কোল তথা হো ভাষার গান ও কবিতা ও বাংলা অনুবাদ — রূমুল - কার্তিকচন্দ্র বাআঁদা

বিসিজী
অকয় অকয় গা আম দিলি ল্যাড্ ম্যায়া
অকয় অকয় গা আম কুল্যা ল্যাড্ ম্যায়া ?
নুগুম অআঃ র‍্যা গা আম স্যাট্যার ল্যানা,
    বিসিঃ আদিঙ র‍্যা গা আম আসরা ল্যানা।
দুনুমী এ্যাঁগাঞ তাঞা দিলি ল্যাড লিঞা
জরঙ জুল্ সিঁগী আপুঞ কুল্যা ল্যাড লিঞা,
নুগুম অআঃ র‍্যা গাঞ স্যাট্যার ল্যানা,
    বিসিঃ আদিঙ র‍্যাগাঞ আসরা ল্যানা।
চিমিন চিমিন দিন্যাম আমরা ল্যানা
আসরা দিলাঙ কর‍্যাম চ্যানাঃ চিকা ক্যানা ?
নুগুম অআঃ র‍্যা গাম স্যাট্যার ল্যানা,
    বিসিঃ আদিঙ র‍্যা গাম আসরা ল্যানা।
আপি সায় গ্যাল্যা দিন্যাঞ আসরা ল্যানা
চাঁড়ুঃ মুলুঃ ক গ্যাঞ ল্যান্যাকা ক্যানা
হিসিমি তিআঁর ক গ্যাঞ সানুতি ক্যানা
    বিসিঃ দুআর ক গ্যাঞ পানাতি ক্যানা।
চিলিকা চাঁড়ুঃমাত্যাম ল্যান্যাকা ক্যানা,
ল্যান্যাকা চানাব আম্যাম চ্যানাঃ চিকা ক্যানা ?
নুগুম অআঃ র‍্যাগাম স্যাটার ল্যানা
    বিসিঃ আদিঙ র‍্যা গাম আসরা ল্যানা।
মাগ্যা বাদি পারম স্যাঁদ্যারা আপাল
বাপাল আচাড়া আর আত্যান আদর
কঅরা সুতুঃ র‍্যাগ্যা জনম চাঁড়ুঃ,
    জনম চাঁড়ু ; র‍্যাগ্যাঞ মুলুঃ ল্যানা।
অআঃ বাগ্যাত্যা আঞ হিয়াতিঙ ক্যানা
বাগ্যা দুকুত্যা আঞ ‘‘অআঁ’’ ক্যানা
দুনুমী এ্যাঁগাঞ তাঞ্যা আয়ুম ক্যানা
    সিঁগী আপুঞ তাঞ্যা আত্যান ক্যানা।

উৎস
আদিবাসী মানুষ প্রকৃতি প্রেমী। আর এই প্রকৃতি প্রেম সত্ত্বায় আদিবাসী মানুষের আধ্যাত্মিক বিশ্বাস চিরন্তন বিরাজ করে। এই রূপ ক্ষেত্রের উপর ভিত্তি করেই ভারতীয় আদিবাসী জনগোষ্ঠীদের মধ্য থেকে কোল তথা হো জনগোষ্ঠী সিঙবঁগা অর্থাৎ সূর্য্যদেবতাকে মানব সৃষ্টির স্রষ্টা আর দুনুমী অর্থাৎ পৃথিবীকে স্রষ্টার সঙ্গিনীরূপে গণ্য করে। তাই, এই কোল তথা হো জনগোষ্ঠী স্রষ্টা সিঙবঁগাকে পিতা এবং স্রষ্টা সঙ্গিনী দুনুমীকে মাতারূপে সম্মান জানায়, শ্রদ্ধা করে, চিরন্তন তাদের দ্বারা পূজিত হয়। অসীম বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের প্রাকৃতিক দুটি ক্ষুদ্র ক্ষেত্র যা সূর্য্য এবং পৃথিবী কোল তথা হো সমাজের বুকে আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের এক মিলনস্রোত। আর এই মিলনস্রোতের ক্ষেত্র থেকেই সৃষ্টি এই গান তথা কবিতাখানি।

সার কথা
এই গান তথা কবিতার সার কথা হলো — জননী পৃথিবীর নিমন্ত্রণে পিতা সূর্য্য কর্তার প্রেরিত বিসিজী এক অন্ধকার ঘরে এসে পৌঁছায়। আর সেই অন্ধকার ঘরের মধ্যে আর একটি ছোট্ট ঘর থাকে, যে ঘরটিকে বিসিঃ অর্থাৎ অচ্ছুৎ বলা হয়েছে, আবার এই ঘরটিকে আদিঙও বলা হয়েছে। আদিঙ হলো কোল জাতিভুক্ত প্রতিটি পরিবারের বাড়ীর ভিতর একটি ছোট্ট ঘর যে ঘরে অবশিষ্ট পরিবারের লোক বা স্ববংশীয় লোক ছাড়া অন্য কোন বংশের লোক প্রবেশে মানা থাকে। এখানে নিমন্ত্রিত বিসিজী সেই অচ্ছুৎ আদিঙ ঘরেই তিনশত দশ দিন আশ্রয় নেয়।এই তিনশত দশ দিন আশ্রয় কালে সে কয়েকটি কাজ করে থাকে, — এক, ক্রমে এক-এক করে মাস গুনতে থাকে, দুই — তার একুশটি অস্ত্র রয়েছে — সেই অস্ত্রগুলিকে যত্ন করে রাখে, 
তিন — সে সেই অন্ধকার ও অচ্ছুৎ ঘর থেকে বেরোনোর জন্য দরজা খুঁজে পায় এবং দরজা খুঁজে পাওয়ার সাথে সাথে হঠাৎ বেরিয়েই ‘‘অআঁ’’ বার্তার মধ্য দিয়ে সেই অন্ধকার-অচ্ছুৎ ‘‘ঘরের প্রতি টান’’-এর বার্তাই প্রকাশ করে।
শব্দার্থ
অকয় — কে, যে। গা — গো। আম — তুমি। দিলি — নিমন্ত্রণ। ল্যাড — এখানে — ‘‘করেছিল’’ অর্থে। ম্যায়া — তোমাকে সে। অকয় অকয় গা আম — কে, কে গো তোমায়। দিলি ল্যাড্ ম্যায়া — নিমন্ত্রণ করেছিল (তোমাকে সে)। কুল — পাঠানো। কুল্যা ল্যাড ম্যায়া — পাঠিয়েছিল (তোমাকে সে)। নুগুম — অন্ধকার। অআঃ — ঘর / বাড়ী। র‍্যা — তে / মধ্যে। স্যাটার — পৌঁছানো। ল্যানা — এখানে ছিল অর্থে। নুগুম অআঃ র‍্যা গা — অন্ধকার ঘরেতে গো। আম স্যাটার ল্যানা — তুমি পৌঁছেছিলে। বিসিঃ — জন্ম বা মৃত্যুর পরে যে অচ্ছুত আচার পালন করা হয়। আদিঙ — কোল জাতির প্রতিটি পরিবারে প্রত্যেক বাড়ীর মধ্যে একটি ঘর থাকে যে ঘরে পূজাপাশা করা হয়। সেই ঘরে সেই পরিবারের লোক বা স্ব-বংশীয় লোক ছাড়া অন্য কেউ প্রবেশে মানা থাকে। আসরা — আশ্রয়। বিসিঃ আদিঙ র‍্যা গা — বিসিঃ আদিঙ ঘরে গো। আম আসরা ল্যা না — তুমি আশ্রয় নিয়ে ছিলে বা নিয়েছো। 
অকয় অকয় গা আম দিলি ল্যাড্ ম্যায়া
অকয় অকয় গা আম কুল্যা ল্যাড্ ম্যায়া ?
নুগুম অআঃ র‍্যা গা আম স্যাট্যার ল্যানা,
    বিসিঃ আদিঙ র‍্যা গা আম আসরা ল্যানা।
— কে, কে গো তোমায় নিমন্ত্রণ করেছিল,
   কে, কে গো তোমায় পাঠিয়ে ছিল ?
   অন্ধকার ঘরেতে তুমি পৌঁছেছিলে
        বিসিঃ আদিঙ্যা তুমি গো আশ্রয় নিয়েছিলে।
দুনুমী — পৃথিবী। এ্যাঁগা — জননী, মাতা। এ্যাঁগাঞ — মা আমার। তাঞ্যা — এখানে ‘‘টি আমার’’। এ্যাঁগাঞ তাঞ্যা — (আমার) মা টি আমার। লিঞা — সে আমায় / সে আমাকে। দুনুমী এ্যাঁগাঞ তাঞ্যা — পৃথিবী মা টি আমার। দিলি ল্যাড লিঞা — নিমন্ত্রণ করেছিল (সে আমাকে)। জরাঙ — যুগ / কয়েকটি যুগের একটি যোগফল। ঝর ঝর করে জ্বলন বা ঝরা। জুল — জ্বলন। সিঁগী — সূর্য্য, তেজ। আপু — পিতা। আপুঞ — পিতা আমার। কুল্যা — ল্যাড লিঞা — পাঠিয়েছিল (আমাকে সে)।
দুনুমী এ্যাঁগাঞ তাঞ্যা দিলি ল্যাড লিঞা
জরঙ জুল্ সিঁগী আপুঞ কুল্যা ল্যাড লিঞা,
নুগুম অআঃ র‍্যা গাঞাম স্যাট্যার ল্যানা,
    বিসিঃ আদিঙ র‍্যা গাঞ আসরা ল্যানা।
— পৃথিবী মা-টি আমায় নিমন্ত্রণ করেছিল,
   যুগ যুগ ধরে ঝর ঝর করে জ্বলন সূর্য্য পিতা আমার
                                আমাকে পাঠিয়েছিল 
   অন্ধকার ঘরেতে আমি গো পৌঁছে দিলাম
    বিসিঃ আদিঙ্যা তে গো আশ্রয় নিয়েছিলাম।
চিমিন — কত। দিন — Day। দিন্যাম — দিন + তুমি। চিমিন চিমিন দিন্যাম — কত, কত দিন তুমি। আসরা ল্যানা — আশ্রয় নিয়েছিলে (তুমি)। দিলাঙ — দিন। ক র‍্যাম — গুলিতে তুমি। চ্যানাঃ — কি। চিকা — কি করা। ক্যানা — এখানে ‘‘করেছিলে’’। চিমিন চিমিন দিল্যাম — কত, কত দিন তুমি। আসরা দিলাঙ ক র‍্যাম — আশ্রয়ে থাকা দিনগুলিতে তুমি। চ্যানাঃ চিকা ক্যানা — কি করেছিলে।
চিমিন চিমিন দিন্যাম আমরা ল্যানা
আসরা দিলাঙ ক র‍্যাম চ্যানাঃ চিকা ক্যানা ?
নুগুম অআঃ র‍্যা গাআম স্যাট্যার ল্যানা,
    বিসিঃ আদিঙ র‍্যা গাআম আসরা ল্যানা।
— কত, কত দিন তুমি আশ্রয় নিয়েছিলে
   আশ্রয়ে থাকা দিনগুলিতে কি করতেছিলে
   অন্ধকার ঘরে গো তুমি পৌঁছেছিলে,
        বিসিঃ আদিঙ্যা গো তুমি আশ্রয় নিয়েছিলে।
আপি — তিন। সায় — শত। আপি সায় — তিন শত। গ্যাল — দশ। গ্যাল্যা (কবিতায়)। দিন্যাঞ — দিন + আমি। আপি সায় গ্যাল্যা দিন্যাঞ — তিনশত দশ দিন আমি। আসরা ল্যানা — আশ্রয় নিয়েছিলাম। চাডুঃ — চন্দ্র / মাস। মুলুঃ — সর্বপ্রথম রূপ। সর্বপ্রথম উদয়। ক — গুলো। একাধিক। ক গ্যাঞ — গুলোই + আমি। ল্যান্যাকা — গণনা করা। চাঁডুঃ মুলুঃ ক গ্যাঞ — চাঁদের প্রথম উদয়গুলোকেই। ল্যান্যাকা ক্যানা — গুনছিলাম। হিমিমি — একুশ। তিআঁর — হাতিয়ার। সানুতি — সাউতি — যতনে গুছিয়ে রাখা। দুআর — দরজা (Door)। পানাতি — খোঁজা, লাইন। হিমিমি তিআঁর ক গ্যাঞ — একুশটি হাতিয়ারগুলোকে আমি। সানুতি ক্যানা — যতনে গুছিয়ে রাখছিলাম। বিসিঃ দুআর ক গ্যাঞ — বিসিঃ দুয়ার গুলোকে খুঁজতেছিলাম।
আপি সায় গ্যাল্যা দিন্যাঞ আসরা ল্যানা
চাঁড়ুঃ মুলুঃ ক গ্যাঞ ল্যান্যাকা ক্যানা
হিসিমি তিআঁর ক গ্যাঞ সানুতি ক্যানা
    বিসিঃ দুআর ক গ্যাঞ পানাতি ক্যানা।
— তিন শত দশ দিন (ব্যাপী) আশ্রয় নিয়েছিলাম
   চাঁদের প্রথম উদয়কেই গুনতে ছিলাম
   একুশটি হাতিয়ারগুলোকে যতনে গুছিয়ে রাখতেছিলাম
    বিসিঃ দুয়ারগুলোকেই খুঁজতেছিলাম।
তিন শত দশ দিন — দশ মাস দশ দিন। চাঁডুঃ মুলঃ — অমাবস্যার পর চাঁদের প্রথম রূপ বা শরীর নিয়ে যে উদয়। এইরূপ উদয় মাসে এক বার হয়। অর্থাৎ সর্বপ্রথম একবার উদয় মানেই এক মাস।
চিলিকা — চিল্যাকা — কি রূপ / কেমন। মাত্যাম — ‘‘তুমি কে’’ এই ধরনের অর্থ দাঁড়ায়। চিলিকা চাঁডুঃ মাত্যাম ল্যানা কা ক্যানা — কি রূপে তুমি চাঁদ গুনছিলে অর্থাৎ মাসগুলো গুনছিল। চানাব — পিছন, পরে। আম — তুমি। আম্যাম — ‘‘তুমি বা তুমি নিজেই’’ এই ধরনের অর্থ দাঁড়ায়। ল্যান্যাকা কানার আম্যাম চ্যানাঃ চিকা ক্যানা — গণনার পর তুমি কি করছিলে।
চিলিকা চাঁড়ুঃমাত্যাম ল্যান্যাকা ক্যানা,
ল্যান্যাকা চানাব আম্যাম চ্যানাঃ চিকা ক্যানা ?
নুগুম অআঃ র‍্যাগাম স্যাটার ল্যানা
    বিসিঃ আদিঙ র‍্যা গাম আসরা ল্যানা। 
— কিভাবে চাঁদ তুমি গুনতে ছিলে
   গণনার পর তুমি কি করছিলে ?
   অন্ধকার ঘরেতে তুমি পৌঁছেছিলে,
    বিসিঃ আদিঙ্যা তুমি আশ্রয় নিয়েছিলে।
কোল জাতিতে এক বছরে যে বারো মাসের নাম রয়েছে, তা হলো — মাগ্যো, বাদি, স্যাঁদরা, আপাল, বাপাল, আচড়া, আত্যান, আদর, কঅরা, জনম, সুকন, সারদি।

চাই বাসা র‍্যান মাঈ তানিঃ
চাই বাসা র‍্যান মাঈ তানিঃ
এ্যালা দলা গা স্যাতাঞ তানাঃ
বঁগাল দিসুম দ চিমিন সানিঙ
ন্যা — জা ক্যা গ্যা কুলিঞ তানা
বঁগাল দিসুম র‍্যান বয়্অ তানিঃ
ন্যা জাক্যা গ্যা কয়ঃ তানা
বরঅ বান্অ তায় গিউঃ বান্অ
মুলুইঃ মুলুইঃ গা লাঁদায় তানাঃ
কালি মাটি র‍্যান পান কিলি
আঞাঃ তীর‍্যাগ্যা চিপুডাঞ তানা
সাব্যা চি কাঞ সাব্যা পান কিলি গা
    বরঅ ম্যাসা গিউঃইঞ তানা
জম্যা চি কাঞ জম্যা পান কিলি গা
    র‍্যাড় ক চি সুউমীঞ তানা।
টাটা বাজার র‍্যা জাপাগার ত্যাগ্যা
র‍্যাল্যা গাডি দ স্যাটার‍্যা এ্যানা
উদুর উপুদুর গাপাতি ত্যাগ্যা
র‍্যাল্যা গাডি র‍্যালিঙ দুব্যাএ্যানা
গুডু গুডুর না র‍্যাল্যা গাডি
ব্যাঙ্গল দিসুম পা নির‍্যা তানা
দারু বুরু গাড়ারির সাবি গা
    টাটা মুলি উসান তানা
গুডু গুডু গাডি ম্যান্যা গা
    বারিআনাডী মিড্যান তানা।
[     গুডু গুডু গাডি ম্যান্যা গা
    জার কঁড় ব্যাঙ্গল মিড্যান তানা,
গুডু গুডু গাডি ম্যান্যা গা
    বারিআ জী জিমিন তানা। ]

শব্দার্থ
চাইবাসা — অধুনা ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পশ্চিম সিংভূম জেলার ঐতিহাসিক একটি শহর। র‍্যান-এর। চাইবাসা র‍্যান — চাইবাসার। মাঈ — মেয়ে। মাঈ তানিঃ — মেয়েটি। এ্যালা — এসো। দলা — চলো। গা — গো। এ্যালা — দলা গা — এসো গো চলো গো। ম্যাতা — বলা। ম্যাতা +  আঞ = ম্যাতাঞ। আঞ — আমি, এখানে ‘‘আমাকে’’। ম্যাতাঞ তানা — আমাকে বলছে (সে)। বঁগাল — বঙ্গ /  বাঙলা। বঁগাল দিসুম — বাঙলা দেশ। দ — হয়, তো। চিমিন — কত। সানিঙ — দূর। ন্যা — জাক্যা — অবিরত। ন্যা — জাক্যা গ্যা — অবিরতই। কুলি — প্রশ্ন করা। কুলি +  ইঞ = কুলীঞ। ইঞ — আমি। এখানে আমাকে। কুলীঞ তানাঃ — আমাকে জিজ্ঞাসা করছে (সে)। বয়অ — কোন ব্যক্তির চেয়ে বয়সে কম পুরুষের প্রতি সম্বোধন সূচক শব্দ যা ‘‘বালক’’ রূপে অর্থ প্রকাশ হয়। বয়অ তানিঃ — এখানে যুবকটি। কয়ঃ — তাকানো। ন্যা-জাক্যা গ্যা কয়ঃ তানা — অবিরতই তাকাচ্ছে (সে)। বরঅ — ভয়। বান্অ — নেই। বরঅ বান্অ — ভয় নেই। বরঅ বান্অ তায় — ভয় নেই তার। গিউঃ — লজ্জা। গিউঃ বান্অ — লজ্জা নেই। মুলুইঃ — ছোট্ট। মুলুইঃ মুলুইঃ — ছোট্ট ছোট্ট, এখানে মুচকী। লাঁদা — হাসি। লাঁদায়—তানাঃ — হাসছে (সে)। মুলুইঃ মুলুইঃ গা লাদায় তানাঃ — মুচকী মুচকী হাসছে (সে)।
কালিমাটি — জামসেদপুরের আদি নাম। র‍্যান — র, এর। কালিমাটি র‍্যান — কালিমাটির। পান — পান, যা চুন, সুপারী, খয়ের ইত্যাদি যোগে খাওয়া হয়। কিলি — পানের মোড়ক। আঞাঃ — আমার। তী — হাত। তী র‍্যা গ্যা — হাতেই। চিপুড় — মুষ্টি। চিপুড + আঞ =  চিপুডাঞ। আঞ — আমি কিন্তু এখানে আমাকে বা আমার। চিপুডাঞ তানাঃ — আমাকে বা আমার মুষ্টিতে ধরিয়ে দিচ্ছে। সাব (সাঃব) — ধরা। চি-কি। কাঞ — আমি না। সাব্যাবি — কাঞ — ধরবো কি না। সাব্যা চি কাঞ সাব্যা — ধরবো কি — না ধরবো। র‍্যাঃড্ — শিকড়, ঔষধ। মুউনী — মোহিনী, কোন কিছু টোটকা বা কিছু দ্বারা মন ভুলিয়ে নেওয়া। বরঅ — ভয়। ম্যাসা — মিশানো। গিউঃ — লজ্জা। বরঅ ম্যাসা গিউঃ — ভয় মিশ্রিত লজ্জা। বরঅ ম্যাসা গিউঃ ইঞ তানা — আমার ভয় মিশ্রিত লজ্জা হচ্ছে। জম — খাওয়া। জম্যা চি কাঞ জম্যা — খাব কি — খাব না। ব্যাঃড্ ক চি মুচনীঞ তানা — ঔষধ করছে, না তার মোহিনী করছে।
টাটা — জামসেদপুরের আর এক নাম টাটা। এর আদি নাম হলো কালিমাটি। টাটা বাজার র‍্যা — টাটা বাজারে। জাপাগার — কথোপকথন। জাপাগার ত্যাগ্যা — কথোপকথন করতে করতে। র‍্যাল — Rail । গাডী — গাড়ী। র‍্যাল্যা গাডি — রেলগাড়ি। স্যাট্যার — পৌঁছানো। স্যাট্যার‍্যা এ্যানা — পৌঁছালো। উদুর — ঠেলা। উপুদুর — ঠেলাঠেলি। গাপাতি — পরস্পরের কাঁধের উপর হাত রেখে বা হাতে হাতে জড়াজড়ি। দুব — বসা। দুব্যা এ্যানা — বসল বা বসলাম। র‍্যাল্যা গাড়ি র‍্যালিঙ দুব্যা এ্যানা — আমরা দুজন রেলগাড়িতে বসে পড়লাম।