মহাদেবের শ্মশান-জীবন, নন্দীভৃঙ্গীর মতো সাগরেদ। তাঁর বহিরঙ্গের জীবন-যাপন দেখে দেবাদিদেব শিবকে জামাই হিসেবে পেয়েও রতন চেনেননি মহারাজ দক্ষ। উলটে মহাদেব শিবকে অপমান করার জন্য এক যজ্ঞের আয়োজন করেন। সেখানে ইচ্ছাকৃত ভাবে শিব ছাড়া সমস্ত দেবতাকে আমন্ত্রণ জানান দক্ষ।
শিবহীন যজ্ঞের কোনও মূল্য নেই। কিন্তু সেইটেই করতে গেলেন, অহংকারী মহারাজ দক্ষ।
দক্ষ কন্যা দাক্ষায়নী সতী, দেবাদিদেব শিবকে চিনেছেন অন্তর থেকে। বাপের প্রবল অমতে বিয়ে করে শ্মশানবাসী শিবের গৃহিনী হয়েছেন। বাপের বাড়ির যজ্ঞে তার স্বামী তথা নিখিল বিশ্বের মহাশক্তিকে আমন্ত্রণ না জানানোয় ব্যথিত চিত্তে যজ্ঞের দিন অকুস্থলে উপস্থিত হন। মহারাজ দক্ষকে প্রশ্ন করেন এমন অন্যায়ের কারণ কী?
দক্ষ, নিজ কন্যার ওপর এতই রুষ্ট হয়েছিলেন, তৎক্ষণাৎ উপস্থিত গন্যমান্য দেবতা ও অথিতিদের সামনে শিবের নামে ভীষণ নিন্দা শুরু করেন। স্বামীর নিন্দা সহ্য করতে না পেরে যজ্ঞস্থলেই আত্মাহুতি দেন সতী।
খবর যায় শিবের কাছে। শোকার্ত, রাগত, ক্রুদ্ধ, অভিমানী শিব এইবার যজ্ঞস্থলে এসে ভন্ডুল করে দেন দক্ষের সাধের শিবহীন যজ্ঞ। ত্রাহি রবে উপস্থিত অভ্যাগতরা পলায়ন করেন। মহাদেবের ক্রোধাগ্নিতে জ্বলে পুড়ে ছাড়খার হয়ে যায় যজ্ঞস্থল।
শিব সতীর প্রানহীন দেহ তুলে নেন কাঁধে। শোকে বিহ্বল তিনি। প্রবল ক্রোধে মেদিনী দাপিয়ে সৃষ্টি ধ্বংসের খেলায় মেতে ওঠেন তিনি।
দেবতারা ভীত ও সন্ত্রস্ত হয়ে ভগবান বিষ্ণুর শরণাপন্ন হয়ে কাতর আবেদন করেন, প্রভু, শিবের সংহার মতি একমাত্র আপনিই নিয়ন্ত্রনে আনতে পারেন। মহাদেবকে শান্ত করা আপনি ছাড়া আর কারো পক্ষে সম্ভব নয়।
এ জগত সৃষ্টি হয়েছে তাঁরই লীলায়। ভগবান বিষ্ণু এবার সৃষ্টির আসন্ন প্রলয় রোধ করতে ব্যবহার করেন সুদর্শন চক্র।
সতীর প্রানহীন দেহ কাঁধে উন্মত্ত ও সংহারী মহাদেবকে শান্ত করার উপায় তখন একটিই। তা হলো, সতীর দেহটিকে যে করেই হোক মহাদেবের স্কন্ধ থেকে বিচ্যুত করা।
ভগবান বিষ্ণুর সুদর্শন চক্র সতীর দেহ টুকরো টুকরো করে শিবের স্কন্ধ থেকে পৃথিবীর বুকে পতিত হতে থাকে। ভগবান বিষ্ণু ৫১টি টুকরো করে দেন মাতা সতীর প্রানহীন দেহ।
আমাদের হিন্দু পৌরানিক কাহিনি গুলি অসামান্য। সতীর এই দেহ খন্ড গুলিই আমাদের আরাধ্য দেবতা, তথা অত্যন্ত পূন্যস্থান, তীর্থ ক্ষেত্র, ৫১টি সতীপীঠ।
মা সতীর শরীর, স্বাভাবিক ভাবেই ছিল অলংকারে ভূষিতা। ফলত, ওই ৫১টি খন্ডের মধ্যে এই অলংকার রাশিও পড়ে।