বাথরুম সং

(রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘বড় খবর’ নামক গল্পের অনুসরনে। বড় খবরে নৌকার দাঁড় ও পালের ঝগড়া লেগেছিল। এখানে ঝগড়া টুথপেস্ট ও সাবানে)

সেদিন জয়দীপ সেনের বাথরুমে জোর ঝগড়া লেগেছে সাবান ও টুথপেস্টে।
ব্যাপারটা খুবই সামান্য। জয়দীপের বিদেশ থেকে আসা খুড়তুতো বোন বাথরুম দেখে বলেছিল, বাঃ।’
তারপর সাবান কেস থেকে সাবানটা নিয়ে বলেছিল, সবকিছুতে তোরা পিছিয়ে থাকলেও সাবান শিল্পে দেখছি খুব উন্নতি করেছিস।
এতদূর হলেও কোনও কথা ছিল না। এরপর ওই খুড়তুতো বোন মিন্ট দিয়ে কুলকুচো করে ফেলেছিল বেসিনে। পেস্টের দিকে ফিরেও তাকায় নি। তাকানোর কথাও ছিল না অবিশ্যি। বাথরুমের দরজা বন্ধ করে সে আসলে নাইতে এসেছিল।
বাথরুম ফাঁকা হয়ে যাবার পর, তখনও সাবানের গা থেকে জল শুকোয়নি, বাথরুম ভুর ভুর করছে সুগন্ধে, টিপন্নি কাটল সাবান – টুথপেস্ট ভাইরে, তুই কোথায় আর আমি কোথায়, অ্যাঁ?!!!!
টুথপেস্ট সাবানের গায়ে পড়ে ঝগড়াটা আঁচ করতে পারেনি প্রথমে। সরল মনে বলেছিল, কোথায় আবার, যেখানে থাকার সেখাবেই।
-    কচুর মাতা। কিছুই বুঝিস না রে ছাগল। আমি এতক্ষণ কোথায় সাঁতার কাটছিলাম জানিস?
-    সাঁতার কোথায়, মেয়েটা কী বাথটবে বসেছিল নাকি? ওতো শাওয়ারে চান করলো দেখলাম।
-    - হ্যাঁ-আঃ। তুই ওই দূর থেকেই দ্যাখ। আর আমি ওই গোলাপী শরীরের তলপেটে—আরও নীচে – আরও নীচে – হি হি হি --- আরও বলবো? হুঁ হুঁ বাওয়া, আমাকে শরীরের উত্তর দক্ষিণ পূর্ব পশ্চিম, শক্ত নরম ঠান্ডা গরম, সব জায়গায় চড়ে বেড়াতে হয় বুঝলি?
-    - তো? ওটা তোর ডিউটি।
-    - আমার ডিউটির গুরুত্ব বুঝিস রে ক্যাবলা? বড় লোকের বড় ডিউটি। তোদের মতো ছোট ডিউটি, আই মিন, ছোট লোক নই।
-    এইবার রেগে গেল টুথপেস্ট। বলল, কী বললি? আমি ছোট লোক? ছোট ডিউটি করি?
-    - করিস তো।
-    - তাই? তুই একবার আমার মতো ওদের মুখের ভিতরে আয় না। থু থু করে ফেলে দেবে। শালা তেতো, খচ্চর।
গালি শুনে হাসি মিলিয়ে যায় সাবানের। রেগে গিয়ে বলে, আমাকে থু থু করে ফেলে দেবে? অত সস্তা? আমি ওদের শরীরের সবচেয়ে গোপন জায়গায় ঘষাঘষি করতে পারি জানিস?
-    শালা পারভাটেড। ঘষেই আনন্দ।
-    - পারভাটেড তুই। তুই হিংসুটে। ওই বিদেশে থাকা মেয়েটার শরীর নিয়ে আমি কী না করলাম। আদর করে করে বুঝলি, জোরাজুরির কেস নেই। তোর তো খালি মিনিট দু চার ঘষ ঘষ – তারপর তোর সব ফেনা ওয়াক থুঃ – ‘আর আমি ফেনা হয়ে ওর শরীর ঢেকে দিলাম!
জয়দীপের ছোট ছেলেটা প্রথম গোলযোগটা শুনতে পায়। বাড়ির বাথরুম থেকে জোর ঝগড়াঝাঁটির কলরব! সে আবার সকলের ভাষা বোঝে, বলতেও পারে।
তাকেই আলাদা আলাদা করে প্রথমে টুথপেস্ট ও পরে সাবানের সঙ্গে মিটিং-এ বসতে হলো।
টুথপেস্ট বেশ ঝাঁঝিয়ে বলল, না ভাই। আমরা স্ট্রাইক করবো ঠিক করেছি। আমরা ছোটলোক? তোমরা ওয়াক থুঃ করে আমাদের ফেলে দাও? --- এর বিচার চাই।
জয়দীপের ছোট ছেলে বলল, ওর কথা কানে তুলছ কেন ভাই? আজই তো গলে আদ্দেক হয়ে গেছে। বেশি বকে ওটা। তোমরা না থাকলে মুখের দুর্গন্ধে কারুর সামনে যেতে পারবো আমরা? রেগে যেও না টুথপেস্ট ভাই।
তারপর সাবানের সঙ্গে আলাদা করে মিটিং-এ বলল, তোমার কেসই আলাদা গুরু। তোমার কাছে আমাদের লজ্জা শরম রাখলেও তো চলে না। কার শরীরে কোথায় কটা তিল, সেটাও তো জানো।
সাবান বিদেশের মেয়ের স্পর্শে তখনও বিভোর। আনমনা হয়ে বলল, গুনে নিয়েছি। এমন এমন জায়গায় ওর তিল আছে না – যেটা জানবে ওর বর আর জেনেছে এই অধম।
জয়দীপের ছেলে নিশ্চিন্ত হয়ে বলল, সবার সব কথায় গেরাহ্যি করো না বস।
সাবান এবার বেশ উন্নাসিক হয়েই বলল, আরে ওরা সংখ্যায় বেশি। টুথ ব্রাস, জিভছোলা আর ও। তাতে কী? ওরা দাঁত ফাত বুঝুক গে। আমি দখল নিয়েছি গোটা শরীরের।

সব শান্তি হতে জয়দীপের ছেলে বেরিয়ে গেল বাথরুম ছেড়ে। তারপর একটু পরে বাথরুম থেকে একটা গুন গুন আওয়াজ শুনতে পেল সে। সাবান গান গাইছে। তার মন খুশ। তার ধারণা, জয় তারই হয়েছে।
খুক খুক করে হাসতে থাকলো পেস্ট, ব্রাশ আর জিভ ছোলা। তারাও ভাবল, জিতেছি আসলে আমরাই।
আর জয়দীপের ছেলে বাঁচল হাঁফ ছেড়ে।
যাক বাবা, সভ্যতার সংকট কাটানো গেছে। দাঁত ব্রাশ না করলে চলে? সাবান না মেখে থাকা যায়?