শুধু প্রাকৃতিক বা ভৌগোলিক দিক নয়, ভাষা-বর্ণ-জাতি সম্প্রদায়গত দিক থেকেও নানা বৈচিত্র্যের স্বর্ণভান্ডার উত্তরবঙ্গ। এই উত্তরবঙ্গের স্বাতন্ত্র্য ব্রিটিশ শাসনকাল থেকেই নানাভাবে প্রশাসনিক প্রয়োজনেই স্বীকৃতি লাভ করেছে। তাই পশ্চিমবঙ্গের ভেতরেই বর্তমান মালদহ, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি, দার্জিলিং, কোচবিহার — এই ছয় জেলা নিয়েই আমাদের উত্তরবঙ্গ। এই উত্তরবঙ্গ স্বাধীনতা পরবর্তী খন্ডিত উত্তরবঙ্গ।
কয়েক শতাব্দী ধরে এই উত্তরবঙ্গের নানা অংশের ওপর দিয়ে একের পর এক জনপ্রবাহের স্রোত প্রবাহিত হয়ে কিছু না কিছু প্রভাব রেখে গেছে। বর্তমান উত্তরের ভাষা বৈচিত্র্যের মূলে প্রধান কারণ হিসেবে নানা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কারণ আছে। মূল কারণ নানা জাতি ও গোষ্ঠীর মানুষের অভিবাসন বা স্থানান্তরীকরণ। দ্বিতীয় কারণ, চা-বাগিচা এবং ভূমি উদ্ধারের প্রয়োজনে প্রায় গোটা ভারত থেকে শ্রমশক্তির আগমন। তৃতীয় কারণ, জীবন-জীবিকার সঙ্গে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে চা-বাগিচা ও অরণ্য নির্ভর কাঠ ও অন্যান্য ব্যবসাসূত্রে ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়, জাতি ও জনজাতির আগমন। এছাড়াও বহুবিধ কারণ বর্তমান। রেললাইন ও পথঘাট নির্মাণসূত্রে এসেছেন বিপুল শ্রমিক সমাজ। তাই গোটা উত্তরবঙ্গের মতো শব্দ ও ভাষা বৈচিত্র্য নির্ভর অঞ্চল ভাষাচর্চাকারী মানুষের কাছে এক বিস্ময়কর সম্ভাবনার উৎস। যাঁরা এখানে একদা ছিলেন বহিরাগত, তাঁরাও পরে এই অঞ্চলকে তাদের মাতৃভূমি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য, আবার ঐক্যের মধ্যে বৈচিত্র্য উত্তরবঙ্গের ভাষা ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে একটা প্রধান লক্ষণ। ড. চারুচন্দ্র সান্যালের ভাষায় ‘বৈচিত্র্যের সমন্বয় ঘটেছে এই নতুন সংস্কৃতিতে। নানান ভাষা-ভাষী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মানুষের রয়েছে নিজস্ব লোকসাহিত্যের ভান্ডার যা মুখে মুখে প্রচারিত হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে বংশানুক্রমিকভাবে — এক থেকে অপরের মধ্যে ছড়া-প্রবাদ-প্রবচন, ধাঁধা, লোককথা, গান, গীতিকা, নাটক, পালাগান প্রভৃতির প্রচলন রয়েছে বিভিন্ন ভাষার জনগোষ্ঠীর মধ্যে যার গুরুত্ব কোনওভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই।’ এই বিষয়ে ড. বরুণ কুমার চক্রবর্তী উল্লেখ করেছেন এই ভাবে ‘গণতন্ত্রের সংজ্ঞার অনুসরণে লোকসাহিত্য সম্পর্কে বলা যায় যে সাহিত্য লোকেদের জন্য, লোকেদের দ্বারা, লোকেদের নিয়ে সৃষ্ট তাই লোকসাহিত্য। স্বভাবতই এখানে লোক শব্দটি কিছু ব্যাখ্যা আবশ্যক। ইংরেজীতে যাকে Folk বলা হয় বাংলায় তাকেই আমরা লোক বলে থাকি। এক সংহত সমাজের মানুষ একইরূপ ভৌগোলিক পরিবেশে, একই ঐতিহ্যকে স্বীকার করে নিয়ে কমবেশি যখন একই মানের জীবনযাত্রা নির্বাহ করে তখন সংহত সমাজের সদস্যরা ‘লোক’ আখ্যায় ভূষিত হয়।’
এইসব বিভিন্ন ভাষা-ভাষী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিজেদের লোকসাহিত্যের বিভিন্ন আঙ্গিকের বাইরে বর্তমান সময়ে এই অঞ্চলে লিখিতভাবে সাহিত্য চর্চার একটা প্রবণতা অবশ্যই লক্ষ করা যায়। যদিও সীমিত ভাবে হলেও — নানা প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও, লিখিত সাহিত্যচর্চা শুরু হয়েছে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে।
মূলত ছোটনাগপুর মালভূমি তথা বৃহত্তর ঝাড়খন্ড অঞ্চলে এই সাদরি ভাষা উদ্ভূত ও বিকশিত হয়েছে। বিহার, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, অসম ও মধ্যপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সাদরি ভাষা-ভাষী জনগণের সংখ্যা আনুমানিক এক কোটির ওপর। উত্তরবঙ্গের চা-বাগিচা অঞ্চল, সুন্দরবন, দুই চব্বিশ পরগণা, বাঁকুড়া, মানভূম, পুরুলিয়া, মালদহ ইত্যাদি বেশ কয়েকটি জেলায় কয়েক লক্ষ মানুষ এই ভাষায় কথা বলেন। উত্তরবঙ্গ ও অসমে মূলত চা-বাগান তথা চা চাষের সূত্রে বা জঙ্গল হাসিল ও রেললাইন পত্তনের সূত্রে ইংরেজ আমলে ব্যাপক সংখ্যায় এই অঞ্চলে বিভিন্ন অস্ট্রিক ও দ্রাবিড় ভাষা-ভাষী জনজাতির মানুষেরা এসে উপনিবিষ্ট হয়েছেন। এই সব জনগোষ্ঠীর মানুষেরা নিজেদের ভাষা গোষ্ঠীর বাইরে একটি সংযোগকারী ভাষায় কথা বলেন — তার নাম সাদরি। যে সব গোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা নেই বা বিলুপ্তি ঘটেছে, সাদরি তাদের মাতৃভাষা। যাদের নিজস্ব গোষ্ঠী-ভাষা আছে, সাদরি তাদের কাছে দ্বিতীয় মাতৃভাষা। বেদিয়া, লোহার, চামার, রবিদাস, ঋষি, তুরী, মহালী, নাগেশিয়া, হো, রাজগোড়, গোন্দ, নাইক, কাহার, ভুঁইঞা, বরাইক, চিক বরাইক, মাঝি প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে সাদরি যেমন মাতৃভাষা, তেমনি সাঁওতাল, মুন্ডা, ওরাওঁ প্রভৃতি জনগোষ্ঠীর মানুষের কাছে নিজস্ব মাতৃভাষা থাকা সত্ত্বেও সাদরি তাদের কাছে দ্বিতীয় মাতৃভাষা। নানা গোষ্ঠীর মানুষের পারস্পরিক প্রয়োজনের তাগিদেই সাদরি ভাষার ব্যাপক ব্যবহার।
ছোটনাগপুর অঞ্চলে এই ভাষা সাদরি, সাদানী, নাগপুরিয়া-সাদানী নামে পরিচিত। এছাড়াও এর কয়েকটি আঞ্চলিক নাম আছে, যা আসলে সাদরির উপভাষা। পশ্চিমবঙ্গ ও অসমে এই ভাষাকে সাদরি বলে। সাদরি, সাদানী এই বিতর্কে ড. সমীর চক্রবর্তীর মতে— ‘সাদরি ও সাদানীর মধ্যে কোন মৌলিক পার্থক্য নেই। বস্তুত সাদরিকে হিন্দি ভাবাপন্ন করে তথাকথিত শিষ্ট সমাজের গ্রহণযোগ্য ভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে অথবা সাদরি বা সাদানীর বিভিন্ন আঞ্চলিক রূপকে একই সংস্কারের মধ্যে আনতে গিয়ে সাদরি ও সাদানীর কৃত্রিম বিভাজনের ধারণাটি জন্মলাভ করতে পারে।’ অনেক গবেষক আঞ্চলিক এই সংযোগকারী সাদরি ভাষাকে পূর্ণাঙ্গ ভাষার মর্যাদা দিতে এগিয়ে এসেছেন। গবেষক ড. সমীর চক্রবর্তীর মতে, - ‘সাদরি কেবল জলপাইগুড়ি জেলার ভাষা নয় — লোকভাষাও নয়। লোকভাষার স্তর পেরিয়ে এই ভাষা শিষ্ট ভাষায় পরিণত হয়েছে। মূলত ছোটনাগপুর মালভূমি তথা বৃহত্তর ঝাড়খন্ড অঞ্চলে উদ্ভুত ও বিকশিত হয়ে স্বতন্ত্র পূর্ণাঙ্গ ভাষায় উন্নীত হয়েছে। বাংলার মতো সাদরিও আধুনিক আর্যমূল ভারতীয় ভাষা।’
এই সাদরি ভাষাতেও লিখিত ভাবে সাহিত্য চর্চার সূচনা হয়েছে বেশ কিছু দিন ধরে এই অঞ্চলে। আমাদের আলোচনার বিষয় সাদরি সাহিত্যচর্চা। সাদরি ভাষায় লোকসাহিত্যের ভান্ডার যথেষ্ট সমৃদ্ধ। অনেক কিছুই হারিয়ে যেতে বসেছে। সাদরি ভাষায় লোকসাহিত্যের অন্যতম আঙ্গিক হিসেবে রয়েছে — ছড়া, ধাঁধা, সঙ্গীত, লোককথা, গীতিকা, নাটক ইত্যাদি। এখানে সংক্ষেপে সাদরি লোকসাহিত্যের কিছু নিদর্শন তুলে ধরা হল। তবে আমাদের আলোচনা মূলত উত্তরবঙ্গে প্রচলিত সাদরি ভাষার বিষয়ে।
ধাঁধা লোকসাহিত্যের অন্যতম একটি আঙ্গিক, যার মধ্যে প্রতিফলিত হয় গ্রামীণ জীবনের বহু বিচিত্র অভিজ্ঞতা এবং সেই অভিজ্ঞতার সাহায্যে সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করাই ধাঁধার লক্ষ্য। ধাঁধাকে সাদরি ভাষায় বলা হয় ‘বুঝেয়ের’।
একটি উদাহরণ -
১। যাথিস তো যাথিস ২। ম্যাঁয় ঝগড়াহি
মোর কানকে কালে বেটি সুন্দরাহি।
এইঠকে যাতিস। উঃ- পাকল মরচাই।
উঃ- তালাচাবি।
৩। রাজাকর বাস্তামে ৪। ঘর আছে দুরানাখে
রাজা যাইক নি পাবেনা ? রাত আছে আদমি নাখে।
কা-হেকে ? কা-হেকে ?
উঃ- আইগ (আগুন)। উঃ- রেডিও।
লোকায়ত সাহিত্যচর্চায় ছড়ার অবদান অনস্বীকার্য। ছড়া হল সর্বপ্রকার প্রকাশভঙ্গির সর্বজনস্বীকৃত চিরাচরিত ভঙ্গি। সাদরি ভাষা-ভাষী মানুষের মধ্যেও ছড়ার প্রচলন রয়েছে। নানা বিষয় নিয়েই ছড়া হতে পারে। এখানে দুটি সাদরি ছড়ার উল্লেখ করা হল -
সুপুলি ডুবডুবা, ডুবালের সারাথি
দে তো মোরা বোসোরি
গোড় ডুবডুবা ডুবালেরে সারাথি
দেতো মোরা বোসারি।
অর্থাৎ - পায়ের পাতা জলে ডুবডুব
সাথি আমায় ডুবিয়ে দে রে জলে
বাজাই আমি বাঁশি
এখন আমার পা ডুবডুব
তুইও সাথি ডুবিয়ে নে রে পা
দে তো আমার বাঁশি
আমাই বাজাই।
কিংবা আরও একটি ছড়া এই প্রকার -
ইচির মিচির ধান চির চির
খয়েরা কুকুর দূরে দূরে
পাহাড় তরে মুরগি বোলে
রেশম কাটে, কাঁকড়াকে কুচা
বাংলা - মাঠে ধান পেকেছে। খয়েরি রঙের কুকুর, পাখির উৎপাত থেকে ফসল বাঁচাতে খেত পাহারা দিচ্ছে। পাহাড়ের তলায় মুরগি ডাকছে। সে দাঁতে কাটছে রেশম গুটি।
সঙ্গীতের বহুল প্রচার রয়েছে সাদরি ভাষী মানুষের মধ্যে। মুখে মুখে প্রচারিত এইসব বিভিন্ন বিষয় নিয়েই হতে পারে। পূজা-পার্বণ উপলক্ষ্যে সঙ্গীত, বিবাহের সময় সঙ্গীত, ডাঁটা-খেলা বা ডাঁটা নৃত্যের বিষয়ে গীত সহ অন্যান্য নানাবিধ লোকসঙ্গীতের উল্লেখযাগ্য প্রচলন রয়েছে সাদরি ভাষায়। লোকসাহিত্যের ক্ষেত্রে যার গুরুত্ব কোনও অংশে কম নয়। এখানে দুটি সঙ্গীতের উল্লেখ করা হল। এখানে উল্লেখ্য যে, মূলত মৌখিক সাহিত্য বলে সাদরি গানের অঞ্চলভেদে তারতম্য ঘটে। একটি অতিথি আপ্যায়নের গান এই প্রকার -
আয় গেলাক গড়িয়া, ডিমায় দেলি পাটিয়া অঙ্গনায়
মুনমুন মুনমুন হাঁড়ি পিলি কোই না মাতলঁয়
পিঠাবোঠা হাঁড়িসে খায়ে ছৌয়ামন মাতলঁয়
মুনমুন হাঁড়িপিলি কোই না মাতলঁয়।
অর্থাৎ - গড়িয়া অর্থাৎ স্বগোত্রের আত্মীয়েরা এসে পড়েছে। আঙিনায় বিছিয়ে দিলাম পাটি। মুনমুন, অর্থাৎ মন কে মন অর্থাৎ গান্ডেপিন্ডে হাঁড়িয়ে মদ খেয়েও কেউ মাতাল হল না। কিন্তু ছিটেফোটা মদ খেয়ে বাচ্চারা মাতাল হয়ে গেল।
কিংবা, একটি সভাগীত বা বিয়ের গান এক প্রকার -
মারুয়া কা তরে তরে কা বাজা বাজেল
বিহা বাজা বাজারে কনিয়া মাইয়া কান্দে
বেড়েগুড় ঢাক বাজে, কা বাজা বাজে
বিহা বাজা বাজে রে কনিয়া মাইয়া কান্দে
অর্থাৎ -
মন্ডপের তলায় তলায় কীসের বাজনা বাজে রে
বিয়ের বাজনা বাজে রে বিয়ের কনে কাঁদে
ঢাক গুড়গুড় ঢাক বাজে, কীসের বাজনা বাজে রে
বিয়ের বাজনা বাজে রে বিয়ের কনে কাঁদে।
একটি জনগোষ্ঠীর মানুষের বংশ পরম্পরায় মুখে মুখে প্রচলিত গল্পকে সাধারণত লোককথা বা Folk Tale বলা হয়। এই লোককথা বা লোককাহিনীতে সাধারণত মানবজীবন ও সমাজের ছবি যেমন থাকে তেমনি থাকে নানা অজানা ইতিহাস এবং সমাজের বিভিন্ন বিষয়ের গল্পই এতে থাকে। গবেষকরা বলেন - যে জাতি যত বিচিত্র বিষয়ক লোককথার জন্ম দেয় সে জাতি তত বেশি সাংস্কৃতিক চেতনায় সমৃদ্ধ - সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে কতকগুলি সুনির্দিষ্ট মৌলিক বিষয়বস্তু বা অভিপ্রায় বা মোটিভ অবলম্বন করেই দেশ-দেশান্তরের এক জাতীয় লোককথা রচিত হয়। ফলে চীন দেশের রূপকথার গোলরুটি ভারতের রূপকথার অন্য কোনও খাদ্যবস্তু হয়ে ওঠে। তবে জীব-জন্তু বিষয়ক লোককথা পৃথিবীর সব দেশেই পাওয়া যাবে।
সাদরি লোককথার ভান্ডার অসামান্য। অনেক সময় আপন ভাষাগর্ভেই তার জন্ম। আবার অনেক সময় পরিত্যক্ত ভাষাগোষ্ঠীগুলি থেকে এবং প্রতিবেশী ভাষাগুলি থেকে অনেক গল্প কিছুটা রূপান্তরের মধ্য দিয়ে সাদরি গল্প-ভান্ডারে স্থান করে নিয়েছে। এইসব লোককথার মুখ্য বৈশিষ্ট্য সাদরিভাষীদের জীবন ও সংস্কৃতির প্রতিফলন - যা অরণ্য, কৃষি, শিকার, পশুপালন ইত্যাদি উপাদাননির্ভর। এর অতিরিক্ত যা কিছু তা প্রক্ষিপ্ত। কয়েকটি লোককথার শিরোনাম এই প্রকার— (১) শুয়ৈরকের বংশবৃদ্ধি (২) শেয়াল-বাকিলা (৩) রাজা বেটামনকর গুইঠ (৪) পঁচমারোয়া বুড়া (৫) সাতমার পালোয়ান (৬) বোকা পাজি কলু ও বুদ্ধিমান শেয়াল (৭) ছেগরেকার বুদ্ধি (৮) দুধকার পুকুর ইত্যাদি। তবে অভিপ্রায় বা মোটিভের দিক থেকে জীবজন্তু, প্রতারণা, চালাক ও বোকা, জাদু, অদৃশট বা কপাল এবং সমাজ ইত্যাদি সাধারণত দেখা যায় এইসব লোককথায়।
প্রবাদ একটি বিশেষ জনগোষ্ঠীর বহুদিনের অভিজ্ঞতার একটি সংহত ফসল। কিন্তু তার প্রকাশ ঘটে অতি সংক্ষিপ্ত চকিত চমকে বিশেষ বিশেষ অভিব্যক্তির মধ্যে। উত্তরবঙ্গে বসবাসকারী সাদরিভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রবাদের প্রচলন রয়েছে। সাদরি লোক সাহিত্যের ক্ষেত্রে প্রবাদ এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। তবে এই বিষয়ে আরও ব্যাপক অনুসন্ধান প্রয়োজন। কয়েকটি প্রচলিত সাদরি প্রবাদ এখানে উল্লেখ করা হল -
১। গাছে কঠর ওঠে তেল। অর্থাৎ - গাছে কাঁঠাল গোঁফে তেল। অতিরিক্ত লোভ।
২। বুড়া সময় মে সা-রে-গামা। অর্থাৎ - মরার সময় হরিনাম করা।
৩। ছিটকাল পানি বাঝাল বাত। অর্থাৎ - তিলকে তাল করা।
৪। পাকাল ধানলে মই দেওয়েক। অর্থাৎ - বিনা কারণে কারো ক্ষতি করা।
৫। গাত রাক সুখ, পেটাক দুখ। অর্থাৎ - অলস ব্যক্তির কপালে দুঃখ থাকে।
সাদরিই লোকসাহিত্যের এইসব আঙ্গিকের বাইরে গিয়ে এই সাদরি ভাষাতে এই অঞ্চলে লিখিতভাবে সাহিত্যচর্চা শুরু হয়েছে বেশ কিছুদিন ধরে। তবে ব্যাপক অনুসন্ধান এখনও শুরু হয়নি, এ কথা অবশ্যই বলা যায়।
সাহিত্যচর্চার উদ্দেশ্য নিয়েই সাদরি ভাষায় প্রকাশিত হয় এই অঞ্চল থেকে বেশ কয়েকটি ছোট পত্রিকা। তবে অধিকাংশ পত্রিকাই বেশি দিন স্থায়ী হয়নি স্বাভাবিক নিয়মেই। এইসব পত্র-পত্রিকার মধ্যে সেই সাদরি ভাষায় লিখিতভাবে সাহিত্যচর্চার প্রথম প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়। ছয়ের দশকে জলপাইগুড়ি শহর থেকে সুবোধ সেনের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সাদরি পত্রিকা ‘একতা’। সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি চা শ্রমিক আন্দোলনের খবরও এই পত্রিকায় প্রকাশিত হতো। ১৯৭২ সালে ডুয়ার্স অঞ্চল থেকে প্রকাশিত হয় ‘সঙ্গী’ পত্রিকা। প্রথম প্রকাশিত পত্রিকা হিসেবে ‘সঙ্গী’কে চিহ্নিত করা হয়ে থাকে।
১৯৮১ সালে হ্যামিল্টনগঞ্জ থেকে প্রকাশিত হওয়া ‘নাওয়া-পড়হা’। মালবাজার লক্ষী পুস্তক ভান্ডার থেকে প্রকাশিত হয় সাদরি পত্রিকা ‘নয়া ইনজোত’ পত্রিকা। এই সময় রাজাভাতখাওয়া থেকে প্রকাশিত হয় ‘আওয়াজ’ পত্রিকা। ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত হয় ‘দীয়া’ পত্রিকা। উদ্যোক্তা ছিলেন কোলা বড়াইক, সমীর চক্রবর্তী, অভিজিৎ রায় প্রমুখ। রায়মাটাং চা বাগান থেকে প্রকাশিত হয় সাদরি পত্রিকা - ‘ডুয়ার্স দর্পণ’। সম্পাদক ছিলেন হরি কুজুর। অমর দীপ হোরো-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘আদিবাসী টাইমস’ পত্রিকা সাদরি ভাষায়। নাওয়া-ডহর পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন হরি কুজুর। কালচিনি থেকে ‘আগুয়া’ পত্রিকা জয় কুমার পাহানের সম্পাদনায় দীর্ঘদিন প্রকাশিত হয়েছে। দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে নেহরু ওরাওঁ-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় সাদরি পত্রিকা - ‘নাগরা’। দক্ষিণ দিনাজপুরে শান্তনা ওরাওঁ-এর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ‘ইনজোর’ পত্রিকা (২০১৫)। শান্তনা ওরাওঁ -এর গল্পগ্রন্থ ‘ডাইনি-যুগিনী’ প্রকাশিত হয় দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে। ‘জিড্ডি’ কাব্যগ্রন্থ সুনীল তিরকির লেখা প্রকাশিত হয় দক্ষিণ দিনাজপুর থেকে। এছাড়া ‘আন্ধার সে দিয়া’ - একাঙ্ক নাটক লিখেছেন নেহরু ওরাওঁ। ‘নাওয়া বিহান’ (২০০০ সাল) পত্রিকাও প্রকাশিত হয় নেহরু ওরাওঁ-এর সম্পাদনায়। এদের সাথে লেখালেখিতে যুক্ত ছিলেন— নেহরু ওরাওঁ, রবি ওরাওঁ, মন্টু ওরাওঁ, সঞ্চে খেসসে, ছিদু ওরাওঁ, শান্তনা ওরাওঁ, সঞ্জু কুজুর, শ্যামলী ওরাওঁ প্রমুখেরা। ‘করম ডাইর’ সাদরি পত্রিকা প্রকাশিত হয় কোহিনূর চা বাগান থেকে প্রশান্ত লোহারের সম্পাদনায় (ষান্মাসিক)। গারোপারা থেকে মোহিপ নাগ প্রকাশ করেছেন কাব্যগ্রন্থ ‘বীর পাইক’।
‘সঙ্গী’ পত্রিকার সম্পাদনার সাথে যুক্ত ছিলেন দুখিয়া মাহালি এবং চন্দন লাল লোহার প্রমুখ। ‘আগুয়া’ পত্রিকার সাথে গল্প, প্রবন্ধ রচনায় যুক্ত ছিলেন শান্তি মুর্মূ, সীমা ওরাওঁ, কানু ওরাওঁ। কালচিনি থেকে সাদরি ভাষায় বীরসা মুন্ডার জীবনী প্রকাশ করে রাম কুমার রাণা। সাদির গদ্য ও পদ্য রচনার ক্ষেত্রে এই সমস্ত পত্রিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করেছিল - সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।
১৯৬১ সালে আলিপুরদুয়ার মহকুমার দক্ষিণ চেংমারী গ্রামের সীতারাম মিনজ্, মানিক পান্না, সবিতা কুজুর যৌথভাবে একটি গীতি সংগ্রহ প্রকাশ করেন কুরুখ এবং সাদরি ভাষায়। বইটির নাম রাখা হয় ইংরেজীতে এবং প্রথম তিন পৃষ্ঠা ছাপা হয় রোমান হরফে। বইটির নাম Reverse Climate। আলিপুরদুয়ার শহিদ মেশিন প্রেস থেকে প্রকাশিত হয় ‘নাগপুরিয়া সঙ্গী’ কাব্যগ্রন্থ। কবি রাম কুমার কুজুর। দাম ১ টাকা। দেবনাগরী হরফে ছাপা ‘নাগপুরিয়া সঙ্গী’ আধুনিক সাদরি গীতি সংকলন। কবি রাম কুমার কুজুর এই অঞ্চলের সাদরি ভাষার একজন অন্যতম বিশিষ্ট কবি। ১৯৭০ সালে দেবনাগরী হরফে ছাপা হয়ে প্রকাশিত হয় ফ্রান্সিস এক্কা রচিত কাব্যগ্রন্থ ‘ক্রুশকের রাস্তা’। সেটা শহিদ মেসিন প্রেস থেকে প্রকাশিত হয়। ‘ক্রুশকের রাস্তা’ গ্রন্থটিকে গাথা না বলে কাব্যনাট্য বলাই সঙ্গত বলে এই বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। Reverse Climate-এ প্রকাশিত সীতারাম মিনজ-এর কবিতার একটি অংশ এই রূপ -
‘‘হাজারি ডাবলি কামালা
রুপিয়া পইসা করলা
চুপি চুপি সিনেমা যালারে
লুইক লুইক পান বিড়ি পিয়ালা।’’
‘নাগপুরিয়া সঙ্গী’ কাব্যগ্রন্থে কবি রামকুমার কুজুর চা বাগানের তরুণ-তরুণীদের প্রতি আহ্বান জানান এইভাবে -
তিশ বছর আজাদী হোলয়, সুখ দিন নাহি আলয়
সোনা সময় ফাওয়ে যাথে রহলি নিন্দায়।
উঠু উঠু যাও সবে, আইখকে খুলুয়ারে
সমাজকে খোল সবে, রহলি ভুলায়।
‘ক্রুশকের রাস্তা’ কাব্যগ্রন্থে ফ্রান্সিস এক্কার রচনার একটি অংশ এইরূপ -
আয়াগো মরিয়ম, হামার কারণে
তোর দশা এইসন আয়ো
না ঘিনাও হামকে, না ফেঁকদে হামকে আয়ো।
হাথ জোড়ল দয়া মাঙ্গোল তোর ঠিনা আয়ো
না ঘিনাও হামকে, না ফেঁকদে হামকে আয়ো।
বাংলা হরফে সাদরি ভাষায় এই অঞ্চল থেকে প্রথম নাটক প্রকাশিত হয় ১৯৭০ সালে। নাম ‘রৌরেমন’। লিখেছেন গাঙ্গুটিয়া চা বাগানের সনৎ চট্টোপাধ্যায়। বাংলা হরফে সাদরি ভাষায় সনৎ চট্টোপাধ্যায় আরও কয়েকটি নাটক রচনা করেছেন। যেমন - ‘হামরেকের লড়াই’, ‘ওঝা মতিকের আন্ধার’, ‘আঁধার খে চাঁদ’, ‘আট ঘন্টাকের লড়াই’, ‘ডাইন’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। সাদরি নাটক রচনার ক্ষেত্রে বিমল টপ্পো একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব। কার্তিকা মিশন হাই স্কুলের শিক্ষক বিমল টপ্পোর প্রথম সাদরি ভাষার নাটক হলো—‘বড়াভাই’। ‘নয়া ডহর’ বিমল টপ্পোর প্রথম পূর্ণাঙ্গ সাদরি নাটক। এছাড়া ‘ঘরেয়া গুইট’ অনুবাদ নাটকও যথেষ্ট প্রশংসার দাবি রাখে। মালবাজারের ভারতীয় গণনাট্য সংঘ ‘হলাবোল’ নাটকটিরও সাদরি ভাষায় অনুবাদ করে অভিনয় করেছেন। সাদরি নাটক রচনার ক্ষেত্রে রতিয়া ওরাওঁ, জগন্নাথ লোহার, ললিত ন্যাসুর, রাজেন্দ্র লোহার, রাম কুমার রাণা, বিমল টপ্পো, নেহেরু ওরাওঁ উল্লেখযোগ্য নাম। দক্ষিণ দিনাজপুরের নেহেরু ওরাওঁ-এর নাটক ‘ওরাওঁ বনাম সাওতাল’ বিশেষ উল্লেখযোগ্য। বাবুলাল কুজুর রচিত সাদরি নাটক ‘হামরেকের দিলগি’ আদিবাসী নাটক প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পেয়েছে। এছাড়া বাবুলাল কুজুরের পথ নাটক ‘ভোটরঙ্গ’, ‘অহরে ময়’ উল্লেখযোগ্য।
নিদামঝোরা চা বাগানের কবি ও বেতার শিল্পী পাদুমেহর এবং বানারহাটের সঙ্গীত শিল্পী মহঃ লতিফ প্রকাশ করেছেন সাদরি ভাষায় সঙ্গীতের সংকলন পুস্তিকা। সাদরি ভাষায় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় গল্প এবং প্রবন্ধ রচনার ক্ষেত্রে ক্ষুদিরাম পাহান, জামা পান্না, ভুখন্ড বরাইক, জয় কুমার পাহান, যোহন মাহালি, প্রশান্ত লোহার, নেহেরু ওরাওঁ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নেহেরু ওরাওঁ ইতিমধ্যেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গীতাঞ্জলি সাদরি ভাষায় অনুবাদ করেছেন। প্রকাশ করেছেন ‘সাদরি শব্দকোষ’ প্রায় পাঁচ হাজার শব্দ নিয়ে এই শব্দ কোষ প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়া ‘লোকগীতি সংগ্রহ’, ‘হুরেধ’ নামে একটি কাব্যগ্রন্থও তিনি সাদরি ভাষায় প্রকাশ করেছেন।
সাদরি ভাষায় কবিতা চর্চার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্যভাবে এই অঞ্চলে যারা এগিয়ে এসেছেন তাঁরা হলেন — রামকুমার রাণা, জামা পান্না, প্রশান্ত লোহার, সন্তরায় রাণা, রাজেন্দ্র লোহারা, অর্জুন ইন্দোয়ার, সুখু লাকড়া, দূর্গা কিন্ডু, হরি কুজুর, পদুমেহর রাম মাহালি, হেনরিজ খাড়িয়া, শুকরা মুন্ডা, বিরসা খালকো, সুরেশ বড়াইক, সুদর্শন কুজুর, কানু ওরাওঁ, জহল মাহালি, সীমা কুজুর, কিরণ টপ্পো, লছমী ইন্দুয়ার, ব্যাঞ্জামিন খালকো, সনজু কুজুর বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। কবি প্রশান্ত লোহারার একটি সাদরি কবিতা এখানে উল্লেখ করছি।
কাম করেক যা আবা
সিটি লাগো য়ে
হাঁড়ি পিয়েক কাম করেক
পারবি নেহি তোয়
ইস্কুলের বড়া মাস্টার
মোকে কহলয়।
অর্থাৎ - ‘‘বাবাগো কাজ করতে যাও / কারখানায় কাজের ভো অনেক বেজেছে / আর আর বাজবে না / বেশি মদ খেলে বাবা / কাজ করতে পারবে না / স্কুলের মাস্টার মশায় / আমাট বলেছেন।’’
সাদরি সাহিত্যচর্চার ক্ষেত্রে সাদরি ভাষার চারণ কবি-গীতিকার লালশুকরা ওরাওঁ-এর অবদান অবশ্যই উল্লেখযোগ্য। তাঁর রচিত লোক কবিতা এবং গান সাদরি ভাষার এক অমূল্য সম্পদ। চালসা-বাতাবাড়ির এই চারণ কবির একটি কবিতা এখানে উল্লেখ করছি -
জেল গেলি ফাটাক গেলি
তেও নাহি আজাদ পালি
গুলি খালি লাঠি খালি
তেও নাহি স্বাধীন পালি
ঘরে নাখে আন কিরে
কেইসে বাঁচে প্রাণ।
কেইসে পোষব ছাওয়া পুঁতা
কেইসে মিটাব ঋণ বাড়ান
ঘরে নাখে আন কিরে
কেইসে বাঁচব প্রাণ।
এইভাবেই এই অঞ্চলের সাদরি ভাষার সাহিত্যচর্চার প্রয়াস এগিয়ে চলেছে। নানা প্রতিকূল অবস্থার মধ্য দিয়েই আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্যচর্চা হয়ে থাকে। সীমিত ভাবে হলেও চর্চা কখনো থেমে থাকে না — এটাই আশার কথা।সাহিত্যচর্চার হলেও তা প্রকাশ করার মাধ্যম প্রায় নেই বললেই চলে। ইদানিং কালে উত্তরবঙ্গের কিছু লিটল ম্যাগাজিনে খুব সীমিতভাবে হলেও আঞ্চলিক সাহিত্য প্রকাশের সুযোগ লক্ষ্য করা যায়। ‘ভাষা-বিভাষার কবিতা’ - গ্রন্থের মধ্য দিয়েও আঞ্চলিক ভাষার কবিতা প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। আগামী দিনে নানা আঞ্চলিক ভাষার সাহিত্যচর্চার সাথে সাদরি ভাষার সাহিত্যচর্চাও এগিয়ে যাবে। আশাবাদী মানুষ হিসেবে এই কামনাই আমরা করি।
তথ্যসূত্র -
১। চা বলয়ের সংস্কৃতি - ড. সমীর চক্রবর্তী
২। সাদরি আদিবারি চা শ্রমিকের ভাষা - ড. সুধীর কুমার বিষ্ণু
৩। ডুয়ার্সে আদিবাসি সাহিত্য চর্চা - প্রমোদ নাথ
৪। বাঙলা ও সাদরি যমজ ভগিনী - ড. সমীর চক্রবর্তী
ক্ষেত্র সমীক্ষায় সহযোগিতা করেছেন -
১। বাবুলাল কুজুর - চালসা
২। বিমল টপ্পো - কার্তিক চা বাগান
৩। রাম মাহালি - ভাতখাওয়া চা বাগান
৪। নেহরু ওরাওঁ - দক্ষিণ দিনাজপুর
৫। গেন্দ্র লোহার - কোহিনুর চা বাগান
৬। প্রশান্ত লোহারা - কোহিনুর চা বাগান।
লেখক : উত্তরবঙ্গের জনজাতি চর্চার এক বিশিষ্ট গবেষক।