সম্পাদকীয় - ইন্দ্রনীল আচার্য

    পশ্চিমবঙ্গের ভাষা সংস্কৃতির বিপন্নতা নিয়ে আলোচনা করতে হলে প্রথমেই জর্জ আব্রাহাম গ্রীয়াসসনের Linguistic Survey of Bengal গ্রন্থের উল্লেখ করা প্রয়োজন। এটি ছিল গ্রীয়ারসনের Linguistic Survey of India (১৮৯৮-১৯২৭)-র অংশ। এখানে অবিভক্ত বাংলা— অধুনা পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ— জুড়ে প্রচলিত বিভিন্ন আঞ্চলিক রূপের উদাহরণ- উল্লেখ করা আছে। প্রথম খণ্ডে পশ্চিমবঙ্গ ও দ্বিতীয় খণ্ডে বাংলাদেশের ভাষাবৈচিত্র্য নিয়ে আলোচনা আছে। প্রথম খণ্ড নিয়ে আমাদের বিশেষ আগ্রহ রয়েছে কারণ এখানেই বিভিন্ন জেলার আঞ্চলিক ভাষারূপ ও জলপাইগুড়ি এবং কোচবিহার জেলার রাজবংশী ভাষা নিয়ে আলোচনা আছে।
    গ্রীয়ারসনের ক্ষেত্রসমীক্ষা প্রণালী ছিল কিছু সরকারী আধিকারিক ও অধস্তন কর্মচারীদের বিভিন্ন ধরণের কথ্য মাতৃভাষা, উপভাষা ও তস্য উপভাষার নমুনা সংগ্রহ করতে পাঠিয়ে দেওয়া। তিনি ভারতবর্ষের বিভিন্ন প্রান্তে এই কাজের জন্য লোক পাঠিয়েছিলেন। বাইবেলের জনপ্রিয় গল্প ‘The Parable of the Prodigal Son’ তিনি তাঁর কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দিতেন এবং প্রকৃত ভাষাসচেতন মানুষের কাছ থেকে তার অনুবাদ করে আনতে নির্দেশ দিতেন। এছাড়াও ক্ষেত্রসমীক্ষা থেকে উঠে আসা বিভিন্ন গল্পও সংগ্রহ করে দেওয়া হত। এগুলোকে তারপর রোমান হরফে লিখে ফেলা হত এবং diacritic চিহ্ন ব্যবহার করে ধ্বনিবিজ্ঞানসম্মত করে নেওয়া হত। এরপর পাঠকের কাছে পরিবেশনের সময়ে উপভাষার বিশেষ বৈশিষ্ট্যগুলিকে নিখুঁত বাক্যগঠনের মধ্য দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হত।
    গ্রীয়ারসন বাংলার উপভাষা হিসেবে চাকমা, হাজং ও রাজবংশীকে অন্তর্ভুক্ত করায় এক বিরাট বির্তকের সৃষ্টি হয়েছিল। কিন্তু এই আইরিশ ধ্বনিবিজ্ঞানী তাঁর মতে অনড় ছিলেন। তিনি যা ভাষাতাত্ত্বিক নমুনা পেয়েছিলেন তার উপর ভিত্তি করে এই ধরণের সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছিলেন। আসলে এই ক্ষেত্রে তাঁর কাজ এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। আজ এক শতাব্দী অতিক্রান্ত হবার পরেও ঠিক এই ধরনের কাজ আর হয়নি। ঔপনিবেশিক মায়ানমারে এই ধরণের একটি কাজ ঊনবিংশ শতকের শেষ দশকগুলিতে শুরু হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা বাতিল হয়ে যায়। হয়তো দ্বিতীয় জর্জ আব্রাহাম গ্রীয়ারসন না থাকায় এত বড় মাপের কাজ সম্পন্ন করা যায়নি।
    তবে একথাও ঠিক যেভাবে গ্রীয়ারসন সাহেব শুধু চাকমা, হাজং ও রাজবংশী ছাড়াও অন্যান্য জনজাতি গোষ্ঠীর ভাষাগুলিকে বাংলার আঞ্চলিক রূপভেদ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন তাতে ঐসব ভাষা সংস্কৃতির জীবনে সংকটের সূচনা হয়েছিল। স্বাধীন ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি লাভের পরিবর্তে একেবারে বাংলার অধীনস্থ একটি মিশ্র উপভাষা হিসেবে বাঁচতে হয়েছিল। বিপন্নতার বীজ এভাবেই বপন করা হয়। ভাষার অস্তিত্বকে গুরুত্বহীন করে দিয়ে জাতিসত্তাকে দুর্বল করা হয়। ঔপনিবেশিক শাসনতন্ত্রে ‘এক ভাষা এক সংস্কৃতির’ স্লোগানকে হাতিয়ার করে অন্যান্য ভাষা সংস্কৃতিকে অবজ্ঞার অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া হয়। এই প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার কেন গ্রীয়ারসন সাহেবকে দিয়ে ব্রিটিশ প্রশাসন এই ভাষা সমীক্ষা করিয়েছিল। মূলতঃ ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনের ধারাকে অব্যাহত রাখার জন্য নব্য ICS আধিকারিকদের ভারতবর্ষের ভাষা ভূগোল সম্বন্ধে এক ধারণা দেওয়ার জন্যেই এই ধরনের সমীক্ষা চালানো হয়েছিল। তাই গ্রীয়ারসনের ভাষা সমীক্ষার ফলাফল ভারতে প্রকাশ না করে তাকে বস্তাবন্দী করে ইংল্যাণ্ডে চালান করা হত। সেখানকার ICS training institute-গুলিতে এই ক্ষেত্রসমীক্ষার ফলাফলগুলি নব্য ICS–দের জানানো হত। দেশ শাসনের জন্য ভাষার উপর কব্জা করা জরুরী। ভাষাবৈচিত্র্যকে অস্বীকার করা জরুরী। বাংলা ছাড়া আর সবাই তাই আঞ্চলিক তারতম্য বই কিছু নয়।
    বাংলার পশ্চিমী উপভাষা নিয়ে বলতে গিয়ে ছোটনাগপুর, মানভূম, ধলভূম ও সিংভূমের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ব্যবহৃত সমস্ত আদিবাসী গোষ্ঠীর ভাষাকে গ্রীয়ারসন উপভাষা করে দিয়েছেন। মুণ্ডারি ভাষাকে বলছেন ‘Munda dialects of Chota Nagpur’। কুড়মি জনজাতিকে ‘immigrant’ বলছেন আর তারা শুধু পশ্চিমী বাংলাতেই কথা বলে। শুধুমাত্র আর্য (Aryan) ভাষার প্রতিনিধি হিসেবে তিনি প্রতিবেশী ওড়িয়া ও বিহারীকে স্বীকৃতি দিয়েছেন। বাংলা আর্য ভাষার প্রতিনিধি হিসেবে শুধু ওড়িয়া ও বিহারীর সাথে প্রতিযোগিতা করতে পারে। আর অন্যান্য ‘অনার্য’ ভাষা শুধুই উপভাষা! বিশাল কুড়মি জনজাতির ভাষা কুড়মালিকে ‘curious dialect’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আরো দুটি ভাষাগোষ্ঠী — সরাকি ও খেড়িয়া— তাঁর চোখে ‘mixed dialects’ যার ব্যাকরণের ভিত্তি হল বাংলা। এমনকি মালপাহাড়িয়া — একটি দ্রাবিড়ীয় জনজাতি — গ্রীয়ারসনের পর্যবেক্ষণে তার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। তারা বাংলার একটি অশুদ্ধ রূপে কথোপকথন চালিয়ে যায়। ওনার বই থেকে একটি উদ্ধৃতি দিলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে—
    One of these is the language spoken by the Jains in the South-east of the Ranchi District…. It is called in differently by the 
surrounding people, whose language is a form of Bihari, Khotta Bangala, Sarawaki or Saraki. The last two names are derived from Srawak, one of the names of the Jain community. The other mixed sub-dialect is spoken by the aboriginal tribe of Kharias who inhabit the hills in the south of Manbhum. The Kharias of Manbhum have abandoned their own tribal language which belongs to the Munda family, and speak a broken Bengali. A similar dialect is spoken by the Paharias of the same neighbourhood, and the form of speech is known either as Kharia-thar or as Paharia-thar, according to the speakers. Finally, the Malpaharias of the centre of the Santhal Parganas, like the Kharias, abandoned their own Dravidian tongue, and speak a corrupt form of the language of their Bengali neighbours.     [গ্রীয়ারসন; ৭৮]
    সারওয়াক মানঝিরা যে পশ্চিমী উপভাষায় কথা বলে তা বাংলা থেকে একেবারেই পৃথক নয়। রাঁচি সংলগ্ন এলাকায় একে খোট্টা বাংলা, সরাওয়াকি বা সরাকি বলা হয়। গ্রীয়ারসন একে কোনো পৃথক উপভাষার স্বীকৃতি দিতেও রাজি হননি। এইভাবে এই সম্পন্ন কৃষিজীবী ও ব্যবসায়ী জৈন ধর্মাবলম্বী গোষ্ঠীকে আজ থেকে একশো বছর আগেই নিজস্ব ভাষাহীন করে তোলা হয়। ফলতঃ জানুয়ারি ২০১৭ সালে পুরুলিয়া শহরে বিদ্যাজীবী সরাক সম্প্রদায়ের মানুষদের যখন তাদের ভাষা বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় তারা বিস্ময় প্রকাশ করে। এই ধরণের কোনো ভাষা বা উপভাষার অস্তিত্ব আছে বা ছিল এটাই তারা জানে না। পরে যখন সরাকদের গ্রামে ক্ষেত্র-সমীক্ষায় যাওয়া হল তখন এক ডাক্তারবাবুর ব্যক্তিগত সংগ্রহ থেকে জৈন রামায়ণের পুরনো পাণ্ডুলিপি আবিষ্কার হল। এই পাণ্ডুলিপির ভাষা বাংলা নয়। তা একান্তই সরাকি ভাষার রূপ যা অব্যবহারের ফলে সরাক সম্প্রদায়ের মানুষ বিস্মৃত হয়েছে। ‘Linguistic Survey of Bengal’-এর ৯৯ পাতায় গ্রীয়ারসন পুনরায় ছোটনাগপুরের ‘aboriginal tribe’ হিসেবে খেড়িয়ার উল্লেখ করেছেন। তাদের ভাষাকেও মুণ্ডা বা কোলারিয়ান পরিবারের সদস্য বলে বর্ণনা করছেন। কিন্তু তার পরেই মানভূমে থিতু হওয়া খেড়িয়া জনজাতির মানুষের বিশ্লেষণ করে তিনি অক্লেশে বলে দিচ্ছেন এরা ‘ancestral language’ ত্যাগ করেছেন এবং ‘Broken 
Bengali’ বলছেন। আবার বলছেন লোহারডাগার খেড়িয়ারা নিজেদের ভাষায় কথা বলেন। কিন্তু মানভূমের খেড়িয়ারা ‘Wilder’ এবং ‘less civilised’ হওয়ার দরুণ নিজেদের ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। গ্রীয়ারসনের পর্যবেক্ষণ দেখে মনে হয় অসভ্যতা বা অরণ্যচারিতা মাতৃভাষার বিপন্নতার এক গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি। কুড়মালিকে বিহারির উপভাষা ও খেড়িয়া ঠারকে বাংলার উপভাষা হিসেবে গ্রীয়ারসন তাঁর বিধান দিয়েছিলেন। 
    গ্রীয়ারসনের বইয়ের ১১০-১১১ পৃষ্ঠাগুলিতে মালপাহাড়িয়া জনজাতির ভাষাকে খেড়িয়া ঠার-এর সঙ্গে ভীষণ সাদৃশ্যপূর্ণ বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। অথচ একটু আগেই গ্রীয়ারসন মালপাহাড়িয়াকে দ্রাবিড়ীয় ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত বলে উল্লেখ করেছেন। আর খেড়িয়া ঠারকে মুণ্ডা বা কোলারিয়ান, অর্থাৎ, অস্ট্রোএশিয়াটিক ভাষা পরিবারের সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে। গ্রীয়ারসনের যুক্তির মধ্যে অসংগতি প্রকট হয়ে পড়ে এবং যেন তেন প্রকারেণ ভাষাবৈচিত্র্যকে অস্বীকার করার প্রবণতা বেড়ে যায়। আশার কথা এই যে ‘Linguistic Survey of Bengal’ গ্রন্থের ১১৬ পৃষ্ঠায় গ্রীয়ারসন সাঁওতালিকে tribal language বলেছেন। কোনো স্থানীয় উপভাষা বলেননি। এই আদিবাসী গোষ্ঠীকে উনি চিহ্নিত করেছেন দাঁতন, গোপীবল্লভপুর, ঝাড়গ্রাম এবং বিনপুর এলাকায়। এমনকি তিনি এ-ও মন্তব্য করেছেন যে দক্ষিণ-পশ্চিমী বাংলা শুধু প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার প্রধান ভাষা ওড়িয়া দ্বারা প্রভাবিত হয়নি। জনজাতির ভাষা সাঁওতালি থেকেও অনেক শব্দ ধার নেওয়া হয়েছে। বাংলার আঞ্চলিক রূপের ওপর কোনো আদিবাসী ভাষার প্রভাব সম্ভবতঃ এই একটি জায়গাতেই স্বীকার করা হয়েছে।
    এই আলোচনা থেকে একটি বিষয় খুব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ভারতীয় সংবিধানের অষ্টম তফসিল-এ ভাষার অন্তর্ভুক্তিকরণের বিষয়টিতেও গ্রীয়ারসনের ‘Linguistic Survey of India’ যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল। বিশেষতঃ জনজাতি গোষ্ঠীর ভাষা সাঁওতালির নির্বাচনের বিষয়টিকে গ্রীয়ারসনের পর্যবেক্ষণের অপরিসীম গুরুত্ব ছিল। তাঁর ‘Linguistic Survey of Bengal’ গ্রন্থে যেভাবে একমাত্র সাঁওতালিকে ‘tribal language’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল তা অষ্টম তফসিলে সাঁওতালির অন্তর্ভূক্তির সম্ভাবনাকে অনেক উজ্জ্বল করেছিল। একই সাথে তিনি কুড়মালি, খেড়িয়া ধার, মালপাহাড়িয়া ও সরাকির মত ভাষাকে কখনো বাংলার ‘dialect’ কখনো ‘sub-dialect’ আবার কখনো ‘mixed sub-dialect’ হিসেবে বর্ণনা করায় এদের পৃথক অস্তিত্বের সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে যায়। এই ভাষাগোষ্ঠীর মানুষজন ভাষাগত পরিচয়হীনতায় ভুগতে থাকে। খুব কৌশলে এইসব ‘minority language’গুলোকে মূলস্রোতের ‘আর্য’ ভাষা বাংলার অধীনস্থ করে ফেলা হয়। বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য স্থাপনের কোনো প্রয়াস ছিল না। বরং বহুকে একের মধ্যে আত্মসাৎ করে নেওয়ার প্রশাসনিক তাগিদ ছিল। যার ফলে প্রাক্-স্বাধীনতা পর্বে সম্পন্ন হওয়া একমাত্র ভাষা সমীক্ষার রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে অনেক জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষার স্বীকৃতির বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। বিশ্বায়ণের যুগে যখন প্রান্তিক ভাষাগোষ্ঠীগুলির উপর আক্রমণ অনেক বেশী তীব্র ও প্রাণঘাতী তখন গ্রীয়ারসনের সমীক্ষা সংকটের মূল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এই ঔপনিবেশিক পাঠ এই ধরনের অনেক জঙ্গলমহলের ভাষাকে পাঠশালার গন্ডির বাইরে ব্রাত্য করে রেখেছে। আজ বিপন্নতা নিয়ে আলোচনায় বসলে এই ইতিহাস স্মরণ করা প্রয়োজন। ‘জনজাতি দর্পণ’ এই ইতিহাস চেতনাকে ভিত্তি করে তথ্য প্রমাণ সহযোগে ‘সাবঅল্টার্ণ’ তৈরি করার প্রক্রিয়াটিকে বিশ্লেষণ করতে চায়। জঙ্গলমহলের বিপন্ন ভাষা সংস্কৃতির যেকোনো প্রকল্পে এই ঐতিহাসিক বঞ্চনার বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত।
    এবার কৃতজ্ঞতা স্বীকারের পালা। নলেজ ব্যাঙ্ক পাবলিশার্স ও ডিস্ট্রিবিউটরস্-এর কর্ণধার শ্রীমতী শ্রাবণী গুপ্তকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাই। সেই সঙ্গে এই প্রকাশনা সংস্থার প্রধান চালিকা শক্তি শ্রীসুকুমার গুপ্ত, শ্রী সমর কুমার আঢ্য ও শ্রী সঞ্জীব মণ্ডলের কাছে আমরা বিশেষ কৃতজ্ঞ। এছাড়াও এই পত্রিকার মুদ্রণ, টাইপ সেটিং ও অন্যান্য কারিগরি সহায়তায় যে সব মানুষ যুক্ত থেকেছেন তাঁদের সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। ধন্যবাদ জানাই দুই দিকপাল গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞকে — সুলগ্না ভট্টাচার্য (স্ক্রিপ্ট) ও সন্দীপ গুড়িয়া (ফোটোগ্রাফি)। আমার সহকর্মী হিসেবে তথ্য ও সাক্ষাৎকার সংগ্রহের কঠিন কাজ যাঁরা সাফল্যের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন তাঁদের নাম এখানে উল্লেখ করতে চাই — অঞ্জলি অট্ট, সেক্ ইন্তেখাব আজাহার, সব্যসাচী পাত্র ও সুরজ সামন্ত। সর্বোপরি, বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের প্রবীণতম অধ্যাপক ও তীর্থঙ্কর দাশ পুরকায়স্থকে শ্রদ্ধা জানাই তাঁর সুচিন্তিত মতামত প্রদানের জন্য। যে গবেষণা প্রকল্প চলাকালীন এই পত্রিকাটির ধারণা বাস্তব রূপ পায় তার কোঅর্ডিনেটর হিসেবে তিনি আমাদের ভালো কাজ করার প্রেরণা যুগিয়েছেন। আশা করি, এঁদের সবার শুভেচ্ছা ও সহযোগিতায় ‘জনজাতি দর্পণ’ আগামী দিনে আরো অনেক পথ পাড়ি দেবে। মুদ্রণ প্রমাদ ও অন্য কোনো অনিচ্ছাকৃত ত্রুটির জন্য পাঠককুলের কাছে আগাম মার্জনা চেয়ে নিলাম। ভবিষ্যতে আপনাদের সুচিন্তিত মতামতের অপেক্ষায় রইলাম। সবশেষে বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই শ্রী মুফতি সামিম সায়কত (এস ডি ও, বর্ধমান), শ্রী নকুল চন্দ্র মাহাতো (এস ডি ও, ঝাড়গ্রাম) এবং শ্রী কৌশিক নন্দী (ডি আই সি ও, পশ্চিম মেদিনীপুর) -কে।