বর্ষাকাল

সূচনা : আষাঢ় ও শ্রাবণ এই দু'মাস বর্ষাকাল। যদিও আষাঢ় মাস থেকে আশ্বিন মাস পর্যন্ত আমাদের দেশে প্রচুর বৃষ্টি হয়। গ্রীষ্মে সূর্যের প্রচণ্ড তাপে যখন নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর শুকিয়ে যায়, মানুষজন, পশুপাখি অস্থির হয়ে পড়ে। গাছপালা শুকিয়ে মরার মত হয়ে যায়—তখন বর্ষা এসে সকলের মধ্যে নূতন। প্রাণের জোয়ার এনে দেয়।

বর্ষার রূপঃ  বর্ষার বেশির ভাগ সময় আকাশ কালাে মেঘে ঢাকা থাকে। গুরুগুরু শব্দে মেঘ ডাকে, বিদ্যুৎ চমকায়, বজ্রপাত হয়, তার সঙ্গে কখনও মুষলধারে, কখনও অল্প অল্প বৃষ্টিপাত হয়। যখন মুষলধারে ঝমঝম্ শব্দে বৃষ্টি হয় তখন চারদিক ঝাপসা দেখায়। বর্ষার জলে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর সব জলে থৈ থৈ করে। গাছপালা সতেজ ও সবুজ হয়। শাকসজির ফলনও এই সময় বেশি হয়। কদম, কেতকী, জুই, রজনীগন্ধা, চাপা প্রভৃতি ফুলের হাট বসে যায়। বর্ষার রিঝিম্ শব্দে ব্যাঙের ডাক মিশে প্রকৃতি এক অপরূপ শােভা ধারণ করে।

সুবিধা ও অসুবিধাঃ  বর্ষায় চাষীদের মুখে হাসি ফোটে এবং মাঠে চাষ আবাদের কাজ শুরু হয়। এই সময়ের প্রধান শস্য ধান। এই সময় তাল ও আনারস পাওয়া যায়। এছাড়াও প্রচুর শাকসজির চাষ হয়। তবে বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টিতে বন্যা হয় এবং সেই বন্যায় চাষের ফসল নষ্ট হয়, বাড়িঘর ভেঙ্গে পড়ে, জীবজন্তু ও মানুষের দুর্গতির শেষ থাকে না। বহু মানুষ ও গবাদি পশুর প্রাণহানিও হয়ে থাকে। বর্ষাকালে আমাশয়, টাইফয়েড, ম্যালেরিয়া ও কলেরা প্রভৃতি মারাত্মক রােগ দেখা দেয়। এই সময় পােকামাকড় ও সাপের উপদ্রব বেড়ে যায়।