বারীন ঘোষ

   প্রখ্যাত বিপ্লবী, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক বারীন্দ্রকুমার ঘোষের জন্ম ১৮৮০ খ্রিস্টাব্দের ৫ই জানুয়ারি, লন্ডনে। তাঁর পিতার নাম কৃষ্ণধন ঘোষ।মাতা স্বর্ণলতা। বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ তাঁর জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা।

   ১৯০২-এ বারীন ঘোষ বরোদায় অরবিন্দের কাছেই বিপ্লবে দীক্ষালাভ করেন। এরপর বাংলায় বিপ্লবী দল গঠনের উদ্দেশে তিনি কলকাতায় চলে আসেন। ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে বারীন ঘোষ অনুশীলন সমিতিতে যোগ দেন।এবং বিপ্লবী আন্দোলনের প্রসারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ১৯০৬-এ শ্রী অবিনাশচন্দ্র ভট্টাচার্য ও  শ্রীভূপেন্দ্রনাথ দত্তের সহযোগিতায় বিপ্লবীদের মুখপত্র ‘যুগান্তর’ পত্রিকা প্রকাশ করেন তিনি। এরপর ১৯০৭-এ বারীন ঘোষ কলকাতায় মানিকতলার মুরারিপুকুর রোডের বাগানবাড়িতে একটি বোমা তৈরির গুপ্ত কারখানা স্থাপন করেন।

   জসিডি-সহ আরো নানা স্থানেও বৈপ্লবিক কেন্দ্র স্থাপন করেন বারীন ঘোষ। তাঁরই নেতৃত্বে শুরু হয় বিপ্লবী সন্ত্রাসবাদী ক্রিয়াকর্ম। বারীন ঘোষের নির্দেশেই ছোটোলাট অ্যান্ড্রুফেজারকে হত্যার চেষ্টা হয়। ১৯০৮-এর ৩০শে এপ্রিল তাঁর নির্দেশানুসারেই ক্ষুদিরাম বসু ও প্রফুল্ল চাকী মজঃফরপুরে গিয়ে কিংসফোর্ডের পরিবর্তে ভুল করে মিসেস ও মিস কেনেডিকে বোমা নিক্ষেপ করে হত্যা করেন।

   ১৯০৮-এ মানিকতলার বাগানবাড়িতে বিপ্লবী বারীন ঘোষ গ্রেপ্তারবরণ করেন। বিচারে আলিপুর আদালত তাঁকে ফাঁসির হুকুম দেয়। শেষ পর্যন্ত অবশ্য ফাঁসির পরিবর্তে তাঁকে যাবজ্জীবন দ্বীপান্ত‍র দণ্ড দেওয়া হয়।১৯০৯-এ দ্বীপান্তর বাসের জন্য তাঁকে আন্দামানে প্রেরণ করা হয়। ১৯০৯ থেকে ১৯২০ পর্যন্ত কারাবাস করেন তিনি।

   প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে, ১৯২০-তে  সকল রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার কারণে বারীন ঘোষও সে-সময়ে মুক্তিলাভ করেন। আন্দামান থেকে ফিরে এসে ১৯২০-তে তিনি ‘বিজলী’ পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯৩৩-এ তাঁর সম্পাদনায় ‘দি ডন অফ ইন্ডিয়া’ নামে একটি ইংরেজি সাপ্তাহিকের প্রকাশ শুরু হয়।১৯৫০-এ বারীন ঘোষ ‘দৈনিক বসুমতী’ পত্রিকার সম্পাদক নিযুক্ত হন।

   কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘রামানন্দ লেকচারার’ পদে নিযুক্ত করে সম্মান জানান। ‘মানবাধিকার ও তাহার ক্রমবিকাশ’ তাঁর একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য প্রবন্ধগ্রন্থ। গতানুগতিকতার বাইরে এসে তাঁর অভিনব চিন্তাধারার প্রকাশ এখানে লক্ষ্য করা যায়।

   এছাড়াও তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলীর মধ্যে আছে ‘দ্বীপান্তরের বাঁশি’, ‘আমার আত্মকথা’, ‘পথের ইঙ্গিত’, ‘ঋষি রাজনারায়াণ’, ‘ভারত কোন পথে?’, ‘অগ্নিযুগ’, ‘The Tale of My Exile’, ‘Sri Aurobindo’ প্রভৃতি।