বাদল গুপ্ত

   পোশাকি নাম সুবীর গুপ্ত হলেও বিপ্লবী বাদল নামেই তিনি সর্বত্র সুপরিচিত ছিলেন। ১৯১২-তে বাদল গুপ্তের জন্ম ঢাকা জেলার বিদগাঁও গ্ৰামে। তাঁর পিতার নাম অবনীনাথ গুপ্ত। বিক্রমপুরের বানারি স্কুলের শিক্ষক বিপ্লবী নেতা নিকুঞ্জ সেনের প্রিয় ছাত্র ও শিষ্য ছিলেন বাদল গুপ্ত।

   সেটা ছিল ১৯৩০।বাংলাদেশের সর্বত্র তখন চলছে বৈপ্লবিক ক্রিয়াকর্ম।বিপ্লবীরা স্থির করলেন ব্রিটিশ সরকারকে সাময়িকভাবে অচল করে দেওয়ার জন্য সর্বত্র টেলিগ্রাম ও টেলিফোনের তার ছিঁড়ে ফেলা হবে। এ-কাজে বিপ্লবী বাদল গুপ্তকে দায়িত্ব দেওয়া হল বিক্রমপুরের।অত্যন্ত সাহসিকতার সঙ্গে নিষ্ঠাভরে সে দায়িত্ব পালন  করেন বাদল। বিক্রমপুরের কোথাও কোনো টেলিগ্রাম, টেলিফোনের চিহ্ন পর্যন্ত রাখেননি বাদল।

       খবর পেয়ে বাদলকে গ্রেপ্তার করতে ছুটে আসে বিশাল পুলিশ-বাহিনী।কিন্তু তার পূর্বেই পালিয়ে কলকাতায় চলে আসেন বাদল।

   বিপ্লবী বাদলের অন্যতম কীর্তি রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ করা।সেই রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বলরূপে অঙ্কিত হয়ে আছে।১৯৩০-এর ৮ই ডিসেম্বর গুপ্ত বিপ্লবী দল ‘বি.ভি.’-র সদস্য হিসেবে বিপ্লবী বিনয়কৃষ্ণ বসু ও বিপ্লবী দীনেশ গুপ্তের সঙ্গে মিলিত হয়ে রাইটার্স বিল্ডিং আক্রমণ করেন বাদল।উদ্দেশ্য ছিল, বঙ্গদেশের কারাসমূহের অধিকর্তা অত্যাচারী কর্নেল সিম্পসনকে হত্যা করা। সশস্ত্র অবস্থায় জোরপূর্বক রাইটার্স বিল্ডিং-এ ঢুকে তাঁরা আই.জি.কর্নেল সিম্পসন সাহেবকে হত্যা করেন এবং বেশ কয়েকজন শ্বেতাঙ্গ কর্মচারীকে আহত করেন। ইতিমধ্যে সংবাদ ছড়িয়ে পড়ায় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এসে পড়ে।বেশ কিছুক্ষণ ধরে উভয়পক্ষের মধ্যে গুলি বিনিময় চলে।তারপর তিন বিপ্লবীর‌ই পিস্তলের গুলি শেষ হয়ে আসে।গ্রেপ্তার অনিবার্য বুঝে ‘বন্দেমাতরম্’ ধ্বনি দিয়ে তিনজন‌ই আত্মহত্যার জন্য পটাসিয়াম সায়ানাইড খেয়ে নেন এবং এক‌ই সঙ্গে নিজেদের মাথায় গুলি করেন তাঁরা।তিন সঙ্গীর মধ্যে মৃতপ্রায় দীনেশকে পুলিশবাহিনী অতিকষ্টে বাঁচিয়ে তোলে।তারপর তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। বিনয়কৃষ্ণ বসু ১৩ই ডিসেম্বর হাসপাতালে মারা যান।আর সেদিন(১৯৩০-এর ৮ই ডিসেম্বর)-ই সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু ঘটে বিপ্লবী বাদল গুপ্তের।

   কলকাতা রাইটার্স-বিল্ডিংস-এ বিশাল পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে মাত্র তিনজন বিপ্লবীর এই ঐতিহাসিক ‘অলিন্দ-যুদ্ধ’-র কথা মনে রেখে রাইটার্সের সামনের লালদিঘি ও বাগানকে এই বীরত্রয়ীর নামে উৎসর্গ করা হয়।