জনজাতি সংস্কৃতিতে বুরু পূজা — ঐতিহ্য ও পরম্পরা - শিবশঙ্কর সিং

    জনজাতি সংস্কৃতিতে বুরু অর্থাৎ পাহাড়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। বুরু সাঁওতালি (অষ্ট্রিক) শব্দ; যার অর্থ হল টিলা, ডুংরি বা পাহাড়। সাঁওতালি ও মুন্ডারি লোকগাঁথায় বুরু-পাহাড়কে দেবতা রূপে বর্ণনা করা হয়েছে। বাংলা-ঝাড়খন্ড সীমান্তে বসবাসকারী আদিম-অরণ্যচারী, মূলবাসী-জনজাতিরা বিশ্বাস করে, আস্থা রাখে তাদের দেবতা পাহাড়ে অবস্থান করে। জনজাতিদের ধর্মীয় ভাবনায় ‘মারাং বুরু’ - বড় পাহাড় অন্যতম শ্রেষ্ঠ দেবতা। তাই জনজাতীয় ধর্মীয় ভাবনায় বুরু অর্থাৎ পাহাড় অন্যতম পূজ্য লৌকিক দেবতা।
    সীমান্তের বিচিত্র জনজাতিরা ১লা মাঘ আখ্যান যাত্রার শুভ দিনে বুরু পূজোর মধ্যে দিয়ে নববর্ষকে স্বাগত জানায়। এই পূজার উদ্দেশ্য হলো—রোগ, শোক, ভয়, বিপদ, ক্ষয়, ক্ষতি ইত্যাদি বিষয় থেকে মুক্তি। মড়ক, মহামারি থেকে রক্ষা এবং সুবৃষ্টি ও আগামী বছরের ভালো ফসল প্রত্যাশাও বুরু পূজার অন্যতম উদ্দেশ্য। সীমান্ত বাংলার বিশেষ করে — পুরুলিয়া, বাঁকুড়া ও মেদিনীপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জানা-অজানা পাহাড়ে — সাঁওতাল, মুন্ডা, ভূমিজ, কুঁড়মি, ওঁরাও, শবর, খেড়িয়া, লোধা, পাহাড়িয়া, বীরহড়, বাগাল সহ অসংখ্য জনগোষ্ঠী তাঁদের নববর্ষের প্রথম দিনে ১লা মাঘ তারিখে বুরু পূজার আয়োজন করে থাকে।
    ক্ষেত্রানুসন্ধানে জানা যায়, পুরু পূজা হিসাবে পুরুলিয়া জেলার বাঘমুন্ডি থানা এলাকায় — ১. অযোদিয়া বুরু, ২. মাঠা বুরু, ৩. ডাড়কা বুরু, ৪. দিগারডি বুরু, ৫. বুকা বুরু, ৬. গড়গা বুরু; বলরামপুর অঞ্চলে — ১. কানহা বুরু, ২. কেরোয়া বুরু, ৩. গজা বুরু, ৪. হাটিং বুরু, ৫. বুষুব বুরু, ৬. ডেলডা বুরু; বান্দোয়ান অঞ্চলে — রৌইকা বুরু; ঝালদা থানার সেঁওয়াতি বুরু এবং বাংলা ঝাড়খন্ড সীমান্তে দলমা বুরু, লুগু বুরু, লাকাই বুরু, গারবা বুরু বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এছাড়া ঝাড়গ্রাম মহকুমার পশ্চিম সীমান্তে অধুনা ঝাড়খন্ড রাজ্য সংলগ্ন কানাইশ্বর পাহাড়ে ফি বছর জনজাতিরা আষাঢ় মাসে পাহাড় পূজা করে থাকে। এই পূজাকে কেন্দ্র করে এক সুবিশাল জনজাতি মেলা বসে। বাংলা-ঝাড়খন্ড-উড়িষ্যার জনজাতি পুরুষবর্গ বিশেষত সাঁওতালরা বিশেষভাবে উপস্থিত হয়। মূলত কৃষি মরশুমের শুরুতে সফল কৃষিকার্যের জন্য সুবৃষ্টির কামনায় জনজাতিরা এই পাহাড় পূজা করে থাকে। পুরুলিয়ার মানবাজার থানার দামোদরপুর - গোপালনগর হঢার বারঘুটু গ্রামে স্থানীয় শবররা আখ্যান দিনে ও আষাঢ় মাসের রথযাত্রার দিনে পাহাড়কে জগন্নাথ রূপে পূজা করে। বৈশাখ মাসের বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে আযোদিয়া বুরুতে দিশম সেঁদরা উপলক্ষে জনজাতি পুরুষবর্গ সুতৌন টান্ডি সংলগ্ন থানে বুরু পূজার আয়োজন করে থাকে। ঐতিহ্য মেনে ফি বছর সেঁদরাই নামার পূর্বে দিহরির পরিচালনায় নায়কে বুরু পূজা সম্পন্ন করে। সিন্দুর চর্চিত পাথর খন্ডকে বুরু দেবতা হিসাবে পূজা করা হয়। বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত জনজাতি পুরুষেরা এই বুরু পূজায় উপস্থিত থাকে। ভিন্ন ভিন্ন রঙের একাধিক মোরগ ও পাঁঠা ছাগল বলি দেওয়া হয় বুরু দেবতার থানে। সেঁদরা বীর পুরুষদের শিকার অভিযানকে সাফল্যমন্ডিত করা এবং শিকার প্রক্রিয়ায় সমস্ত রকম বিপদ থেকে জনজাতি পুরুষদের রক্ষা করে নিরাপদে গ্রামে ফিরে আনার লক্ষ্যে বুরু দেবতার থানে কুড়ৌম নায়কে বন্দনা করেন —
        ‘‘জহার গঁসাই বুরু বঁগা
        নঅয় সেঁন্দরা ঞুতুমতে
        টড়ঃ রাসালে এমাম কান
        চালাম কান গঁসায়
        সুকতে সাঁওয়ারতে
        আতাং কাঃ তেলা কাঃ মে
        নায় বাড়ে নাপায় বাড়ে গঁসাই.....’’ ১
    মানভুম - জঙ্গলমহলের বুরু পূজা অতি প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত রয়েছে। বুরু পূজায় পুজারী হিসাবে সাঁওতাল-ভূমিজ-মুন্ডা-শবর-বীরহড়-বাগাল সম্প্রদায়ের লোকেরা নিযুক্ত রয়েছেন। স্থানীয়ভাবে এরা দিহরি-লায়া-নায়া-নায়কে-পাহান প্রভৃতি ভিন্ন ভিন্ন নামে পরিচিত। বুরু পূজায় কোন প্রকার দেববিগ্রহ পরিলক্ষিত হয় না। জনজাতিরা স্থানীয় বুরু অর্থাৎ পাহাড়কে দেবতাজ্ঞানে পূজা করে থাকে। সাধারণভাবে দেখা গেছে পাহাড়ের সর্বোচ্চ চূড়ায় বুরু দেবতার অধিষ্ঠান এবং সেখানেই বুরু পূজা সম্পন্ন হয়ে থাকে। পূজার ধার্য দিনের পূর্বের সন্ধ্যায় পুজারী লায়া শুদ্ধ চিত্তে পূজার স্থানটিকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে শুদ্ধ করে তোলেন এবং নতমস্তকে দেবতার কাছে পরের দিনে পূজো করার অনুমতি চান। পূজোর দিন সকালবেলায় লায়া স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্রে পূজাস্থলটিকে গোবর লেপন দ্বারা পবিত্র করে তোলেন এবং বিভিন্ন প্রকার বনজ পাতা, ফুল, দূর্বা ঘাস, ধূপ, দীপ সহযোগে বুরু পূজো সম্পন্ন করেন। নৈবেদ্য হিসাবে বাতাসা, গুড়, কলা, মিঠাই, মন্ডা ও বিভিন্ন প্রকার ফল ব্যবহৃত হয়। দেবতার নামে মহুল ফুলের উত্তেজক পানীয় ‘রসি’ উৎসর্গ করা হয়। দেবস্থলে দেবতার নামে মানত করা সাধ্যমত পায়রা, মুরগী, ছাগল, ভেড়া বলি দেওয়ার প্রথা প্রচলন রয়েছে। ঘাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে বুরু পূজায় শুকর বলি দেওয়ার প্রথা চালু আছে। জনজাতিরা অনেক সময় বাড়িতে পায়রা পোষ মানানোর জন্য বুরু পূজোয় পায়রা মানত করে থাকে। মানত করা একজোড়া পায়রাকে দেবতার কাছে উৎসর্গ করে আকাশে ছেড়ে দেওয়ার সংস্কার রয়েছে। এছাড়া পোড়া মাটির হাতি-ঘোড়ার মূর্তি — ‘ছলন’ নিবেদনও বুরু পূজার আবশ্যিক সংস্কার। থানে স্তুপাকারে পড়ে থাকা হাতি ঘোড়ার মূর্তিগুলি প্রত্যক্ষ করলে তা সহজেই বোঝা যায়।
    সীমান্ত বাংলার বিভিন্ন জনজাতিদের মধ্যে বুরু পূজার প্রচলন থাকলেও জনজাতি বাগাল ও বীরহড়দের পাহাড় পূজা অবশ্যই ভিন্নধর্মী এবং বিশিষ্টতার দাবী রাখে।
    বাগালদের পাহাড় পূজা — আখান যাত্রার দিনে প্রত্যেক বাগাল পরিবারে পাঁঠা ছাগল বা লাল মোরগ বলি দিয়ে বুরু পূজা অনুষ্ঠিত হয়। ঐ দিন বাগাল সম্প্রদায়ের লোকেরা উই ঢিপিকে পাহাড়ের ‘প্রতীক’ হিসাবে কল্পনা করে পাহাড় পূজা করে থাকে। বাগালদের বিশ্বাস, তাদের পূর্বপুরুষেরা একদা পাহাড়ে বসবাস করত। সেই সময়ে হিংস্র জন্তু-জানোয়ারদের হাত থেকে বুরু ঠাকুর তাদেরকে রক্ষা করত। বর্তমানে বাগাল সম্প্রদায় পাহাড় থেকে সমতলে থিতু হলেও প্রথাটি আজও সমান ভাবে রয়ে গেছে। বাগালরা পাহাড় পূজোর সময় বুরু ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা জানায়, তাদের গৃহে ও কৃষি জমিতে যেন কোন ভাবেই উই পোকার আক্রমণ না ঘটে।
    বীরহড়দের বুরু পূজা — বীরহড়রা (বাঘমুন্ডি) মাঘ মাসের প্রথম দিকে বুরু পূজা করে থাকে। এদের কাছে বুরু পূজা ‘মাঘী পূজা’ বা ‘সাঘি বোঙ্গা’ নামে পরিচিত। বুরু পূজায় বীরহড়রা শিকার প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত - জাল, তীর-ধনুক, তরোয়াল সহ নানা অস্ত্রশস্ত্রকে বুরু দেবতার থানে পূজা করে থাকে। বীরহড়দের বুরু পূজায় তাৎপর্য ও উদ্দেশ্য প্রসঙ্গে ভূপতিপল্লীর চুনু শিকারী জানান যে, ‘‘আদিম অরণ্যচারী বীরহড়রা নিত্যদিন খাদ্য সংগ্রহের তাগিদে পাহাড় জঙ্গলে যায়; সেখানে শিকার প্রক্রিয়ায় যাতে কোন প্রকার বাধা বিঘ্ন বা দুর্ঘটনা না ঘটে তার জন্য বীরহড়রা পাহাড়কে দেবতাজ্ঞানে পূজা করে থাকে।’’২ বীরহড়দের বুরু পূজায় পৌরহিত্য করেন ‘নায়া’। ভূপতিপল্লীতে নায়া হিসাবে নিযুক্ত রয়েছেন টেম শিকারী (১০০)। বীরহড়দের বুরু পূজায় অযোধ্যা পাহাড় ও ঝাড়খন্ডের নানা পাহাড়ের নামে অবশ্যই একটি সাদা ও একটি লাল মোরগ বলি দেওয়ার প্রথা রয়েছে। নায়া একাধিক পাহাড়ের নামে বুরু পূজা করে থাকেন — ১। আযোদিয়া বুরু, ২। কুহুক বুরু, ৩। জিলগা বুরু, জ্ঞ। গজা বুরু, ৫। চুইলি বুরু, ৬। মাঠা বুরু, ৭। কুকু বুরু, ৮। গাড়িগেৎ বুরু, ৯। টড়দা ঘাট বুরু, ১০। জিলিং ডাহার বুরু, ১১। বিদুকোচা বুরু, ১২। শুকরী বুরু, ১৩। চাড়রি বুরু, ১৪। দলমা বুরু, ১৫। লুগু বুরু বিশেষভাবে উল্লেখ্য। লায়া ধূপ, দীপ সহযোগে ফল, মূল দ্বারা বুরু পূজা করে থাকেন। বীরহড়দের টোলার প্রতিটি পরিবার পিছু দুটি করে মোরগ সংগৃহীত হয় বুরু পূজার জন্য। বুরু পূজা সমাপ্ত হলে পশু পক্ষীর মাংস সহযোগে খাওদা দাওয়ার পাট চুকিয়ে বীরহড়রা ধামসা মাদল বাজিয়ে নৃত্য গীতে মেতে ওঠে।
    মানভূম-পুরুলিয়ার বিভিন্ন পাহাড়ে অনুষ্ঠিত বুরু পূজাগুলির মধ্যে বাঘমুন্ডি ব্লকের ‘মাঠা বুরু’র পূজা জাঁকজমকে ও জনপ্রিয়তার নিরিখে শ্রেষ্ঠতম। ১লা মাঘ আখ্যান যাত্রার পবিত্র দিনে স্থানীয় ভূমিজ সম্প্রদায়ের লায়া (পদবী - সিংমুড়া) দ্বারা বুরু পূজা সম্পন্ন হয়। লায়া কর্মু সিং জানান যে, ‘‘পৌষ সংক্রান্তির দিনে পাত্রে জল এনে বুরু ঠাকুরের জন্য ভাত রান্না করে নতুন হাঁড়িতে বাখর (একজাতীয় নেশা দ্রব্য) দিয়ে রাখা হয়। পূজার দিন ভোরবেলায় পূজার প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র জোগাড় করা হয়। চালগুড়ি দিয়ে পূর্বের দিনে আনা জলে তিনটি পিঠা সিদ্ধ করা হয়। হুডুম চিড়া (হাতে তৈরী চিড়া) দিয়ে ও ভাত স্থাপন করে একমনে বুরু ঠাকুরকে আহ্বান করা হবে উহার থানে। মাটির ভাড়ে সিঁদুর দিয়ে চালগুড়ি মাখিয়ে পিঠা তিনটি সাজানো হয়। তারপর একটি ডালাতে নানা দ্রব্য সাজিয়ে বুরু ঠাকুরের কাছে স্থাপন করা হয়।’’৩ ধূপ, দীপ, মন্ডা মিঠাই, বনজ ফুল সহযোগে লায়া বুরু পূজা করে থাকেন। পূজায় প্রচুর ছাগ বলি হয়। মাঠায় বুরু পূজাকে কেন্দ্র করে পাহাড়তলিতে এক বিরাট মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। ছৌ-নাচ ও নাচনি নাচের আসর বসে। আখ বিক্রি হয় প্রচুর। মেলায় জনজাতিরা অধিক সংখ্যায় উপস্থিত থাকলেও স্থানীয় সমস্ত সম্প্রদায়ের লোকেরাও সমানভাবে সামিল হয়ে থাকে। পার্শ্ববর্তী ঝাড়খন্ড রাজ্য থেকে প্রচুর পুরুষ-মহিলা এই ধর্মীয় মেলায় উপস্থিত হয়। আগত মানুষজন পাহাড়ি রাস্তা ধরে সর্বোচ্চ শিখরে অবস্থিত মাঠা বুরুর কাছে নতুন বছরের শুভ কামনাসহ পরিবারের মঙ্গল কামনা করে থাকে। পূজার প্রাচীনত্ব সম্পর্কে পূজারী লায়া জানিয়েছেন, ‘‘সঠিক সময়কাল লিপিবদ্ধ না থাকলেও মাঠা বুরুর পূজা যে দীর্ঘ সময় ধরে চলে আসছে তা তিনি তাঁর বাপ-ঠাকুরদার মুখে শুনেছেন।’’৪
    বাংলা-ঝাড়খন্ড সীমান্তে বসবাসকারী বিচিত্র জনজাতিদের আর্থ-সামাজিক কাঠামোই নানাক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন পরিলক্ষিত হলেও, বুরু পূজার প্রতি জনজাতি-আদিবাসী মানুষদের শ্রদ্ধা ও ভক্তি যে পূর্ণ মাত্রায় অটুট রয়েছে, তা বুরু পূজাগুলি প্রত্যক্ষ করলে সহজেই উপলব্ধি করা যায়। বোঝা যায়, বুরু অর্থাৎ পাহাড় জনজাতিদের ধর্মীয় ভাবনার পাশাপাশি জীবন-জীবিকা এবং অস্তিত্ব রক্ষার সাথে কতটা নিবিড়ভাবে সংযুক্ত। পন্ডিতরাও সহমত পোষণ করে জানিয়েছেন, অনার্যদের বুরুপূজা, প্রস্তর ও লিঙ্গ পূজা থেকেই শিবলিঙ্গ পূজার উদ্ভব। শিবও আদিতে অনার্য দেবতা। অতুল সূর লিখছেন, ‘‘হিন্দুসভ্যতার গঠনের মূলে বার আনা ভাগ উপাদান অনার্য আর বাকি চার আনা ভাগ আর্য।’’৫ ঐতিহ্য মেনে তাই আজও জনজাতি গোষ্ঠীর মানুষজন বুরুর প্রতি তাদের মায়া-মমতাকে ত্যাগ করতে পারেনি। স্বাভাবিক নিয়মেই তাঁরা বছরের নির্দিষ্ট দিনে বুরু পূজার মাধ্যমে পাহাড়ের সাথে তাদের একাত্মতা ও গভীর মমত্ববোধকেই তুলে ধরে। সেই সূত্রেই বাংলা-ঝাড়খন্ড সীমান্তের অসংখ্য পাহাড়ে আয়োজিত হয় বুরু পূজা। আর এখানেই জনজাতিদের বুরু পূজার যাবতীয় মহিমা ও সার্থকতা।
তথ্য সূত্র -
১।    বৈশাখ বুদ্ধপূর্ণিমা - ৩০শে বৈশাখ, বুধবার, ১৪২১, সাঁওতালী বুদ্ধিজীবী কলেন্দ্রনাথ মান্ডির 
    কাছ থেকে সংগৃহীত। স্থান- অযোধ্যা পাহাড়-সুতৌনটান্ডি।
২।    সাক্ষাৎকার - চুনু শিকারী, ২২শে মাঘ, শুক্রবার, ১৪২১; স্থান- ভূপতিপল্লী, বাঘমুন্ডি।
৩।    সাক্ষাৎকার - কর্মু সিং সর্দার (ভূমিজ), ১লা মাঘ শুক্রবার, ১৪২১; স্থান- মাঠা পাহাড়, 
    বাঘমুন্ডি।
৪।    ঐ
৫।    অতুল সুর, হিন্দু সভ্যতার নৃতাত্তিক ভাষ্য। ১৯৯৮, কলিকাতা সাহিত্যলোক পৃ-১২।
ক্ষেত্র সমীক্ষা -
১।    মাঠা বুরু, বাঘমুন্ডি, ১লা মাঘ, শুক্রবার, ১৪২১।
২।    কেরোয়া বুরু, বলরামপুর, ১লা মাঘ, শনিবার, ১৪২২।
৩।    হাটিং বুরু, বলরামপুর, ১লা মাঘ, শনিবার, ১৪২২।
৪।    অযোদিয়া বুরু, বাঘমুন্ডি, বৈশাখী বুদ্ধ পূর্ণিমা, ৩০শে বৈশাখ, বুধবার, ১৪২১। 
সাক্ষাৎকার -
১।    চুনু শিকারী (৫৫), ভূপতিপল্লী, বাঘমুন্ডি, ৯ই আশ্বিন, শুক্রবার, ১৪২১। 
২।    টেম শিকারী (১০০), ভূপতিপল্লী, বাঘমুন্ডি, ৯ই আশ্বিন, শুক্রবার, ১৪২১।
৩।    দুর্যোধন রাউত (৪৫), হলদিপুকুর ঘাটশিলা, ২০শে ভাদ্র, শনিবার, ১৪২১।
৪।    কলেন্দ্রনাথ মান্ডি (৬০), পত্রিকা সম্পাদক, সিলি, পুরুলিয়া, ২৮শে ফাল্গুন, শুক্রবার, 
    ১৪২১।
৫।    মহাদেব হাঁসদা (৫৫), পত্রিকা সম্পাদক, তেঁতরে, বান্দোয়ান, পুরুলিয়া, ১৪ই চৈত্র, 
    রবিবার, ১৪২১।