সুভাষচন্দ্র বসু 

    ১৮৯৭-এর ২৩ শে জানুয়ারি কটকে সুভাষচন্দ্র বসুর জন্ম। পিতা জানকীনাথ।মাতা প্রভাবতী দেবী।

   ১৯১১-তে ম‍্যাট্রিক পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান লাভ করেন তিনি। প্রথমে প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হলেও সেই কলেজের এক অধ্যাপকের ভারতবাসীর পক্ষে অপমানজনক উক্তির তীব্র প্রতিবাদ করায় তাঁকে ঐ কলেজ ত্যাগ করতে হয়। ১৯১৯-এ স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে দর্শনে অনার্স নিয়ে প্রথম শ্রেণীতে বি.এ. পাশ করেন তিনি। তারপর আই.সি.এস.পড়তে বিলেত যান।মাত্র ছ’মাসের মধ্যে অধ‍্যয়নে ১৯২০-তে তিনি আই.সি.এস.পরীক্ষায় চতুর্থ স্থান লাভ করেন।

   স্বদেশে ফিরে সিভিল সার্ভিসের লোভনীয় চাকরি প্রত্যাখ্যান করে দেশের কাজে নেমে পড়েন তিনি। তারপর জাতীয় কংগ্রেসের অধ্যক্ষ হন সুভাষচন্দ্র।  ১৯৩০-এ গান্ধীজীর লবণ আইন আন্দোলনে যোগ দিয়ে তৃতীয়বার কারারুদ্ধ হন তিনি। ১৯৩১-এ কারামুক্তির পরই আবার তাকে বেঙ্গল রেগুলেশনে বন্দি করা  হয়।স্বাস্থ্যের অবনতির জন্য ইউরোপে পাঠিয়ে দেওয়া হয়  তাঁকে।দেশে ফেরার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ১৯৩৬-এ স্বদেশে এলে পুনরায় দীর্ঘ ১ বছরের জন্য কারারুদ্ধ করা হয় তাঁকে।

   সুভাষচন্দ্রের প্রচেষ্টায় ও রবীন্দ্রনাথের নামকরণে (‘মহাজাতি সদন’) কলকাতায় একটি কংগ্রেস ভবন নির্মিত হয়। এদিনই সুভাষচন্দ্রকে পরাধীন দেশের নেতৃপদে বরণ করে রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ‘দেশগৌরব’ উপাধি দেন।

   ১৯৩৮-এ হরিপুরা কংগ্রেসে সভাপতি নির্বাচিত হন সুভাষচন্দ্র। মতপার্থক্যের কারণে তিনি পদত্যাগ করেন।  ১৯৪০-এ গঠন করেন ফরওয়ার্ড ব্লক। ক্রমশ তাঁর শক্তিশালী রাজনৈতিক কার্যকলাপে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে  শঙ্কিত বৃটিশ সরকার গৃহবন্দি করে রাখেন তাঁকে। কিন্তু পুলিশের চোখে ফাঁকি দিয়ে ১৯৪১-এর ২৬শে জানুয়ারি তিনি দেশত্যাগ করেন।

   চলে আসেন কাবুলে। সেখান থেকে রাশিয়ায়। তারপর জার্মান সরকারের সাহায্যে ভারতকে স্বাধীন করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যান। তারপর সিঙ্গাপুরে চলে আসেন তিনি ।১৯৪৩-এর ৪ঠা জুলাই বিপ্লবী রাসবিহারী বসু ‘আজাদ হিন্দ ফৌজ’ (ভারতের প্রথম স্বাধীন সেনাবাহিনী)-এর সমস্ত দায়িত্বভার তুলে দেন সুভাষচন্দ্রের হাতে।সুভাষচন্দ্র সম্মানিত হলেন ‘নেতাজী’ আখ্যায়।

  আজাদ হিন্দ ফৌজ ও জাপানী যুদ্ধ-জাহাজের সহযোগিতায় আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ দখল করেন সুভাষচন্দ্র। আজাদ হিন্দ ফৌজ শক্তিশালী বৃটিশ- বাহিনীকে পরাজিত করে ইম্ফল ও কোহিমায় দু’টি ব্রিটিশ ঘাঁটি দখল করে নেন।

   সুভাষচন্দ্র দু’টি মূল্যবান গ্রন্থও লিখেছিলেন ‘তরুণের স্বপ্ন’ ও ‘An Indian Pilgrim’  ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে সর্বাপেক্ষা উজ্জ্বল নক্ষত্র, মহান বিপ্লবী এই দেশনায়কের মৃত্যু সম্পর্কে সঠিক তথ্য আজও জানা যায় নি।