শনিদেবতা ও বজরঙ্গবলী

শনি দেবতার কোপে পড়েছেন?
হনুমান চালিশা পাঠ করুন
কারো খারাপ সময় দেখলে আমরা বলি, ও শনির কোপে পড়েছে।
অথচ শনি দেবতা নিয়ে সঠিক ধর্ম চর্চা করলে দেখা যাবে, এই দেবতা মোটেই খামখেয়ালে কারোর ওপর রুষ্ট হন না। শনি রুষ্ট হওয়া মানে, জীবন দুর্বিষহ। কোনও জাতক বা জাতিকা যদি অলস, কর্মবিমুখ অথবা ঈর্ষাকাতর হয়, তবেই সে পড়ে শনির রোষে। অর্থাৎ ‘শনির দৃষ্টি’তে পড়ার যথেষ্ট কার্যকারণ রয়েছে।
তবে শনির দৃষ্টি থেকে বাঁচতে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকরী দাওয়াই হলো বজঙরগবলীর শরণ নেওয়া। হনুমান চালিশা পাঠ ও শ্রী হনুমানের পুজো নিয়মিত করলে শনির প্রকোপ কমে যায়।
হঠাৎ শনি দেবতার আগুনে রোষ থেকে বজরঙ্গীর শরণ কেন নিতে হয়? অবশ্যই তার একাধিক পুরাণ ব্যখ্যা আছে।
শনি দেবতা ও বজরঙ্গ বলীর মিল ও অমিল বিশ্লেষণ করলে চমকপ্রদ কিছু তথ্য পাই আমরা।
শনিদেবের ক্রোধের ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার উৎস দেবাদিদেব শিবের বর। শিবের কৃপাতেই তিনি শক্তিধর। অর্থাৎ শনি শিবের ভক্ত, উপাসক। এদিকে হনুমান তথা বজরঙ্গবলী শিবের অবতার।
শনিদেবের আচরণে নিষ্ঠুরতা। অন্তত তাঁকে কেন্দ্র করে যা যা কাহিনি, তাতে রুষ্ট শনির রোষানলকে খুব ভয়ংকর বলেই দেখানো হয়। বিপরীত দিকে বজরঙ্গবলী দয়ালু, প্রেমময়, স্থিত, মানবিক।
সূর্য সংহিতা অনুসারে হনুমানের জন্ম হয়েছিল সপ্তাহের যে দিনটিতে, সেই দিনটি হলো শনিবার। তাছাড়া বহু শাস্ত্রে উল্লেখ আছে যে, হনুমানের গাত্রবর্ণ শনিদেবেরই মতো।
শনি দেবের পিতা অগ্নি তথা সূর্য দেব। এদিকে সূর্য দেব হনুমানের শিক্ষাগুরু। সূর্যদেব তাঁর প্রিয় শিষ্য হনুমানকে যে বিপুল শক্তি ক্ষমতা দান করেছে, তা কিন্তু নিজের পুত্র শনিকেও দেননি। বরং পুরান কথায় পিতা সূর্য দেবের সঙ্গে শনি দেবের তুমুল লড়াই হয়েছিল।
শনিদেব যেমন সূর্য-পুত্র, হনুমান তেমনই পবন পুত্র। হুতাশনকে স্তিমিত করতে পারে একমাত্র পবন তথা বায়ু। পুরাণ কাহিনি অনুসার হনুমান শনিদেব কে রাবণের কবল থেকে মুক্ত করেন। যে কারণে শনি দেব হনুমান তথা বজরঙ্গবলীর প্রতি কৃতজ্ঞ।
শনিদেব ও বজরঙ্গবলীর মধ্যে চরিত্রগত তফাতটিও চোখে পড়ার মতো। হনুমান আত্মত্যাগের প্রতীক। কিন্তু শনিদেবের অহং বোধ। এই অহং থেকে জাত কর্ম যখন ঔদ্ধত্যের প্রকাশ ঘটায় তখন তাকে খন্ডন করা বা নিয়ন্ত্রণ করার শক্তি হলো বিনয় ও আত্মবিলোপ।
তবে হনুমান ও শনিদেবের দ্বন্দ্বের একটি কাহিনিও শোনা যায়। একবার নিজের প্রভাব দেখিয়ে হনুমানকে বশ করার জন্য শনিদেব হনুমানের স্কন্ধে চেপে বসেন। কিন্তু বজরঙ্গবলীর চেহারার হ্রাস বৃদ্ধি তাঁর ইচ্ছাধীন। তিনি তাঁর শরীর এতটাই বৃদ্ধি করে ফেলেন যে শনিদেবের ত্রাহি অবস্থা হয়। শেষে রেহাই পেতে শনিদেব হনুমানের স্কন্ধ ত্যাগ করে নিজেকে রক্ষা করেন।
আমরা কথায় কথায় কারো খারাপ সময়কে বলি ‘শনির দৃষ্টি’। বজরঙ্গবলীর কাঁধে শনিদেবের চেপে বসার মধ্যে যেন ওই ‘দৃষ্টি’ খুঁজে পাই আমরা।
কিন্তু অসীম শক্তির অধিকারী হনুমান তথা বজরঙ্গবলী। শনির রোষানল থেকে এক মাত্র তিনিই পারেন রক্ষা করতে – এই বিশ্বাস থেকেই আমরা হনুমা চালিশা পাঠ, বজরঙ্গবলীর সাধন ভজন করে থাকি।