বিশিষ্ট দার্শনিক অরবিন্দ ঘোষের জন্ম কলকাতায় ১৮৭২-এর ১৫ই আগস্ট। তাঁর পিতার নাম কৃষ্ণধন ঘোষ। পাশ্চাত্য শিক্ষালাভের উদ্দেশ্যে বাল্যকালেই তাঁকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয়। ১৮৯০-তে তিনি আই.সি.এস. পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন,গ্ৰীক ও ল্যাটিন ভাষায় শীর্ষস্থান অধিকার করে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ট্রাইপস’ পাশ করেন ১৮৯২-তে। ১৮৯৩তে স্বদেশে ফিরে বরোদা কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন তিনি। পরে ঐ কলেজেরই অধ্যক্ষ হন অরবিন্দ।
বরোদায় মহারাষ্ট্রের গুপ্ত বিপ্লবী সংগঠনের বিপ্লবী মন্ত্রে দীক্ষা নেন তিনি। সেই সঙ্গে ১৯০২-এ অনুজ বারীন্দ্রকে পাঠান বাংলায় বিপ্লবী দল সংগঠনের জন্য। বারীন্দ্রকুমারের নেতৃত্বে কলকাতার মানিকতলার মুরারিপুকুরে গড়ে ওঠে গুপ্ত সমিতি। কিন্তু পুলিশ সেই গুপ্ত সমিতির সন্ধান পেয়ে অরবিন্দ সহ সকলকে গ্রেপ্তার করে। শুরু হয় আলিপুরের সেই বিখ্যাত বোমার মামলা। তরুণ ব্যারিস্টার চিত্তরঞ্জন দাশের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এক বছর পর মুক্তি পান অরবিন্দ।
১৯০৬-এ বরোদার চাকরি ছেড়ে বাংলায় জাতীয় শিক্ষা পরিষদের নতুন প্রতিষ্টিত কলেজের অধ্যক্ষ হয়ে আসেন অরবিন্দ।ঐ বছরেই ইংরেজি দৈনিক ‘বন্দেমাতারম্’-এর সম্পাদক হন তিনি। ১৯০৮-এ ‘বন্দেমাতরম্’ পত্রিকায় রাজদ্রোমূলক রচনা প্রকাশের কারণে কারারুদ্ধ হতে হয় অরবিন্দকে। জাতীয়তার বাণী সর্বস্তরে পৌঁছে দেবার জন্যই লেখনী ধরেন অরবিন্দ। সর্বপ্রথম তিনিই ঘোষণা করেন, ভারতের রাজনৈতিক লক্ষ্য : পূর্ণ স্বাধীনতা। সে-সময়ে ‘বন্দেমাতরম্’ পত্রিকায় অরবিন্দের জ্বালাময়ী অসাধারণ সব রচনা তরুণ সম্প্রদায়কে বিশয়ের উৎসাহে উদ্দীপিত করে।
পুনরায় মুক্তি পাওয়ার পর ভারতের সনাতন ধর্মপ্রচার ও জাতীয় দল গঠনে মনোনিবেশ করেন অরবিন্দ। আর সেই উদ্দেশ্যেই ইংরেজি সাপ্তাহিক ‘কর্মযোগিন’ ও বাংলা সাপ্তাহিক ‘ধর্ম’ পত্রিকার সম্পাদনার ভার গ্রহণ করেন তিনি।
বাল্যকাল থেকেই ইংরেজি রচনায় সবিশেষ দক্ষ ছিলেন অরবিন্দ। তাঁর রচিত ইংরেজি ভাষায় লেখা ৩২টি মূল্যবান গ্রন্থের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য : ‘The Life Divine’, ‘Savitri’, ‘Essays on Gita’, ‘Mother India’, ‘The Renaissance in India’ ‘The Hero and The Nymph’, ‘Urvasie’, ‘Song of Myrtitilla and other poems’, ‘The Age of Kalidasa’, ’ ‘A system of National Education' ইত্যাদি। এছাড়া তাঁর রচিত ৬টি বাংলা গ্রন্থের মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ : ‘কারাকাহিনী’, ‘ধর্ম ও জাতীয়তা’ এবং ‘অরবিন্দের পত্র’।
পরবর্তীকালে রাজনীতি পরিত্যাগ করে পণ্ডিচেরীতে বিশাল আশ্রম করে যোগসাধনা ও সমাজসেবায় ব্রতী হন অরবিন্দ। ১৯৫০-এর ৫ই ডিসেম্বর তাঁর মহাপ্রয়াণ ঘটে।