বাথটবে সাবানের ফেনা অনেকটা ফুলে উঠেছে দেখতে পেল সেবন্তী। সে দু’হাত তুলে প্রথমে মাথার চুল থেকে বাঁধুনিটা খুলে নিল। তার কার্লিং করা চুল ভেঙে পড়ল কাঁধে। মাথাটা দু’দিকে ঝাঁকাল সেবন্তী। চুলে একবার হাত বুলিয়ে নিয়ে নীচু হয়ে ফেনায় হাত দিল এবার।
সামান্য ঝুঁকতেই পরনের তোয়ালেটা টুক করে খুলে পড়ে গেল মেঝেতে। শুধু ওই তোয়ালেটুকুই পরেছিল সেবন্তী। এমনিতে এক্কেবারে সব খুলে সে থাকতে পারে না মোটে – বাথরুমেও নয়। শরীরে জল পড়ার ঠিক আগের মুহুর্তে সে নগ্ন হয়, তার আগে কিছুতেই নয়।
এখন শরীর থেকে তোয়ালে খসে পড়তেই সেবন্তী বলে উঠল, এ মা।
বলে নীচু হয়ে তোয়ালেটা তুলেও অবশ্য গায়ে জড়াল না আর। বাথটবের গায়ে রেখে দিয়ে পা তুলে টবের ফেনায় নেমে পড়ল সে।
সেবন্তী বাথটবে তৈরি করা সাবানের ফেনায় শুয়ে পড়তে পড়তে অবাক। তার মুণ্ডু ছাড়া সমস্ত শরীরই ফেনা তথা জলের নীচে। কিন্ত ... কিন্তু... যা ব্বাবা!! এ কী সায়েন্স ফিকশন নাকি? তার শরীর কোথায়? ফেনার ওপরে শুধুই তো মুণ্ডুটা। যেমন পুকুরের জলে বল গিয়ে পড়লে সেটা ভেসে থাকে।
মুণ্ডুটাও জলের ভেতরে বলের মতো আধ ডোবা আধ ভাসার মতো হয়ে গেল যে!!! ‘আঁ আঁ’ করে বেশ জোরে চেঁচিয়ে উঠল সেবন্তীর মুখ।
না মুখ নয় – সত্যি করেই সেবন্তী। বিছানায় এত জোরে চেঁচিয়ে উঠল যে পাশে অঘোরে ঘুমিয়ে থাকা রাহুল প্রায় তিড়িং করে লাফিয়ে উঠল ঘুম ভেঙে। বিছানার পাশে বেড সুইচ অন করল বেশ হাঁকপাঁক করেই।
চোখ খুলে ততক্ষণে জেগে গেছে সেবন্তী। দুঃস্বপ্ন ভেঙে জেগে উঠে সে আগে হাত দিল নিজের বুকে। তারপর অজান্তেই সারা শরীরে।
রাহুলের ঘুম খতম। সে উঠে বসে পড়েছে। বলল, স্বপ্ন!!
মাথার খোলা চুল ঠিক করতে করতে উঠে বসল সেবন্তীও। বলল, হুঁ।
ব্যবসার কাজে বাইরে যেতে হয়েছিল রাহুলকে। সে এমন ক্লান্ত ছিল যে রাত আটটায় বাড়ি ফিরে খেয়ে নিয়েই ঘুমিয়ে পড়েছিল আক্ষরিক ভাবে নাক ডাকিয়ে। চানটানও করেনি, বিছানা ডাকছিল তাকে।
সেবন্তীও আর তাকে ডাকে নি। রাহুলের চোখমুখ দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, একটা ঠিকঠাক রেস্ট দরকার তার। কিন্তু সাবানের ফেনায় তার শুধুই মুণ্ডুর ভেসে থাকা নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখতেই সব মাটি। তার চিৎকারের চোটে জেগে গেল বেচারি ক্লান্ত রাহুল।
রাহুল অবশ্য ইয়া লম্বা হাই তুলে বলল, ওঃ, এমন গভীর ঘুমটা হল যে, এক্কেবারে ফ্রেশ লাগছে। ক্লান্তিটান্তি গন।তুলি ওর ঠাম্মার কাছে আছে?
তুলি ওদের মেয়ের নাম। দোতলার দুটো ফ্ল্যাটই রাহুলদের। একটাতে সে থাকে। দরজার উল্টোদিকের ফ্ল্যাটে তার দাদা ও মা। দাদা বিয়ে করেনি। মেয়ে তুলি ঠাম্মার কাছে শুতে যায় প্রায়ই। আজও গেছে।
রাহুল বিছানা থেকে নেমে টয়লেটে গেল।
আর বিছানায় বসে থেকে ঢুলতে ঢুলতে আধ ঘুমে সেবন্তী আবার দেখল সাবানের ফেনার মধ্যে সে। যেন অর্ধেক কাহিনি ইন্টারভ্যালের পর।
ফেনার মধ্যে চমৎকার শুয়ে সে। ফেনার বুদবুদগুলো ফেটে যেতে শুরু করল ফটাফট। আর মাখনের মতো নরম সেবন্তীর নগ্ন শরীর স্পষ্ট হয়ে উঠল দ্রুত। একদম উদোম হয়ে বেশিক্ষণ থাকতে পারে না সে। সেবন্তী বাথটবে উঠে দাঁড়াতে গেল। কিন্তু স্বপ্ন আবার চটকে গেল। চোখ খুলে সেবন্তী দেখল সে বিছানায়। আর তার দুই বুকের উপত্যকায় গরম নিঃশ্বাস রাহুলের।
টয়লেট থেকে ফিরে রাহুল তাকে জরিয়ে ধরে শুয়ে পড়েছে। কাঁধের ওপর থেকে তার নাইটির ফিতে খুলতেই নিমেষে তা কোমরের কাছে। কয়েক সেকেণ্ডের মধ্যে ... যা পছন্দ করে না সেবন্তী, অর্থাৎ কী না এক্কেবারে খোলামেলা।
রাহুল বলল, শরীরে বেশ জোশ পাচ্ছি তো। এক রাউণ্ড হয়ে যাক।
সেবন্তীর চোখ থেকে ঘুম এতক্ষনে সম্পূর্ণ ফেটে গেছে। রাহুলের জোশের চাপ পড়ছে তার বুকে। রাহুল তার ঠোঁটের কাছে মুখটা আনল না অবশ্য। নির্ঘাৎ বাজে গন্ধে তাল কেটে যাবে তাদের। কিন্তু তার দুই হাত দু দিকে ছড়িয়ে দিল। তারপর দুই পা-ও ছড়িয়ে দিল যথেষ্ট। আর তলপেট থেকে আরও নীচে পিছলে নেমে গেল রাহুলের মুখ। আশ্লেষে চোখ বুঁজল সেবন্তী।
একটু পরে আবার সাবানের ফেনা। আবার স্বপ্ন নাকি!!!
সেবন্তীর মুণ্ডু ভাসছে সাবানের ফেনার ওপরে। একেবারে গাল ঘেঁষে রাহুলের হাসি হাসি কোকড়া চুলের মুণ্ডুখানা।
সত্যিই স্বপ্নের মতো। কিন্তু এবার আর স্বপ্ন নয়। একদম সত্যি। রাহুল ও সেবন্তীর দুই মাথা ভাসছে সাবানের ফেনার ওপরে।
বেশ একটা ফাটাফাটি সহবাসের পর সেবন্তী না চাইলেও রাহুল তাকে জন্মদিনের পোশাকেই একেবারে চ্যাংদোলা করে এনে বাথটবে ফেলেছে।
তার আগে অবশ্য তার দুঃস্বপ্নের কথা জানা হয়ে গেছে রাহুলের।
রাত দেড়টা। সন্ধ্যের ডিউ চান উসুল করে রাত দুপুরে এক নাটকীয় স্নান পর্ব মিয়াবিবির।
রাহুল সাবানের সাদা বুদবুদ তুলে সেবন্তীর মাথায় দিতে দিতে বলল, ব্যাটা সাবানের ফেনা, তোর এত সাহস! আমার মোনাটাকে ভয় দেখাস! এখন দ্যাখ, রাত দুপুরে তোকে গায়ে মেখে এখনও কেমন আমরা রোমান্স করতে পারি!!!