন সে উপবাসী। এর ফলে শিব চতুর্দশীর ফলের লাভ হয়ে যায় তার।
শুধু তাই নয়, পরের দিন সে যখন বাড়ি ফিরে আহার গ্রহণ করবে, সে সময় এক অতিথি এসে যাওয়ায় সে তার আহার অতিথিকে দিয়ে দেয়।
এর কিছুদিন পরে ব্যাধের স্বাভাবিক নিয়মে মৃত্যু ঘটে। প্রচুর প্রানী হত্যা করেছে সে। সুতরাং যমদূতেরা তাকে নিতে চলে আসে।
কিন্তু শিব চতুর্দশীর রাতে সে উপবাসী থেকে শিবলিঙ্গে বেল পাতা দিয়েছে। পরের দিন অতিথি সেবাও করেছে। ফলে শিবদূতেরাও এসে হাজির তাকে নিয়ে যেতে। কারণ যমলোক নয়, শিব চতুর্দশী পালনের জন্য তার উপর যমের আর অধিকার নেই। সে মুক্তি লাভ করেছে।
শিব যোদ্ধাদের সঙ্গে লড়াইএ স্বাভাবিক ভাবে যমদূতেরা পরাস্ত হয়ে ফিরে যায়। স্বয়ং যম তখন নত মস্তকে স্বীকার করেন, যে মানুষ শিব চতুর্দশী ব্রত পালন করে, সে শিব ও বিষ্ণুর ভক্ত। তার উপর যমের কোনও অধিকার থাকে না। তার মুক্তি ঘটে। সে যায় বিষ্ণু-লোকে।
এই কাহিনিতেই মর্ত্যলোকে শিবচতুর্দশী ব্রতের প্রচার ঘটে।