স্মৃতিবেলা

ছোট্ট পায়ে হাঁটতে শেখা, আঁকড়ে ধরা হাত,
মায়ের তখন প্রতি ক্ষণে দেয়া সকল সাথ।

হাত ছাড়লেই যেতাম পড়ে, টলটলে সেই পা,
মুহূর্তেই কাঁধটা দিত, দৌড়ে এসে মা।

বাবা এসেই খুঁজতো আমায়,কোথায় গেলি তুই,
লুকোচুরি জমতো ভালই, স্মৃতি ভেবেই রই।

স্কুল এ যাবার দিনটা বড় মনে পড়ে আজ,
কান্না ভরা ফুলকো ঠোঁটে, নষ্ট হতো সাজ।

পালা তখন বড় হবার, বই খাতার ওই ভাঁজ,
সময় কিছু বদল হল, পড়াশোনাই কাজ।

যখন আমি কলেজ যেতাম, নতুন রাস্তা ধরে,
মা তখন বোঝালো আমায়, বাস্তব টা ঠিক করে।

মেয়ে হয়েছ সময় মতো, বদলে যাবে কাল,
জীবনটাকে মানতে হবে মিলিয়ে টক ঝাল।

দায়িত্ব টা বোঝাই যে ভার, বাবার আদর জালে,
আবদার টা মিটেই যেত, সুখের বেড়া জালে।

বড় হবার দিনটা যখন এলো জীবন মাঝে ,
বিয়ের পিঁড়ি বুঝিয়ে দিল দায়িত্বটাই সাজে।

বিয়ের সেই নতুন পাওয়া, রোমাঞ্চকর মন,
দায়িত্ব টা নিয়েই নিলাম, হয়ে প্রিয়জন।

ছেলেবেলার দিনগুলো সব চিন্তা বিনা মন,
প্রিয়জনের স্ত্রী রূপে যে , পেলাম নব জীবন।।

ভুলে গেলাম পায়ে পায়ে হাঁটা প্রথম দিন,
বাস্তবেরই চাপে তখন আমি স্মৃতি হীন।

হটাৎ যখন কোলে এলো আমার সোনার ধণ,
প্রাণটা তখন জুড়িয়ে গেলো, উৎসাহ ভরা মন।

হাতে নিয়ে পেলাম তখন নতুন আশ্বাস,
কষ্ট ব্যাথা ভুলেই তখন, স্বস্তির নিশ্বাস।

সে যে আমায় মনে করায় ছেলেবেলার দিন,
পায়ে পায়ে হেঁটে যখন নাচে তা ধিন ধিন।

দেখতে পেলাম আবার সেই স্মৃতির উঠোন খানি,
মা বাবা যে উজাড় করে দিয়েছে জীবন দান- ই