প্রতি পূর্নিমায় সত্যনারায়ন পুজো করুন

এমন অনেক বাঙালি গৃহস্থ আছেন, যাদের বাড়িতে পূর্নিমা মানেই বাড়িতে সত্যনারায়ন পুজো। পরিবার ও স্বজনদের কল্যানের জন্য এই পুজোর আয়োজনে থাকে নিষ্ঠা ও ভক্তি। পুরোহিত আসেন, পুজো করেন। অনেক বাড়িতে এই পুজোর পরে বাতাসার হরির লুঠ দেওয়া হয়।
এই মুহুর্তে বাঙালির একেবারে হৃদয়ের এই পুজো হয়তো প্রতি পূর্ণিমায় অনুষ্ঠিত হয় না। কিন্তু সত্যনারায়নের সিন্নি বাঙালির বাড়িতে অত্যন্ত শুভ ও কাঙ্ক্ষিত এক প্রসাদ।
সত্যনারায়ন পুজো বা নারায়ন পুজো, ধনী দরিদ্র সবাই করতে পারে। এই পুজোয় তেমন বাহুল্য নেই। খুব সহজেই এই পুজোর আয়োজন করা যায়। নিজের সাধ্য মতো যে কোনও পূর্নিমায় করা যায় সত্যনারায়নের পুজো ও সিন্নি। বাড়ির পরিবেশে শান্তি ও সমৃদ্ধি বজায় রাখতে অনেকে প্রতি পূর্নিমায় এই পুজো করে থাকেন। তবে সে সংখ্যা এখন কমে গেছে। নানা পারিপার্শ্বিক কারনে অনেক গৃহস্থ বাড়িতেই আর প্রতি পূর্ণিমায় সত্যনারায়ন পুজো হয় না।
সত্যনারায়ন পুজোর তেমন কঠিন নিয়ম কিছু নেই। পুজোর আগে স্বাভাবিক ভাবেই পুজোর স্থান ভাল করে পরিষ্কার করে নিতে হয়। যেখানে ঘট পাতা হবে, সেখানে আলপনা দেওয়া হয়। সুন্দর করে ফুল দিয়ে সাজালেই হবে। ঘটে আমপাতা, শিস ডাব দিতে হয়। অনেকেই ঘটে ও ডাবে স্বস্তিক চিহ্ন এঁকে দেয়। আর আমপাতা বিজোড় সংখ্যায় দেওয়াই শুদ্ধ। পাতায় দিতে হবে সিঁদুরের ফোঁটা।
সত্যনারায়ন পুজোর নৈবেদ্যর তেমন বাহুল্য কিছু নেই। একটি থালায় তিনটি জায়গায় একটু করে চাল, ও তার সঙ্গে কলা, বাতাসা, অন্যান্য ফল, তার ওপর সিকি মানে কয়েন, পঞ্চ শস্য এসব দিয়ে সাজাতে হয়। পঞ্চ শস্য মানে পাঁচ রকম শস্য। এই ভাবে একটি থালায় তিনটি ও আরেকটি থালায় পাঁচটি নৈবিদ্য সাজিয়ে রাখতে হয়।
একটি গামলায় ময়দা, গুড়, দুধ, খোয়া ক্ষীর, একটু নারকেল কোরা, কাজু, কিশমিশ ঠাকুরের সামনে রাখতে হবে সিন্নির জন্য। ঠাকুর মশাই পুজোর অন্তে সিন্নি তৈরি করবেন। এছাড়াও নারায়ণের ছবির দু’পাশে দুটো পান পাতা ও তার ওপর একটা সুপারি, একটা কয়েন, একটা কলা রাখতে হয়। ।
ঠাকুর মশাই পুজোর জন্য নারায়ন শিলা সঙ্গে করেই আনেন। পুজোর শুরুতে সেই শিলা স্থাপন করে নেন। নারায়ণ শিলা স্থাপন করে ও নারায়ণ দেবতাকে প্রণাম জানিয়ে পূজা শুরু করা হয়। সঙ্গে মা লক্ষ্মীকেও ফুল দিয়ে প্রণাম জানানো হয়।
এরপর সমস্ত আয়োজন তাঁকে নিবেদন করার পালা। এই সাধারণ পূজার পর অঞ্জলি। অঞ্জলি শেষ হয়ে গেলে হোম। হোম-যজ্ঞের জন্য ছোট ছোট করে বেশ কয়েকটি হোমের কাঠ,একটি পাত্রে ঘি, ৫১টি বেলপাতা, একটি লাল চেলি কাপড়, একটু দুধ একটি কলা ও একটি সন্দেশ এবং হোমকুণ্ড প্রস্তুত রাখতে হয়।। যজ্ঞ শেষে দুধ ঢেলে যজ্ঞ শেষ হবে। এবং সবার কপালে থাকবে যজ্ঞের টিপ ।
যে কোনও দশকর্মার দোকানে বারায়ন পুজোর সামগ্রী পাওয়া যায়।
এটিই হল নারায়ণ পূজার নিয়ম।