সরাকি ভাষা - সুলগ্না ভট্টাচার্য

    গ্রামে নতুন বউ আসে গরুর গাড়িতে। চার চাকার গাড়ী বিয়েতে খুব একটা পাত্তা পায় না। নিয়ম মেনেই পাড়া-প্রতিবেশীরা হবু কনেকে একে একে ‘খুবড়া ভাত’ (আইবুড়ো ভাত) খাওয়াতে আসেন। বিয়েতে বরকনের সাথে উপোস করে গোটা পরিবার। যাঁতা দিয়ে কলাই পেষাই করার পরই মেলে ছামড়া তলায় (ছাদনা তলা) যাওয়ার অধিকার। শুধু বিয়ে-শাদী কেন, যেকোন সামাজিক অনুষ্ঠানেই এরকম নানা আচার রয়েছে, যেগুলি সরাকদের একান্ত আপন। সেগুলি ঠিকঠাক পালন না করলে, অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরা হয় না। নিয়মবিধির মধ্যে রয়েছে হাজারো উপনিয়ম। প্রতিটি সামাজিক অনুষ্ঠানে পদ্ধতির পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দিতে পারেন সরাক পল্লীর বছর ষাটেকের প্রৌঢ়া গৃহবধূ সন্ধ্যারাণী সিং। কিন্তু সরাকদের আলাদা ভাষা আছে, এটা তিনি মা-ঠাকুমা-দিদিমাদের কাছে জন্ম ইস্তক কখনো শোনেন নি। সন্ধ্যারাণী একা নন, তাঁর বয়সী বা তাঁর থেকে বড় কেউই সরাকি ভাষা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন।
    গ্রামের আরেক বয়স্ক মহিলা ভক্তিরাণী মাজি। জানালেন, পুরুলিয়ার ভাষাতেই তাঁরা কথা বলেন। পুরুলিয়ার মানভূমীয় বাংলার টানেই সন্ধ্যারাণীরা সাবলীল। বাইরের লোক দেখলেই ‘কলকাতার’ বাংলা বলতে চেষ্টা করেন গ্রাম্য গৃহবধূরা, এই তথ্যও জানিয়ে দিলেন লাজুক হাসিতে। তথাকথিত সভ্য সমাজের কাছে নিজেদেরকেও ‘সভ্য’ প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা। ঝকঝকে চ্যানেলের রকমারি ধারাবাহিকের কল্যাণে ‘ভদ্র’ ভাষা বলে, নিজেদের ভদ্র-সভ্য প্রমাণের তাগিদ তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে সরাক সমাজের গ্রাম্য বধূদেরও। সভ্যবেশী সভ্যতার শিকার হচ্ছেন তাঁরাও।
    তাঁরা সরাক। তাঁদের আচার-বিচার একটু আলাদা। এগুলো মহিলারা মানেন। কিন্তু তাঁদের যে আলাদা ভাষা থাকতে পারে, সেই সম্ভাবনা তাঁরা নাকচ করে দেন। কোন নির্দিষ্ট একটি সম্প্রদায় বা জাতির ভাষা বাঁচিয়ে রাখেন মহিলারাই। কারণ, বাইরের জগতের সাথে মহিলাদের যোগাযোগ অপেক্ষাকৃত কম। ওই নির্দিষ্ট ভাষাটির শুদ্ধ সংস্করণে একমাত্র তাঁরাই কথাবার্তা চালান। ঘুমপাড়ানী গানের মধ্য দিয়েও, প্রজন্মের পর প্রজন্ম বাহিত হতে থাকে সেই ভাষা। তাই যেকোন ভাষার জীবনদানের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে মেয়েদেরই। এক্ষেত্রে সরাক মহিলারা সেই অলিখিত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ। সামাজিক অনুষ্ঠানের নিয়ম পালনে ব্যবহৃত কিছু শব্দ হয়ত আলাদা। কিন্তু তা দিয়ে এটা প্রমাণিত হয় না যে, সরাকদের একটি আলাদা ভাষা ছিল। রীতিনীতিগুলি, সামাজিক দায় থেকে প্রাপ্ত। অনেক ক্ষেত্রে আবার সেগুলি ধর্মীয় অভ্যেসের বহিঃপ্রকাশ মাত্র। সেগুলির মাধ্যমেও সরাকদের স্বতন্ত্র ভাষা-সংস্কৃতির প্রমাণ মেলে না। 
    ‘আমরা কস্মিনকালেও শুনিনি আমাদের কোনো আলাদা ভাষা আছে।’ বাক্যটি নিশ্চিতভাবে বিস্ময়সূচক। উক্তিটি সরাক সম্প্রদায়ভূক্ত শিক্ষকদের। মাছ-মাংস চেখে দেখা তো দূরের কথা, স্পর্শ করাকেও অনাচার বলে মনে করে জন্ম-নিরামিশাষী সরাক সম্প্রদায়। পাঁচতারা হোটেল হোক, অথবা পাড়ায় পাঁচুর ঘুঘনির দোকান, আমিষ মানেই তা সরাকদের কাছে অচ্ছুৎ। এহেন প্রথা এবং যৌথ চেতনা সচেতন একটি গোষ্ঠী, নিজেদের ভাষা-সংস্কৃতি সম্পর্কে সংরক্ষণশীল হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বাস্তব বলছে অন্য কথা। সরাক সম্প্রদায়ের নিজস্ব ভাষা সরাকি’র অস্তিত্ব মানতেই নারাজ সরাকদের বুদ্ধিজীবিদের একটা বড়ো অংশ। গ্রামের নাম, ঝাঁপড়া। পাড়া ব্লক। জেলা পুরুলিয়া। 
    অবাক হওয়ার পালা এখানেই শেষ নয়। সরাক পল্লীর দীর্ঘদিনের প্রতিবেশী এক সাধারণ জাতিভুক্ত (General Caste) অধ্যাপক বন্ধুও সাফ জানিয়ে দিলেন, সরাকরা অন্য ভাষায় কথা বলে এমন ব্যাপার তিনি পূর্বপুরুষের মুখে কখনো শোনেন নি। আঞ্চলিক বুদ্ধিজীবি সরাক গোষ্ঠীর মিলিত স্বীকারোক্তি, নিজেদের ভাষা সংক্রান্ত তথ্য তাঁরা ইদানিং গবেষকদের মুখ থেকে প্রথমবার শুনছেন। সরাকদের ভাষার নাম সরাকি। এক কালে এই ভাষার ব্যবহার ছিল। এই তথ্যটি তাঁরা আগে জানতেন না। 
    তাহলে কি সরাকদের কোনো ভাষা ছিলই না ? কিন্তু গ্রিয়ারসন সাহেবের তথ্য যে ভুল হতে পারে না, সে ব্যাপারেও ভাষাবিদরা নিশ্চিত। সরাকি ভাষার খোঁজে বেরিয়ে প্রথমেই সামনে আসে এই কঠিন দ্বন্দ্বমূলক চ্যালেঞ্জ। ‘লিঙ্গুইস্টিক সার্ভে অফ্ বেঙ্গল’এ প্রথম ভাগের ১৭নং পৃষ্ঠায় এই ভাষার উল্লেখ আছে। যখন শিক্ষিত সরাক সমাজের একাংশই আত্মবিশ্বাসের সাথে নিজেদের ভাষার অস্তিত্ব অস্বীকার করেন, তখন স্বভাবতঃই দোলাচলের সৃষ্টি হয় যেকোন ভাষাসন্ধানীর মনে। দমে যাওয়া মন আবার বশে আসে, ভাষা অভিধানের জনক, গ্রিয়ারসনের স্মরণে এসে। 
    শ্রদ্ধা। বিবেক। ক্রিয়া। তিনে মিলেই ‘শ্রাবক’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ প্রকাশ করে। সংস্কৃত শব্দ ‘শ্রাবক’ থেকেই কালক্রমে ‘সরাক’ শব্দটি এসেছে। সরাকরা জৈন ধর্মপন্থা অবলম্বন করেছিলেন অনেক আগে থেকেই। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলাতেই, এ রাজ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক সরাকি বসবাস করেন। ওড়িশা এবং ঝাড়খণ্ডেও সরাকদের বসতি রয়েছে। গ্রিয়ারসনের তথ্য অনুযায়ী, রাঁচীর পশ্চিমে লোহারডাগা অঞ্চলে আগে সরাকিরা বাস করত। এই অঞ্চলে জনজাতির ভাষাবৈচিত্র্য বোঝাতে গিয়ে, গ্রিয়ারসন মালপাহাড়িয়া এবং দুধখেড়িয়া নামে আরও দুটি আদিম উপজাতির উল্লেখ করেছেন। দুই জনজাতির মাঝেই রয়েছে সরাক সম্প্রদায়ের উল্লেখ। সেক্ষেত্রে সরাকদের উৎসের ক্ষেত্রে আদিবাসী সংযোগ তত্ত্বও নেহাত উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সরাকদের বিশ্বাস, তাদের উৎস রয়েছে পঞ্চকোটে। সরাকিরা ভারতের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে তামা খননের কাজে যুক্ত ছিল, এমন ধারণাও পাওয়া যায়। আবার ব্রিটিশ নৃতত্ত্ববিদ্ ডালটন (Edward Tuite Dalton)–এর মতে, সিংভূম এলাকায় আগে সরাকদের বসতি ছিল। আবার কোথাও দাবী, ব্যবসাসূত্রে সরাকদের সুসম্পর্ক তৈরী হয় গুজরাটের সাথে। সেখান থেকেই তৈরী হয় জৈন বিশ্বাস। বিভিন্ন ধর্ম-সংস্কৃতি আর ভৌগলিক অঞ্চল থেকে কিছু কিছু শব্দ এসে মিশেছে সরাকসমাজে। যেমন, ‘পেয়ারাকে’ সরাকরা বলেন ‘আজির’, যার উৎস গুজরাটী ভাষা। পুরুলিয়া জেলার টানে, মানভূমীয় বাংলাই এখন সরাকদের ব্যবহার্য ভাষা। সরাকরা যাকে বলেন, ‘খোট্টা বাংলা’। গরুর গাড়ির বিভিন্ন অংশ বর্ণিত হয় উদল, আড়কা, পালহইন, খুটরা, আড়া প্রভৃতি শব্দের মাধ্যমে। এই জাতীয় শব্দগুলি ঢুকে গিয়েছে সরাক ব্যবহৃত শুদ্ধ বাংলার মধ্যে। 
    ‘‘সরাক বৈসে গুজরাটে/জীবজন্তু নাহি কাটে/সর্বস্থানে তারা নিরামিষ।’’ মুকুন্দরামের ‘চণ্ডীমঙ্গল’-এ জাতিটির উল্লেখ আছে। যুগে যুগে ভারত শাসন করেছে বিভিন্ন জাতি। ‘রাজধর্মই প্রজার ধর্ম’, —এই নীতির সৌজন্যেই বার বার প্রভাবিত হয়েছে অহিংস সরাক জনজীবন। হিন্দু রাজাদের আমলে প্রভাব ফেলেছে হিন্দুত্ব। আবার মুসলমান রাজাদের রাজত্বে থাবা বসানোর চেষ্টা চালিয়েছে ইসলাম। কিন্তু শত চেষ্টার পরেও, সরাকদের খাদ্যাভ্যাস পাল্টানো যায়নি। সরাকদের খাদ্যাভ্যাসের সাথে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে রয়েছে, তাদের ধর্ম ভাবনা এবং সংস্কৃতি। জৈনধর্মে বিশ্বাস অব্যাহত রয়েছে এই খাদ্যাভ্যাস থেকেই। সেই খাদ্যাভ্যাস থেকেই আবার এখন বৈষ্ণব ধর্মে বহু সরাক বিশ্বাস করতে শুরু করেছেন। কারণ জৈন এবং বৈষ্ণব এই দুই ধর্মেরই মূল বিশ্বাস লুকিয়ে রয়েছে ‘নিরামিষ’ খাদ্য বৈশিষ্ট্যে। তাই জৈন থেকে কেউ কেউ বৈষ্ণব ধর্মেও দীক্ষিত হচ্ছেন। সন্ধ্যে হলেই জৈনপল্লীতে বসছে হরিনাম সংকীর্তনের আসর। কেউ কেউ ইদানিং কালী-কার্তিক পুজোও শুরু করেছেন। দুর্গা পুজোতে সরাক বাড়ির পুরোনো দেওয়াল সেজে ওঠে নতুন রং-এ। শিক্ষার্জনের দরুণ সরাকদের অনেকেই মিশে গিয়েছেন অন্য সংস্কৃতি বা জাতিভুক্ত মানুষের সাথে। রামকৃষ্ণ মিশনে আবাসিক হিসেবে শিক্ষালাভের দৌলতে কারো কারো মধ্যে প্রবেশ করেছে বৈদিক ভাবধারা। তবুও আজন্ম নিরামিশ স্বভাব বদলানো যায়নি। কলি’র দোহাই দিয়ে, ইদানিং শুরু হয়েছে বিদ্রোহ ঘোষণা। সেক্ষেত্রেও সংখ্যাটা নূন্যতম। তা দিয়ে গোটা সরাক সমাজ বিচার্য নয়।
    সাধারণত যেকোনো সম্প্রদায়ের ভাষা, সংস্কৃতি, উৎস, ইতিহাস সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকেন সেই সম্প্রদায়টির শিক্ষিত সমাজ। সরাকির ক্ষেত্রে শুরুতেই হা-হুতাশ। সরাকরা তো অশিক্ষার অন্ধকার থেকে বহু আগেই বেরিয়ে এসেছেন। ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদারের অনুমান, কল্পসূত্রের লেখক ভদ্রবাহু সরাক সম্প্রদায়েরই মানুষ ছিলেন। অতীত ছেড়ে বর্তমানের দিকে তাকালেও উঠে আসে একই ছবি। ঝাঁপড়া নামের ছোট্ট গ্রামটিতে গুটিকয় সরাক পরিবারের বাস। সবকটিই যথেষ্ট সম্পন্ন পরিবার। শিক্ষক, চিকিৎসক, সরকারী চাকুরে বোঝাই সরাক সমাজ, এখন শিক্ষা আর অর্থে পরিপূর্ণ। অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে ১৯৯৪ সালে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে সরাকদের ‘পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর’ (Other Backward Caste) আওতাভুক্ত করা হয়েছে। তবে সরাকরা নিজেদের পিছিয়ে পড়া বা দুর্বল মানতে নারাজ। নিজেদের অন্য কোনো জাতির থেকে, কোনো অংশেই কম বলে মনে করেন না তাঁরা। গর্বের সাথে এক বৃদ্ধ সরাক জানালেন, তাঁদের সামাজিক অনুষ্ঠানের ক্রিয়া-পদ্ধতি এবং আচার-বিচারের সাথে ‘বামুন’দের বেশ মিল রয়েছে। একসময় কৃষিই ছিল সরাকদের মূল অর্থনৈতিক ভিত্তি। পরে তারা তামার খনির ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়ে। আজকাল বেশীরভাগই ‘বুদ্ধিজীবি’মূলক পেশার সাথে যুক্ত। 
    সংখ্যার নিরিখে, সরাকদের ‘সংখ্যালঘু’ তকমা দেওয়া উচিত। এই মত সরাক সমাজের একাংশের। তবে ‘বিপন্ন প্রায়’ ধরণের অনুভব, কোনোদিনই হয়নি তাঁদের। চিরকালই তাঁরা সমাজের উচ্চশ্রেণী হিসেবে নিজেদের ভেবে এসেছেন। ‘হারিয়ে যাচ্ছে’ ভাবনাটি না থাকার জন্যই বোধহয় হারিয়ে গিয়েছে সরাকি ভাষা। এই ভাষাটির অস্তিত্ব যাঁরা স্বীকারই করেন না, তাঁদের কাছে শেষ পর্যন্ত মান রেখেছেন নারদ মশাই। নব্বই-এর দশকে পুরুলিয়া জেলার পারা ব্লকের কেলাহী গ্রামের শ্রীমতি সরাকিনী নামে এক মহিলার পোড়োবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বহু পুরনো হাতে লেখা একটি পুঁথি। সেটি ‘নারদরচিত’ নামে, কোনো পুরাণ কাব্যের নকল বলেই প্রাথমিক ভাবে ধারণা গবেষকদের। হাতে লেখা হরফগুলি বাংলা। পুঁথিটি কি ভাষায় লেখা, সেটা জানা না গেলেও, গবেষকদের ধারণা এটি সরাকি ভাষারই নিদর্শন।
    একধাপ এগিয়ে সরাকিভাষার ইতিহাস অনুমান করেছেন জৈন সন্ন্যাসীরা। তাঁদের মতে, সমগ্র মানভূমবাসী যে ভাষায় কথা বলেন, সেটাই আসলে সরাকদের ভাষা। তাই তাদের নিজস্ব ভাষা হিসেবে এই ভাষা আর গণ্য হয় না। জৈনশাস্ত্র লেখা হয়েছে মাগধী ভাষায়। মাগধীর রূপান্তর হ’ল মানভূমি বাংলা। এলাকার রাজনীতি, অর্থনীতি একসময় সরাকরাই প্রভাবিত করত। তাই নিজেদের প্রয়োজনেই সরাকদের ভাষা রপ্ত করতে বাধ্য হয়েছিল মানভূমবাসী। কালক্রমে তাই পরিণত হয়েছে আঞ্চলিক ভাষায়। এখন তা বাংলার উপভাষা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। তাঁদের যুক্তি, গোটা মানভূম অঞ্চলে বিভিন্ন জনজাতি বাস করে। সেই জনজাতিগুলির প্রত্যেকেরই পৃথক পৃথকভাবে নিজেদের ভাষা-সংস্কৃতি রয়েছে। একমাত্র সরাকদেরই কোন আলাদা ভাষা নেই। কারণ সরাকি ভাষাই হ’ল গোটা মানভূমের ভাষা।
    পরিবর্তন যুগের নিয়ম। এটি চিরকালীন পদ্ধতি। T. S. Eliot তো বলেইছেন, ‘Time present and time past / Are both perhaps present in time future / And time future contained in time past’. কিন্তু নিজের সংস্কৃতি বা ভাষার ক্ষেত্রে পরিবর্তনের পথে বিলুপ্তি কখনোই কাম্য নয়।
    ধর্ম হরেক। মূল ভাষা কবরে। সচেতনতা গায়েব। কবর খুঁড়ে বিলুপ্ত ভাষার মৃতদেহাবশেষ খুঁজে বের করার দায় গবেষকদের ঘাড়ে চাপিয়ে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছে, আধুনিক-শিক্ষিত-সচ্ছ্বল-সংস্কৃতি সচেতন সরাক সমাজ। এটাই সাম্প্রতিক সরাক স্টেটাস!
    ‘ভাষা দাও তারে, হে মুনি অতীত, কথা কও, কথা কও।’ অগত্যা রবি ঠাকুরকে স্মরণ করেই দিন কাটছে গবেষকদের।
1.    Linguistic Survey of India by George Abraham Grierson
2.    https://en.m.wikipedia.org
3.    www.quora.com (Title : Why is the Jain religion associated with 
    the Vaisya Community and Trade ?)
4.    dsa1.uchicago.edu
5.    http://wbxpress.com
6.    www.inpaedia.com
7.    Facebook page of Sarak Samaj Unnayan Samiti
8.    ঝাঁপড়া গ্রাম ও বিদ্যালয়, এক ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট। লেখক - অনাদি প্রসাদ মাজী
9.    বাংলা উপন্যাসে জনজাতি সমাজ ও সংস্কৃতি। লেখক - দীপঙ্কর মল্লিক
10.    সমকালীন সরাক সম্প্রদায়। লেখক - অসিত কুমার মাজী
11.    পুরুলিয়ার সরাক ও জৈন পুরাকীর্তি। সম্পাদনা - সুভাষ রায়
12.    সরাক জাতির হারানো ইতিহাস। সম্পাদনা - প্রাচীন জৈন মন্দির - তেলকূপী
13.    Field trip of Jhapra village, Para Block, Purulia District
14.    Field visit to Jain Temple of Jhapra
15.    Personal Interview of Manas Kr. Maji (Teacher), Anadi Prasa Maji (Teacher & Writer), Bhakti Rani Maji (Housewife), Asit Kr. Maji (Doctor), Sandhya Rani Singh (Housewife), Makaranda Maji (Teacher), Shilprava Muni (Jain Sannyasi), Acharya Binit Pravasuri (Jain Sannyasi).